দুই বছর পরে হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, খরচ বাড়ছে লাখের ওপর

চলতি বছর ১০ লাখ হজ যাত্রীকে হজ করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, চলতি বছর ১০ লাখ হজ যাত্রীকে হজ করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

দুই বছর পর আবার হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বুধবার বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজে যাওয়ার জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নয়ই জুলাই ঈদুল আযহা হওয়ার কথা রয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর সৌদি আরবের নাগরিক ছাড়া বিদেশিদের হজে অংশ নিতে দেয়নি সৌদি আরব। এবার তারা সেই সিদ্ধান্ত বদল করেছে।

চলতি বছর ১০ লাখ হজ যাত্রীকে হজ করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মানুষ হজে অংশ নিয়ে থাকেন। তবে এবার বাংলাদেশ থেকে হজে অংশ নিতে পারবেন ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন।

বুধবার সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারিভাবে হজে যেতে দুটি প্যাকেজ দেয়া হচ্ছে। একটিকে খরচ হবে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। অন্য প্যাকেজে খরচ হবে ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা।

২০২০ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ খরচ ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এর বাইরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য জনপ্রতি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকা খরচ হবে বলে তিনি জানান।

তবে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি শাহাদাত হোসেন তসলিম সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি এজেন্সিগুলো হজের জন্য আলাদা প্যাকেজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে। তবে এখনো সৌদি আরবে এজেন্সিগুলোয় কত খরচ হবে, সেই পূর্ণাঙ্গ হিসাব তারা পাননি। সেটা পাওয়ার পর খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।

ভিডিওর ক্যাপশান, হজ: যুগে যুগে কখন ও কেন বন্ধ ছিল মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত?

সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ওই বছরের জন্য হজের প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশের সরকার। কিন্তু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেই বছর বা পরের বছর কেউ হজ করতে সৌদি আরবে যেতে পারেননি।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এর আগে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগে যারা হজের জন্য টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন, এই বছর তারা হজের তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। সেজন্য হজ প্যাকেজ ঘোষণার তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে প্যাকেজে স্থানান্তর করবেন। ২০২০ সালে পরিশোধিত প্যাকেজের মূল্য সমন্বয় করে বাড়তি অর্থ সোনালী ব্যাংকে জমা করতে হবে।

সেই সময় যারা নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের বয়স ৬৫ ঊর্ধ্ব হলেও হজে যেতে পারবেন। তাদের কেউ মারা গিয়ে থাকলে তাদের পরিবারের কোন সদস্য হজে যেতে আগ্রহী হলে তিনি ওই শূন্য কোটায় অগ্রাধিকার পাবেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা ২০২০ সালে নিবন্ধন করেছিলেন, তারাও নিজ নিজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০২২ সালের হজ প্যাকেজের বাড়তি অর্থ পরিশোধ করে হজে যাওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী, হজযাত্রীদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে হতে হবে এবং করোনাভাইরাসের পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়া থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সৌদি আরবে রওনা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: