এডিটারস মেইলবক্স: নিউমার্কেটে পুলিশের ভূমিকা, সুইডেনে কোরআন পোড়ানো নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, SOPA Images/Getty Images
- Author, মানসী বড়ুয়া
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
ঢাকায় কেনাকাটার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নিউমার্কেটের সামনের সড়কে ১৮ ও ১৯শে এপ্রিল দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের দুদিন ধরে চলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ, এলাকা সংলগ্ন সড়ককে রণক্ষেত্র করে তুলেছিল। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনা শ্রোতা পাঠকের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং এ সপ্তাহে বেশিরভাগ চিঠিই এসেছে এ বিষয়টি নিয়ে।
এই সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থেকে মোঃ ফরিদুল হক:
''নিউমার্কেট এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষটা সামাজিক সোশাল মিডিয়ার বদৌলতে দেখতে পেলাম, তারপর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে গেলাম বিস্তারিত খবরের জন্য। কিন্তু পরিপূর্ণ কোনো খবর না পেয়ে আমাকে হতাশ হয়ে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে আসতে হলো এবং পরবর্তীতে আপনাদের ফেইসবুক পেইজে গিয়ে নিউমার্কেটে আজ যা-যা ঘটলো শিরোনামে একটি নিউজ চোখে পড়ল এবং তা থেকে জানলাম তখন পর্যন্ত সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ চললেও প্রথমে অন্তত ঘণ্টাদুয়েক পুলিশকে সেখানে আসতে দেখা যায়নি।
''অথচ সংঘর্ষ যেখানে চলছিল তার একপ্রান্তে রয়েছে নিউমার্কেট থানা এবং অপরপ্রান্তে রয়েছে ধানমণ্ডি থানা। এছাড়া ওই এলাকার মধ্যে একাধিক পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে। যেখানে, নববর্ষের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা সেমিনারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি সেখানে কি না এতো বড় একটা সংঘর্ষে তাদের ভূমিকা নীরব ! তাহলে কি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শৃঙ্খলা রক্ষায় আদৌও নিয়োজিত আছে? না কি নেই?''
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ এতদূর কেন গড়াল এ প্রশ্ন অনেকেই তুলছেন। সোমবার ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় এক বচসার জেরে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলছিল অনেক রাত অবধি। রাতে চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চললে এক পর্যায়ে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণেও আনে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে আবার দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও পুলিশকে সেখানে এসে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে বেলা বারোটারও পর।
সোমবার রাতে চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলার পর পরদিন তা আবার শুরু হওয়ার আশংকা কতটা ছিল এবং সে আশংকা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষ দ্বিতীয় দিনে গড়ানো ঠেকানো যেত কিনা সে প্রশ্নও অনেকে তুলছেন।

ছবির উৎস, NurPhoto/Getty Images
তবে বিবিসি বাংলায় এই ঘটনার কভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''ঈদের আগে ভরা মৌসুমে ব্যবসায়ী ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের জন্য এটা ছিল চরম বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যেই উদ্বেগ উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের সবগুলো গণমাধ্যমে এ সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে সরেজমিন প্রতিবেদন করলেও ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল সেটা উল্লেখ করেনি। আশা করেছিলাম বিবিসি বাংলার প্রবাহ ও পরিক্রমা অনুষ্ঠান থেকে ঘটনার কারণসহ সর্বশেষ আপডেট খবর জানতে পারবো কিন্তু হতাশ হয়ে আমি লক্ষ্য করেছি বিবিসি বাংলা এটি নিয়ে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় দুটি নামকাওয়াস্তে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ১৯শে এপ্রিল পরিক্রমা অনুষ্ঠানে একজনের মৃত্যুর খবর ছাড়া আর কোন খবর ছিল না। এর কারণ কী? বিবিসি কি তাহলে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিল?''
মি. রহমান এ খবরটি স্থানীয় গণমাধ্যমের জন্য খুবই বড় খবর ছিল সন্দেহ নেই যার জন্য তারা ক্ষণে ক্ষণে সরেজমিন প্রতিবেদন করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম হিসাবে খবরটি যতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা উচিত ছিল বিবিসি বাংলা ততটা গুরুত্ব দিয়েই খবরটি কভার করেছে। ওয়েবপেজে খবরটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে এবং সবিস্তারেই প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রতিবেদনকে আপনি নামকাওয়াস্তে কেন বলছেন সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। সোমবার রাত থেকে পুরো ঘটনাপ্রবাহ ওই অনলাইন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল। এছাড়াও বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা গতকাল এলাকা ঘুরে এসে রেডিওতে প্রবাহ এবং পরিক্রমা দুটি অনুষ্ঠানে সবশেষ রিপোর্টও দিয়েছেন। আর আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই জেনেছেন কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত।

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের আচরণ এবং ক্রেতাদের সাথে ব্যবসায়ীদের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''ব্যবসায়ীরা মনে করেন দোকানে ঢুকলেই জিনিসপত্র কিনতে হবে, না কিনলে বাজে ভাষায় ক্রেতাদের আক্রমণ করা বাংলাদেশের মার্কেটগুলোতে নিয়মিত ঘটে থাকে। ক্রেতাদের সাথে এ ধরনের ব্যবহার বন্ধে বা ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতেও তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রেতাদের হেনস্তা হতে হয় নিয়মিত। আমার মনে হয় এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।''
প্রায় একইধরনের মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসুম বিল্লাহ:
''এই বিষয়টির কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে অনেকগুলো বিষয় সামনে এসে যায়। ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ আসে, যখন তারা কোন দোকানে কোন পণ্য কিনতে যায় তখন ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম হাঁকায় এবং কোন পণ্যের দাম জিজ্ঞাসা করলে সেটা ক্রয় করার জন্য চাপাচাপি করা হয় ক্রেতাকে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা প্রায়ই অভিযোগ করে থাকে একটি নামধারী ছাত্র সংগঠন প্রায়ই চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীদের দোকানে এসে চাঁদা দাবি করে। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় দুই পক্ষকেই সমান ভাবে তাদের নিজ নিজ দ্বায়িত্ব পালন করা উচিত।''
ব্যবসায়ীদের ওপর সব দায় চাপানো কি ঠিক? যদিও ক্রেতারা কী কিনবেন, বা কিনবেন না, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপার। কোন পণ্যের দাম জিজ্ঞেস করার মানে এই নয় যে ভোক্তা সেটা কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং তিনি দায়বদ্ধ। সবচেয়ে বড় কথা হল, ক্রেতা আর বিক্রেতার মধ্যে একটা সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক যদি রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মার্কেটগুলোয় থাকে তাহলে নিউমার্কেটে এধরনের সমস্যা কেন বারবার হয় তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর মি. সরদার এখানে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কী কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলে আপনি মনে করছেন জানি না। তবে মি. বিল্লাহ যেটা বলছেন ব্যবসায়ীদের কাছে কোন ছাত্র সংগঠনের চাঁদা দাবির অভিযোগ যদি সত্য হয়, সেখানে সরকারের দিক থেকে পদক্ষেপ নেবার বিষয় অবশ্যই আছে।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য করে দুটি চিঠি। প্রথমটি লিখছেন ময়দানদিঘী,পঞ্চগড় থেকে শিল্পী রানী:
''গত ১৬ই এপ্রিল তারিখে বিবিসি বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে ক্লিক অনুষ্ঠানে ঝুট কাপড় রিসাইকেল সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য দেখলাম। বেশ ভালো লাগলো।''
বাতিল কাপড়ের টুকরো দিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল তৈরির কাজ বাংলাদেশে কীভাবে চলছে তা নিয়ে বিবিসি ক্লিকের প্রতিবেদনটি আপনার কাছে তথ্যবহুল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। আসলেই রিসাইক্লিংএর কথা উঠলে আমরা প্লাস্টিক, কাগজ এসবের কথাই ভাবি। কিন্তু পোশাক শিল্পের বিশাল পরিমাণ বাতিল টুকরো কাপড়গুলোর রিসাইক্লিংও পরিবেশ দূষণ কমাতে কতটা ভূমিকা রাখছে সেটাই তুলে ধরা হয়েছিল ক্লিকের এই রিপোর্টে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
পঞ্চগড়েরই দেবীগঞ্জ থেকে বিবিসি বাংলার অন্য একটি অনুষ্ঠান নিয়ে লিখেছেন দিপক চক্রবর্তী:
''বিবিসি থেকে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচার হচ্ছে, যা আমাদের খুব ভালো লাগছে। যেমন ফজলুর রহমান বাবুর সাক্ষাৎকারটি শুনে ভালো লাগলো। তাই প্রশ্ন সৈয়দ আব্দুল হাদীর সাক্ষাৎকার কি প্রচার করা যায় না?"
কেন যাবে না। বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার আমরা এই অনুষ্ঠানে প্রচার করি। এরা সকলেই ব্যস্ত মানুষ, সবাই সবসময় সময় দিতে পারেন না যেটা সাক্ষাৎকার নেবার ক্ষেত্রে একটা বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ফারহানা পারভিনের জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখেছেন সৈয়দপুর, নীলফামারী থেকে মোঃ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:
"আমাদের দেশে জমি বিরোধের কারণে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায়, অনেকে নিঃস্ব হয়। জমির প্রকৃত মালিক থাকা সত্ত্বেও ভূমিদ্যসুরা পরের জমি দখল করে। বাংলাদেশে হাজার হাজার পরিবার আছে জমির দলিল থাকা সত্ত্বেও যারা জমি ফেরত পাচ্ছে না। ভূমিদ্যসুরা অবৈধভাবে পরের সম্পওি দখল করছে। জমির মামলায় একটি পরিবার পুলিশ, উকিল পুষতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর যেয়েও রায় হচ্ছে না। আমার প্রশ্ন সরকার কবে কঠোর আইন কার্যকর করে জমির প্রকৃত মালিকের কাছে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবে?"
এটা ঠিক যে বাংলাদেশে বিচারাধীন মামলার বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। এবং জমির বিরোধ নিয়ে দেওয়ানি আর ফৌজদারি আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। জমিজমা নিয়ে মামলা মোকদ্দমার পেছনে নানাধরনের কারণ রয়েছে। জমির, অংশীদারিত্ব, উত্তরাধিকার, বণ্টন এসব নিয়ে পারিবারিক বিরোধ যেমন আছে তেমনি জমি দখল নিয়ে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও রয়েছে। আসলে আইন থাকলেও জমির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানার হালনাগাদ তথ্য যাচাই এ ধরনের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতারও অভাবও অনেকসময় এসব বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সুইডনে একটি কট্টর দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীর পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে কাউনিয়া,বরিশাল থেকে লিখেছেন মো. সাইদুর রহমান:
''বিবিসি বাংলায় ১৭ এপ্রিল তারিখের "সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। এই সংগঠনটি আবারও কোরআন পোড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ফ্রান্সের শার্লি এব্দো ম্যাগাজিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-কে অবমাননা করে বিকৃত ও অরুচিকর কার্টুন ছেপেছিল। এসব বিতর্কিত ঘটনা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং চরম নিন্দনীয় কাজ।
''আমি মনে করি, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ দলটির বিতর্কিত কর্মকান্ড বন্ধ করা, অন্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।"

ছবির উৎস, EPA/SWEDEN OUT
একইধরনের মন্তব্য করেছেন ভোলাহাট,চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা। কোন ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। যারা এধরনের কাজ করে তারা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও উগ্র মানসিকতা থেকে এধরনের কাজ করে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা হলে, তারা এ'ধরনের কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে। এর বিরুদ্ধে সুইডেনে তীব্র ধিক্কার উঠেছে এবং সুইডেনের বাইরেও এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
ভারতে অভিনব এক অপরাধের খবর নিয়ে মন্তব্য করেছেন চরফ্যাশন, ভোলা থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''১৮ এপ্রিল ২০২২ বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় ''ভারতে গুই সাপকে 'ধর্ষণের' অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা" শীর্ষক একটি ভিডিও ক্লিপ দেখলাম। খুবই অকল্পনীয় ও চরম নিন্দনীয় ঘটনা। সংবাদটির শিরোনাম দেখে আমি প্রথমে বিশ্বাসই করিনি কিন্তু ভিডিও ক্লিপটিতে বলা হয়েছে, মোবাইলে ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে ভারতের মহারাষ্ট্রের চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি বেঙ্গল মনিটর লিজার্ড বা গুই সাপকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
''এই ঘটনা নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মানুষ কতটা নিচু হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য! অভিযোগ প্রমাণিত হলে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের অধীনে হয়তো তাদের শাস্তি হবে কিন্তু তারপরও এটি একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়েই থাকবে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হক মানুষের প্রবৃত্তি কতটা নিকৃষ্ট হলে মানুষ এধরনের কাজ করে। ঘটনাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
শেষ করছি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি প্রশ্ন দিয়ে। লিখেছেন কপিলমুনি খুলনা থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক হামলা করেছে বেশ অনেক দিন হলো। ইউক্রেনের একের পর এক শহর রাশিয়ার সৈন্যরা আক্রমণ করছে। গণ মাধ্যমে জানতে পারছি ইউক্রেনের অনেক বেসামরিক লোক প্রতিদিন নিহত হচ্ছে। অতীতে যখন বিশ্বে এই ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি হয়েছে তখন যুদ্ধ হামলা বন্ধ করতে তৃতীয় কোন দেশ বা কোন জোট শান্তি আলোচনা করে উভয় পক্ষকে অস্ত্র বিরতি করিয়েছে।
''গণ মাধ্যমে জেনেছিলাম শান্তি আলোচনা করার জন্য বেশ কিছু রাষ্ট্র উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু শান্তি আলোচনার কোন অগ্রগতি কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না? তাহলে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র কি চাইছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চলুক? বিশ্বের এই বিপর্যস্ত অথনৈতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের যদি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান না হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি কি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?''

ছবির উৎস, Getty Images
সব পক্ষই চাইছে কূটনৈতিক পথে এই সঙ্কটের সমাধান। কিন্তু কূটনৈতিক নানা আলোচনা ও উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত সমাধানের কোন পথ দেখাতে পারেনি। এই পথ খুঁজে পাওয়া খুব একটা সহজ নয় বলেই কূটনীতিকরা মনে করছেন। এদিকে ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ক্রমশই তার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। এই যুদ্ধ না থামলে এর অর্থনৈতিক মূল্য যে ভয়াবহ হতে পারে এবং মানবিক পরিস্থিতি যে আরও বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার:
মোঃ মিলন খন্দকার খালেক, পীরগাছা, কান্দি-নিজপাড়া, রংপুর
দেওয়ান জনি, ডাকুরাইল, গাজীপুর
মোঃ শাহাদাত হোসেন, জয়নালপুর, চর হরিশপুর চাঁপাই নবাবগঞ্জ
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
মোঃ সাইফুল ইসলাম রাশেদ, সাতক্ষীরা, নলতা শরীফ
আহসান হাবিব রাজু, মহেন্দ্রনগর, সুকানদীঘি, লালমনিরহাট
রিপন বিশ্বাস, জোত শ্রীপুর, মাগুরা।









