মাংকিপক্স: এই ভাইরাসটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার

পৃথিবীতে বেশ কয়েক রকম পক্স রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পৃথিবীতে বেশ কয়েক রকম পক্স রয়েছে।
    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে মাংকিপক্সের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং স্ক্রিনিং জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশে মাংকিপক্স শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার এই সতর্কতা জারি করেছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংকিপক্সের জন্য এখনই কোন ভ্যাকসিনের প্রয়োজন নেই। তবে তারা বলছেন, ভাইরাসটি প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশে একসময় গুটিবসন্ত দূরীকরণের জন্য টিকা দেয়া হতো।

আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলছেন গুটিবসন্তের টিকা নিলে তা মাংকিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিয়ে থাকে - কারণ এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে।

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. বে-নজীর আহমেদ বলেন এখনই টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া যাবে না। বরং এটা প্রতিরোধ করতে কিছু কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী দেহে গুটি দেখা দেয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী দেহে গুটি দেখা দেয়।

তিনি বলেন, "এখনই আমরা কাউকে ভ্যাকসিন নিতে এডভাইস করবো না। কারণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এটার কোন প্রয়োজন নেই। এটা বললে মানুষ অহেতুক চেষ্টা করবে ভ্যাকসিন নেয়ার। বরং কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।"

"মাংকিপক্স সম্পর্কে একটা গাইডলাইন তৈরি করা, বিমানবন্দরে কেস ডিটেকশন, ট্রেনিং দেয়া, ল্যাবরেটরি ডায়াগনোসিস, যদি কোন রোগী আসে তার চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা। এগুলো করতে পারলে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ছড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম," বলেন তিনি।

মাংকিপক্স সম্পর্কে গবেষকরা বলছেন এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, এবং সাধারণত এটি মৃদু অসুস্থতা সৃষ্টি করে। মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বাইরে এ রোগ খুবই বিরল।

এই ভাইরাসটি গুটি বসন্ত রোগের ভাইরাসের মত একই গোত্রের - কিন্তু অনেক কম মারাত্মক, এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এতে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনাও কম।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং রেইনফরেস্টে পাওয়া যায় মাংকিপক্স ভাইরাস।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং রেইনফরেস্টে পাওয়া যায় মাংকিপক্স ভাইরাস।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে যাদের ফুসকুড়ি দেখা যায় এবং যিনি সম্প্রতি মাংকিপক্সের নিশ্চিত কেস আছে এমন দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন, অথবা এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যিনি নিশ্চিত অথবা সন্দেহজনক মাংকিপক্স রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, এমন রোগীদের সন্দেহজনক রোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সন্দেহজনক ও লক্ষণযুক্ত রোগীকে কাছের হাসপাতালে বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে মাংকিপক্সের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

মাংকিপক্স নতুন কোনো রোগ নয়। আগে এই রোগটিকে পশ্চিম আফ্রিকা বা মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোয় এন্ডেমিক হিসেবে ধরা হতো।

সম্প্রতি এসব দেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই, তারপরেও ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী- এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মাংকিপক্স শনাক্ত হয়েছে।

অধিদপ্তর বলছে এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা আইইডিসিআরকে তথ্য জানাতে হবে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা করা হলে সুস্থ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, "এটার লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব। যেমন র‍্যাশ হলে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুসকুড়িটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেখান থেকে সংক্রমণ টা ছড়ায়। সেগুলোর ম্যানেজমেন্ট ভালো হলে সেরে যায়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনিতেই সেরে উঠে। দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগে এটা ভালো হতে।"

আইইডিসিআর বলছে মাংকিপক্সের জন্য একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু এই রোগের সংক্রমণের হার এতই কম যে সেটা উৎপাদন করে বাজারজাত করার এখনই সময় আসেনি।

এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর ১৪টি দেশে ৮০ জনেরও বেশি দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১১টি ইউরোপিয়ান দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: