ঘূণিঝড় 'আসানি' হয়ে ওঠার আশঙ্কা বঙ্গোপসাগরের একটি লঘুচাপের

ছবির উৎস, Getty Images
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি আস্তে আস্তে আরও শক্তি সঞ্চার করছে। সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
ঝড়টি আরও শক্তিশালী হলে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। এরপর সেই সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা, তা এখনি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যেভাবে লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে উঠছে, সেক্ষেত্রে এটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে।
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবহাওয়াবিদ সানাউল হক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''আজ সকালে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি নিম্নচাপে রূপান্তরিত হবে বলে আমরা ধারণা করছি। কিন্তু কখন তা হবে, তা এখনি বলা সম্ভব নয়।''
''আজ সন্ধ্যায় বা সন্ধ্যার পরে এটি নিম্নচাপে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,'' তিনি বলছেন।
নিম্নচাপে রূপান্তরিত হলে সেটির গতি, কোন দিকে যাবে বা আঘাত করতে পারে, সেসব বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হলে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি ঝড় হবে কিনা, তারাও এরকম ঘোষণা দেয়নি। শুধুমাত্র সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
সমুদ্রের কোন স্থানে সাগরে বাতাসের চাপ কমে গেলে লঘুচাপের তৈরি হয়। এই প্রবণতা আরও বেড়ে গেলে একসময় ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়।

ছবির উৎস, Bangladesh Meteorological Department
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যেহেতু এই লঘুচাপটি সাগরের মধ্যে রয়েছে, সেক্ষেত্রে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর সেটি আরও শক্তি সঞ্চার করতে শুরু করলে এক সময় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কিনা, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন।
ঘূর্ণিঝড় হলে এই ঝড়ের নাম হবে 'আসানি'। শ্রীলঙ্কার দেয়া এই নামের অর্থ 'ক্ষুব্ধ'।
বর্তমানে লঘুচাপটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এখনো বাংলাদেশের সমুদ্র বা নদী বন্দরগুলোতে কোন সতর্ক সংকেত দেয়া হয়নি। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর কী নির্দেশনা জারি করে, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা এখন না থাকলেও কালবৈশাখীর প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ আর সিলেট বিভাগের দুই একটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুর রহমান ঘূর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতি বিষয়ক একটি সভা শেষে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় হলে তা মোকাবেলার সব প্রস্তুতি তাদের আছে।
ঝড় প্রবণ মে মাস
মে মাসে অনেকগুলো বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।
দুই হাজার নয় সালের পাঁচই মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত করেছিল।
দুই হাজার কুড়ি সালের ২০শে মে মাসে আঘাত করেছিল আইলা।
পরের বছর ২৬শে মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।








