পিএসজি: মেসি-নেইমার ছাড়াও আরো যারা আছেন বিশ্বের সবচেয়ে তারকাবহুল ক্লাবটিতে

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ - ইউরোপিয়ান ফুটবলে এর আগেও এমন দলবদল চমক দিয়েছে এই ক্লাবটিই। সেবারও বার্সেলোনা থেকেই গন্তব্য প্যারিসে। সেবার নেইমার প্যারিসে এসেছিলেন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড লেগেছিল নেইমারকে স্পেন থেকে ফ্রান্স নিয়ে আসতে।

অবশ্য লিওনেল মেসিকে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ পেয়েছে বিনামূল্যে। অবশ্যই বেতন দিতে হবে, কিন্তু মেসির বার্সেলোনার সাথে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় আর বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হয়নি নাসের আল খেলাইফির, যিনি পিএসজি'র প্রেসিডেন্ট।

এর আগে সাড়া ফেলেছেন সাবেক রেয়াল মাদ্রিদ তারকা সার্জিও রামোসও।

তিনিও এসেছেন কোন ট্রান্সফার ফি ছাড়া।

এছাড়া মরোক্কোর রাইট ব্যাক আচরাফ হাকিমি এবং ইউরো ২০২০ এর সেরা গোলকিপার ইতালির ডোনারামা এসেছেন কোন ট্রান্সফার ফি ছাড়া।

সব পজিশনে এমন ভালো ভালো ফুটবলার কোন বিনিময় মূল্য ছাড়া দলে নিয়ে আসা অনেক ফুটবল ক্লাবের জন্য স্বপ্নের মতো।

ফরাসী ক্লাবটির একাদশ কেমন হতে পারে

গোলকিপার

যদিও এখনো গোলকিপার হিসেবে ১ নম্বর জার্সি কেইলর নাভাসের কাছে তবে এই মৌসুমেই বিনামূল্যে এসেছেন জিয়ানলুইজি ডোনারামা।

অর্থাৎ এই দুজন ভাগাভাগি করে গোলবার সামাল দেবেন।

নাভাস রেয়াল মাদ্রিদের টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের নায়ক।

ডোনারামা ইতালির ইউরো জয়ের নায়ক, একই সাথে তিনি ভবিষ্যৎও বটে, মাত্র ২২ বছর বয়স তার।

রক্ষণভাগ

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁয়ের রক্ষণভাগেও এখন তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেল, আচরাফ হাকিমি এসেছেন ২২ বছর বয়সে ইতোমধ্যে ডর্টমুন্ড ও ইন্টার মিলানে দুটি সফল মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি।

তার সাথে যোগ দিয়েছেন সার্জিও রামোস, ইউরো, বিশ্বকাপ, লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী স্প্যানিশ তারকা ডিফেন্ডার।

আগে থেকেই ছিলেন ব্রাজিলের মারকুইনোস এবং ফ্রান্সের কিমবেপে।

মধ্যমাঠ

তবে পিএসজি'র মধ্যমাঠ ঠিক ততটা দামি নয় যতটা তাদের অন্য জায়গাগুলো।

আনহেল দি মারিয়ার সাথে আছেন আর্জেন্টাইন সতীর্থ লেয়ান্দ্রো পারেদেস। মার্কো ভেরাটি, ব্রাজিলের রাফিনিয়া আছেন এখানে।

দলবদলে নাটকীয়তা করে প্যারিসে এসেছেন ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিও উইনালডাম।

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা অ্যান্ডার এরেরা আছেন।

এছাড়া আছেন স্প্যানিশ পাবলো সারাবিয়া ও জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার।

ফরোয়ার্ড

মেসি-নেইমার-এমবাপে- এই ত্রয়ী নামই যথেষ্ট পিএসজির নতুন ফরোয়ার্ড লাইনআপের বর্ণনায়।

কিলিয়ান এমবাপে ২০১৮ সাল থেকেই সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়েও তার বড় ভূমিকা ছিল, এছাড়া গত মৌসুমেই বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে গিয়ে ধরাশায়ী করে হ্যাটট্রিক করেছেন কিলিয়ান এমবাপে।

লিওনেল মেসির জাতীয় দল আর্জেন্টিনাকেও বিশ্বকাপে গতির ঝলক দেখিয়েছেন এমবাপে।

আছেন নেইমার, তিনি অবশ্য প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার তুলনায় ব্রাজিল বা ক্লাব ফুটবলে অবদান রাখতে পারেননি।

যুগের সেরাদের তালিকায় নেইমারের নাম আসে, বর্তমান ব্রাজিল ফুটবল দলেরও পোস্টার বয় তিনিই, ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলবেন তিনি।

আর লিওনেল মেসি এই লাইন আপের রোশনাই বহুগুণে বাড়িয়েছেন, ছয়টি ব্যালন ডি অর জেতা এই ফুটবলারের জন্য এটা একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা।

দেখা যাক এবারে নতুন মৌসুমে পরিকল্পনা কীভাবে সাজান দলটির আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

আরো পড়তে পারেন: