রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: লিসিচানস্ক দখলে, এবং পুরো লুহানস্ক এখন 'মুক্ত' - রাশিয়ার ঘোষণা

রুশ সৈন্যরা গত কয়েকদিন ধরে লিসিচানস্ক শহরের ওপর প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রুশ সৈন্যরা গত কয়েকদিন ধরে লিসিচানস্ক শহরের ওপর প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছে

গত কয়েকদিন ধরে ইউক্রেনের পূর্ব দিকের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর লিসিচানস্কের ওপর তুমুল হামলার পর, সোমবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে শহরটি এখন পুরোপুরি তাদের সৈন্যদের দখলে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানিয়েছেন পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এখন "মুক্ত।"

এর আগে, রোববার রাশিয়া জানিয়েছিল পুরো শহরটি চারদিক থেকে রুশ সৈন্যরা ঘিরে ফেলেছে এবং শহরের কেন্দ্রে এখন ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সাথে লড়াই চলছে।

লিসিচিানস্ক শহরের পতনের এই দাবী সম্পর্কে ইউক্রেনের সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কিছু শোনা যায়নি। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ইউরিভ সাক বিবিসিকে বলেন লিসিচিানস্ক এখনও তাদের হাতছাড়া হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা সেখানে প্রচণ্ড হামলার মুখে পড়েছে।

বিবিসির পক্ষেও এখনো নিরপক্ষে সূত্রে লিসিচিানস্ক পতনের রাশিয়ার দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের লুহানস্ক এবং দোনেৎস্ক থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের হঠানোই এখন এই যুদ্ধে রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য। পুরো লুহানস্ক নিয়ন্ত্রণের পর এখন রুশ সৈন্যদের দোনেৎস্কের দিকে নজর দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ইউরিভ সাক বলেছেন রাশিয়া লুহানস্ক নিতে পারলেও ডনবাসের "যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।"

তিনি বলেন, দনেৎস্ক অঞ্চলের "অনেক বড় শহর" এখনও ইউক্রেনীয় সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, "এই সব শহরে গত দু-তিনদিন ধরে প্রচণ্ড রকম ক্ষেপনাস্ত্র এবং রকেট হামলা হচ্ছে, কিন্তু "ডনবাসের যুদ্ধ এখনও বাকি।"

ঐ কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন "যথেষ্ট পরিমাণে" ভারী কামান এবং অন্যান্য অস্ত্র পেতে চলেছে এবং তখন হারানো এসব অঞ্চল তারা মুক্ত করতে সমর্থ হবেন।

রাশিয়ার বেলগোরোদ শহরে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার বেলগোরোদ শহরে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক

রাশিয়া ভেতরেক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে রাশিয়ার বেলগোরোদ শহরে রোববার রাতে বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং বেশ কতগুলো অ্যাপার্টমেন্ট বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে বেলগোরোদের দূরত্ব ৪০ কিমি (২৫ মাইল)।

রাশিয়া বলছে ইউক্রেন বেলেগোরোদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা তিনটি ইউক্রেনীয় টোচকা-ইউ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত করে দেয় যেগুলোর মাথায় ক্লাস্টার বোমা ছিল। সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের ওপর পড়লে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে রুশরা বলছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেন, "ইচ্ছাকৃত-ভাবে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।"

তিনি বলেন, রাশিয়ার কুর্সক শহর লক্ষ্য করে পাঠানো দুটি ইউক্রেনীয় সামরিক ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে।

তবে ইউক্রেন বলছে, উসকানি দেয়ার উদ্দেশ্যে রুশরা নিজেরাই এসব হামলার ঘটনা সাজায়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউরিভ সাক বিবিসিকে বলেন, "বিভিন্ন সময়ে রুশ সেনা কর্মকর্তাদের ফোন কলে আড়ি পেতে আমরা প্রমাণ পেয়েছি অধিকাংশ সময় উসকানি দিতে রুশরা নিজেরাই এসব ঘটনা সাজায়।"

আরেক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা, সেরহি ব্রাডচুক, বলেন, বেলগোরোদে বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রকেটের যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে সেগুলো রুশ পান্টসির বিমান বিধ্বংসী কামান থেকে ছোঁড়া।

এর আগে, এপ্রিলের প্রথম দিকে, রাশিয়া দাবি করেছিল দুটি ইউক্রেনীয় সাঁজোয়া হেলিকপ্টার বেলগারোদের শহরতলির একটি বেসামরিক তেলের ডিপোয় আক্রমণ চালায়। তবে তখনও ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী তেমন হামলার কথা অস্বীকার করেছিল।