নূপুর শর্মা: নবীকে নিয়ে তার মন্তব্যে 'দেশে আগুন জ্বলছে', বলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বরখাস্ত হওয়া মুখপাত্র নুপূর শর্মাকে ইসলামের নবীকে নিয়ে তার করা মন্তব্যের জেরে কড়া ভর্ৎসনা করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে মিজ শর্মার ওই একটা মন্তব্যের জেরে গোটা দেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাকে টেলিভিশনের পর্দায় এসে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চাইতে বলেছে আদালত।

আদালত নূপুর শর্মার উদ্দেশ্যে বলেছে ''তার লাগামছাড়া কথাবার্তার কারণে গোটা দেশে আগুন জ্বলছে"।

যেভাবে সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার নুপূর শর্মাকে ভর্ৎসনা করেছে, তা সাম্প্রতিক কালে বোধহয় কোনও মামলাতেই করেনি ভারতের আদালতগুলো।

বিচারপতি সুরিয়া কান্ত ও বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালার বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে যে কী কারণে তিনি ওই কথাগুলো বলতে গেলেন একটা জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে বসে? এটাও বলা হয়েছে তার একটা মন্তব্যের জেরে সারা দেশে মানুষের ভাবাবেগ আহত হয়েছে।

ভারতে এখন যা ঘটছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী এই ভদ্রমহিলা - এরকম মন্তব্যও করেছে আদালত।

রাজস্থানের উদয়পুরে যে হিন্দু দর্জিকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও টেনে এনেছে আদালত। বিচারকরা বলেছেন যে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কী ফল হতে পারে সেটা ভাবেনইনি মিজ শর্মা।

কোন মামলার শুনানিতে আদালতের এই বক্তব্য?

ইসলামের নবীকে নিয়ে তার মন্তব্যের জেরে নুপূর শর্মার বিরুদ্ধে সারা দেশের অনেক জায়গাতে এফআইআর দায়ের হয়েছে। কলকাতাতেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে।

নুপূর শর্মা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানাতে গিয়েছিলেন যে সবকটি মামলাকে একসঙ্গে করে সর্বোচ্চ আদালতেই শুনানি হোক। সেই আবেদনেরই শুনানি ছিল আজ শুক্রবার।

এই মামলা নিয়েও নুপূর শর্মার আইনজীবীকে কড়া কথা শুনতে হয়েছে আদালতে। বিচারপতিরা বলেছেন: "এই মামলা করা থেকেই বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা অহঙ্কারী - কেন দেশের অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটরা তার বিচার করার যোগ্য নয় বলে মনে করছেন মিজ শর্মা?"

আদালত বলেছে, তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও তিনি যে এখনও গ্রেপ্তার হন নি, তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে তার হাত কতটা শক্ত!

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

'স্পষ্ট এজেন্ডা'

বিচারপতিরা যখন কড়া মন্তব্য করছিলেন সেই সময়ে নুপূর শর্মার আইনজীবী মনিন্দর সিং বলার চেষ্টা করেন যে ওই মন্তব্যের জন্য ইতোমধ্যেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন মিজ শর্মা।

এটা শুনে বিচারপতিরা আবারও বলেন যে তিনি শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন - 'যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত লেগে থাকে বলে' -- সেটাও তিনি বলেছেন সারা দেশে একটা অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পরে।

বিচারপতিরা বলেছেন তার উচিত টেলিভিশন চ্যানেলে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।

ওই সময়ে যে টিভি চ্যানেলে বিতর্কটা হচ্ছিল, তাদের উদ্দেশ্যেও বিচারপতিরা বলেন যে বিষয়টা সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন, তা নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান করা মানেই একটা 'স্পষ্ট এজেন্ডা' ছিল তার পিছনে।

আদালত আবেদন খারিজ করে দিয়ে নুপূর শর্মার আইনজীবীকে হাইকোর্টে যেতে বলেছে।

আইনজীবী মি. সিং আবেদনটাই তুলে নিয়েছেন শেষমেশ।