ঈদ: এবার কোন ধরনের পোশাক ক্রেতাদের মন কাড়ছে ?

- Author, মুন্নী আক্তার
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
রাজধানী ঢাকাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। আমদানি করা নানা নামের পোশাকের জনপ্রিয়তা যেমন আছে, তেমনি দেশীয় হাতে বোনা সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাকের চাহিদাও এবার চোখে পড়ার মতো।
জমকালো নয় বরং হালকা রঙের পোশাক প্রাধান্য পাচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। দেশীয় বুটিকগুলোতেও তাই আয়োজন এমন সব পোশাকেরই।
শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকার রাস্তা তুলনামূলক কিছুটা ফাঁকা থাকলেও মার্কেট রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে যানজটের কোন কমতি ছিল না। কারণ আর কিছুই নয়, ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটগুলোতে ভিড় করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অবশ্য করবেন নাইবা কেন? ঈদের বাকি আর কদিন?
'নানা নামের পোশাক'
রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত আর জনপ্রিয় শপিং সেন্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। ভেতরে ঢুকতেই যেন পা রাখার জায়গা পাওয়া কঠিন, ক্রেতাদের এতো ভিড়।
এই শপিং সেন্টারের তৃতীয় তলায় বিদেশি নানা তৈরি পোশাকের সারি সারি দোকান। এসব দোকানে নানা নামের পোশাক কিনতে পরিবারের সাথে এসেছেন অনেকেই। যাদের বেশিরভাগই এখনো কৈশোর পার করেননি। এমনই একজন আনিশা। মা আর ছোটবোনের সাথে পছন্দের পোশাক কিনতে এসেছেন।
আনিশা বলেন, কী পোশাক কিনবেন সেটি এখনো ঠিক হয়নি। তবে তার ইচ্ছা আছে শারারা কেনার।
তিনি বলেন, "কারণ এটা এখন অনেক চলছে আর দেখতেও সুন্দর লাগে।"
নিজের দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন মুন্নী রহমান। তিনি বলেন, "বড় মেয়ের জন্য থ্রি পিস আর ছোট মেয়ের জন্য গাউন কিনবো।"
বিভিন্ন রকমের বিদেশি পোশাক ঝোলানো রয়েছে এমন একটি দোকানের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, লম্বা আর বেশ ঘের রয়েছে এমন পোশাকের প্রতি আগ্রহ ক্রেতাদের।

ম্যানেজার মোঃ: জসিম খান বলেন, "শারারা, গারারা, গাউন, ফ্রক, পেপলাম-এগুলো চলছে এবার। শারারা হচ্ছে আপনার স্কার্ট থাকে নিচে, উপরে কামিজ থাকে।"
আরেক দোকানি আইরিন পারভীন। তিনি বলেন, "কোটি সিস্টেমগুলারই এবার বেশি হচ্ছে চাহিদা, কোটি নতুন টাইপের চাচ্ছে সবাই। ব্লাউজ থাকবে আর নিচে প্লাজো বা স্কার্ট থাকবে-এই টাইপেরগুলোই এবার বেশি চাচ্ছে আরকি।"
'আরামের প্রাধান্য'
বিদেশি কাপড়ের দোকানগুলো পেরিয়ে আটতলায় দেশি পণ্যের দোকানেও ছিল বেশ ভিড়। তবে এখানে ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদে আরামদায়ক সুতি কাপড় কিনতেই আগ্রহী তারা।
তানজিনা নামে এক ক্রেতা বলেন, "কেনাকাটা প্রায় হয়ে গেছে। আর সুতিটাই প্রেফার করি। গরম যা পড়ছে এখন, সুতিটাই বেস্ট।"
আরেক ক্রেতা ওয়ারা মাহিনুর সপ্তর্ষি বলেন, "আমি একটু সিম্পলের মধ্যে, গরমের মধ্যে পরা যাবে এমন কিছু খুঁজছি। এখন গরম ওয়েদারের মধ্যে কটন-টাইতো আমি প্রেফার করি। কারণ বাকি সব কিছু গরম লাগবে। ওয়েদারটা তো অনেক খারাপ।"

ক্রেতাদের মতো একই কথা জানিয়েছেন দেশি একটি নামকরা তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড অঞ্জনসের বসুন্ধরা ব্রাঞ্চের ইনচার্জ কাওসার আহমেদও।
তিনি বলেন, এবার কটন ফেব্রিক্সের পোশাকগুলোই বেশি যাচ্ছে। কটনের উপর মানুষের ঝোঁকটা বেশি। এছাড়া অন্যান্য সব প্রোডাক্টই যাচ্ছে ভাল।
তার মতে এবার জমকালো কোনো রঙের তুলনায় কিছুটা হালকা রঙের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। আর সেটিও চাচ্ছেন সুতির মধ্যেই।
মি. আহমেদ বলেন, "যেহেতু সামারের মধ্যে ঈদটা পড়ছে, তাই কটনটাই মানুষ চাচ্ছে।"
বেশ কিছু দোকান ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের পছন্দটাকে প্রাধান্য দিয়েই যেন তৈরি করা হয়েছে পোশাকগুলো। কারণ এখানে বেশিরভাগ পোশাকই সুতির কাপড়ের তৈরি।
ডিজাইনাররা বলছেন, জামদানি, মসলিনের মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক থাকলেও ঈদকে ঘিরে সুতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তারাও।

জনপ্রিয় একটি পোশাক ব্র্যান্ড দেশালের হেড অব প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট তানজিনা ফারহানা খান মুনিয়া বলেন, দাম এবং আরাম-এই দুটি বিষয়কে মাথায় রেখেই ঈদকে সামনে রেখে পোশাক ডিজাইন করেছেন তারা।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে সাশ্রয়ী দামে আরামদায়ক পোশাক কিনতে পারে-সেটির প্রতি নজর দেয়া হয়েছে।
তবে এবার কাপড়ের সুতায় বৈচিত্র্য এনেছেন তারা।
মিজ খান বলেন, "ফেব্রিকে অনেক ভেরিয়েশন (বৈচিত্র্য) এনেছি। হ্যান্ডলুম (হাতে বোনা) তো আছেই, সাথে পাওয়ারলুমের (মেশিনে বোনা) কিছু কটন, হান্ড্রেড পারসেন্ট কটন (শতভাগ সুতি) ফেব্রিক আমরা ইন্ট্রডিউজ করেছি।"
"আমরা কালারটাকেও প্রাধান্য দিয়েছি। ভাইব্রেন্ট কালারের (উজ্জ্বল রঙের) পাশাপাশি প্যাস্টেল কালারগুলো ইন্ট্রডিউজ(প্রথমবার) করেছি। কিছু সফট লাইট কালার আনার চেষ্টা করেছি," বলেন তিনি।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি, নানা ধরনের শাড়িও বিক্রি হচ্ছে। তবে সেখানে বিদেশি শাড়ির প্রাধান্যই বেশি।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post








