এডিটার'স মেইলবক্স: ইমরান খান, হৃদয় মণ্ডল আর পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথমবার একজন নির্বাচিত সরকার প্রধান সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।

যদিও বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মনে করেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তার পরেও এটা অনস্বীকার্য যে সংসদে নিয়ম অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে।

যাই হোক, পাকিস্তানের ঘটনাবলী আমাদের শ্রোতা-পাঠকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহের জন্ম দিয়েছে, তাই আজ শুরু করছি ইমরান খানকে দিয়েই। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী হলেন শাহবাজ শরিফ। অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেন।

''কিন্তু ইমরান খান প্রথম থেকেই বিদেশী ষড়যন্ত্রের কথা বলে আসছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের কথা। আসলেই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন? যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলছেন।

''তাহলে কি বিদেশী ষড়যন্ত্রের দোহাই দিয়ে ইমরান খান নিজের প্রধানমন্ত্রীত্ব-এর ব্যর্থতা আড়াল করতে চেয়েছেন?''

যুক্তরাষ্ট্রর সাথে ইমরান খানের সম্পর্ক যে ভাল যাচ্ছিল না, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. শামীম উদ্দিন। তবে সে কারণে ওয়াশিংটন সক্রিয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, সে অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

মূল কথা হচ্ছে, সংসদে মি. খানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই ক্ষীণ ছিল, বিরোধী দলগুলো সুযোগ বুঝে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। হয়তো ইমরান খান পরবর্তী নির্বাচনে নিজেকে জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার জন্য বিদেশী চক্রান্তের কথা বলছেন।

তবে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক মনে করছেন, ইমরান খানের পক্ষে লাখো মানুষের বিক্ষোভ প্রমাণ করে জনগণ তার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে:

''পাকিস্তানের দুর্নীতিবাজ শাসকদের মধ্যে ইমরান খান স্পষ্টতই একজন দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। জনগণ সেটা বুঝে, তাই তারা তাঁর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।

''তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, এটা সাধারণ জনগণ বুঝতে পেরেছে তাই তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে গেছে এবং তিনি জনসাধারণের হৃদয়ে থাকবেন আজীবন।

''তাছাড়া তার দৃঢ় বিশ্বাস আছে ভোটের মাধ্যমে তিনি আবার পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসবেন, সেজন্যই হয়তো প্রশাসনের সাথে কোন আঁতাত করেননি তিনি।''

ইমরান খানের যে জনপ্রিয়তা আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. ইসলাম। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তার ভিত এখনো শক্তিশালী না।

যাই হোক, আগামী নির্বাচন পরিষ্কার করে দেবে পাকিস্তানের জনগণ মি. খানকে আরেকবার সুযোগ দেবে নাকি সেই পুরনো দুটি দল, শরিফ পরিবারের মুসলিম লীগ আর ভুট্টো পরিবারের পিপলস পার্টিতে ফিরে যাবে।

পাকিস্তান নিয়ে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:

''ইমরান খান তার এই পরিণতির জন্য কেন সতর্ক ছিলেন না? এখন দোষারোপ করে লাভ কি? দেশটির এ অবস্থা নতুন কিছু নয়। এখন পাকিস্তানকে অঘোষিত সেনাশাসন বলা যায় কি?''

না মি. তালুকদার, আমার মনে হয় না পাকিস্তানকে সেনা শাসিত দেশ বলা উচিত। সর্বশেষ ঘটনা পুরোটিই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী যা দেশের সর্বোচ্চ আদালত অনুমোদন করেছে।

সামরিক বাহিনী ইমরান খানের পক্ষে না বিপক্ষে ছিল, তা মুখ্য বিষয় না, মূল কথা হল এখানে অসাংবিধানিক কোন হস্তক্ষেপ হয়নি।

এবারে বাংলাদেশের দু'একটি ঘটনাবলীর দিকে তাকাই।

সম্প্রতি ধর্ম নিয়ে দু'জন শিক্ষক হেনস্তা হবার ঘটনা নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরার প্রসাদপুর থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''পর পর দুটি ঘটনা আমাকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে। বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় কুমার মণ্ডল ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ নিয়ে। পরবর্তীতে তদন্তে দুটি ঘটনাই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হয়েছে। অথচ তাদের উপর যে ঝড় বয়ে গেল তার সুরাহা কীভাবে হবে? তারা কি আগের মত স্বাভাবিকভাবে চাকুরি করতে পারবে?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস আক্তার। এ'দুজন শিক্ষকের ওপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তারা নিশ্চয়ই যে ট্রমার মধ্যে আছেন, তা সহজে কাটবে না। তাদের অনেক সাপোর্ট প্রয়োজন, বিশেষ করে পাড়া-প্রতিবেশী এবং নিজ নিজ কর্মস্থলের সহকর্মীদের কাছ থেকে।

পরিবার, প্রতিবেশী এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে সাপোর্ট পেলে তারা সহজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

হৃদয় মণ্ডলকে নিয়ে সরকার কী কৌশল নিয়েছে? প্রশ্ন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:

''মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের গ্রেফতার প্রসঙ্গে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন,এটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনষ্টের উপলক্ষ। আমি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত। যে কোনো চিহ্নিত মহল এ ঘটনাকে ইস্যু করে পানি ঘোলা করার অপপ্রয়াস চালাতে পারে,এটা অস্বাভাবিক নয়।

''সরকার বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেফতার করে চিহ্নিত চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে কি? নাকি বলা যায়, এটা সরকারের ধর্মীয় উন্মাদনা নিবৃত্ত রাখার একটি কৌশলী অবস্থান?''

ঘটনা প্রবাহ দেখে আমার মনে হয় মি. রহমান, যে হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেফতার করা এবং তাকে দু'দফা জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আর বিচার ব্যবস্থার। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের হস্তক্ষেপের পরই তিনি জামিন পেয়েছেন বলে আমার ধারণা।

আমার মনে হয় না সরকার এমন কোন পরিস্থিতি দেখতে চায় যেখানে একজন বিজ্ঞান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান শেখাতে পারবে না।

ধর্ম সংক্রান্ত আরো একটি ঘটনা বাংলাদেশে অনেককে বিচলিত করেছে, যেমন লিখছেন লালমনিরহাটের গুড়িয়াদহ থেকে আহসান হাবিব রাজু:

''নরসিংদীর রায়পুরায় কন্যা শিশুকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ায় শুরু হওয়া তর্ক ও সংঘর্ষের জেরে একজনের মৃত্যু হয়, যা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের দেশের মানুষের ধর্ম সম্পর্কে অনেক আবেগ, কিন্তু ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা একেবারে কম।

এদেশে ওয়াজ নসিহত হয় ইসলামী বিধানের গুরুত্ব এবং ঈমান সম্পর্কে। সেজন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ একেবারে নাই বললেই চলে। নরসিংদীতে যা হয়েছে তা এই মূর্খতারই প্রতিফলন। এরকম ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এমনটা আশা করে দেশের মানুষ।''

আমি নিশ্চিত আপনার সাথে সবাই একমত হবেন মি. হাবিব, যে এরকম মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেউ দেখতে চায় না। শিশু কন্যাকে মসজিদ নিয়ে যাওয়া যায় কি যায় না, তা নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে, এমনকি তর্কও হতে পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং মৃত্যু সত্যিই সাধারণ বোধশক্তির অভাবের পরিচয় দেয়।

আরেকটি ঘটনা সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে, সেটি হল সম্প্রতি শেরপুরে প্রকাশ্যে একটি খুনের ঘটনা। সে বিষয় লিখেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:

''আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, দু'দিন আগে শেরপুরে পুলিশের সামনে একজন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

''মানুষ কার কাছে নিরাপওা চাইবে? আইন তাদের রক্ষা করতে পারল না। পুলিশ তো শুধু টাকার জন্য চাকরি করে, ন্যায় অন্যায় বুঝে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এসব চলবে?''

সেটাই বড় প্রশ্ন মি. চৌধুরী, পুলিশ যদি মারাত্মক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে দেখেও না দেখার ভান করে, তাহলে মানুষ কার কাছ থেকে নিরাপত্তা আশা করতে পারে। এই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা এবং মনোবলের ভাল চিত্র তুলে ধরে না। সবাই আশা করবে, পুলিশ প্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

এবারে আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে।

নৌপথে যাত্রা করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:

''বিবিসি বাংলায় প্রচারিত এমন একটি সংবাদ শুনে হতাশ হতে হলো। ঈদ যাত্রায় যেখানে হাজার হাজার যাত্রীর ঢল নামবে সেখানে পরিচয়পত্র চেক করতে কতটা সময় লাগবে তা বোধহয় কর্তৃপক্ষের ধারণা নেই। আমাদের নীতিনির্ধারকরা বরাবরই এমনকিছু কাজ করেন, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়া ব্যতীত কমে না।

এই যেমন এ সপ্তাহে অনলাইনে রেলওয়ের টিকেট কাটলাম। রেলওয়ের টিকেট কাটার পর কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী, অনলাইন থেকে প্রাপ্ত পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে প্রিন্ট দিতে হবে। তারপর সেই প্রিন্ট কপি কাউন্টারে দেখিয়ে ট্রেনের যে টিকেট আছে সেটা কিনতে হবে!

এতে সমস্যা দেখুন: প্রথমত, অনলাইনে সরকার কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত (বর্তমানে সহজ) থার্ড পার্টির কাছ থেকে টিকেট কেনায় সার্ভিস চার্জ দিয়েছি আসন প্রতি ২০ টাকা। এরপর অনলাইন থেকে প্রাপ্ত টিকেট সাদাকালো প্রিন্ট করতে লাগবে ১০ টাকা। অর্থাৎ আসন প্রতি শুরুতেই অতিরিক্ত খরচ হলো ৩০ টাকা।

এরপর কাউন্টারে গিয়ে অনলাইন কপি দেখিয়ে টিকেট নিতে হলে আবারো দীর্ঘ লাইনেই দাঁড়াতে হবে। তাহলে অনলাইনে রেলের টিকেট বিক্রিতে আমরা কি সুবিধা পেলাম?''

অনলাইনে বেচা-কেনা মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়ার কথা, তা খাবার-দাবার হোক, পোশাক-আশাক হোক আর ফেরি বা ট্রেনের টিকিটই হোক। পশ্চিমা বিশ্বে তাই হয়েছে।

কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে মনে হয় এমন সব আমলাতান্ত্রিক আবরণ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যে অনলাইন কমার্সের সুফল পাওয়া তো দূরে থাক, সব কিছু আরো জটিল করে তুলছে।

অনলাইনেই যদি টিকেট কাটবো, তাহলে কেন আবার পিডিএফ প্রিন্ট নিয়ে সেই কাউন্টারে গিয়েই লাইন দিতে হবে?

আর লঞ্চ বা ফেরির টিকেট কাটার সময় এনআইডি দেখানোর নিয়মটা কার্যকর হলে বোঝা যাবে এটা যাত্রীদের জীবন সহজ করছে না আরো জটিল করছে।

এবারে বিবিসি নিয়ে একটি অভিযোগ, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

"সোহেল চৌধুরী: নাইটক্লাবের গেটে নায়কের লাশ" বিবিসি বাংলার শিরোনামের প্রথম অংশ। এছাড়া নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে আরো কিছু অংশ যেমন "১৯৯৮ সালের ২৪শে জুলাই ট্র্যাম্পস ক্লাবে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর বিভিন্ন ইস্যুতে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।" তো এই "বিভিন্ন ইস্যু" কি পরিষ্কার করা যেতনা?

''বিবিসির প্রতিবেদন পড়লে এটা বোঝার উপায় নেই যে সোহেল চৌধুরী সেখানে খারাপ কাজের জন্য গিয়েছিলেন নাকি ভাল কাজের জন্য। আশা করছি এমন সংবেদনশীল প্রতিবেদন তৈরির সময় বিবিসি বাংলা আরেকটু সচেতন হবে। কারণ অনেক ব্যাপারেই বিবিসি বাংলার সংবাদকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।''

আপনার অভিযোগের কারণটা আমি বুঝতে পারছি মি. সাঈদ। কিন্তু আমরা যুক্তিসংগত কারণেই এরকম সতর্ক ভাষা ব্যবহার করে থাকি। বিভিন্ন ইস্যু হয়তো আমাদের জানা, কিন্তু সেগুলো নিয়ে কি আমাদের হাতে কোন প্রমাণ আছে? থাকলে নিশ্চয়ই সেটা উল্লেখ করা হতো। কিন্তু যেহেতু নেই তাই সরাসরি বলাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

যেমন, আপনার চিঠিতে দু'একজনের নাম উল্লেখ করে আপনি ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা হত্যায় জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এরকম অভিযোগ এমনকি পাঠকের চিঠির মাধ্যমেও প্রকাশ করা সম্ভব না।

সব শেষে, আমাদের অনুষ্ঠানে শব্দ চয়ন নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

''ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে ম্যাক্রঁ-ল পেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস শীর্ষক প্রতিবেদনে মধ্যপন্থী, ডানপন্থী, কট্টর বামপন্থী, কট্টর ডানপন্থী, রিপাবলিকান এবং গ্রিনস এই শব্দগুলো দ্বারা আসলে কি বোঝানো হয়েছে।''

রাজনৈতিক খবরাখবর দেবার সময় এই বিশেষণগুলো ব্যবহার করা হয় মি. চৌধুরী। সেগুলো মূলত রাজনীতিক বা রাজনৈতিক দলের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। যেমন, যারা রক্ষণশীল, তাদের সাধারণত ডানপন্থী বলা হয়, কিন্তু যারা অতি মাত্রায় রক্ষণশীল, যেমন ধরুন যাদের মতাদর্শে বর্ণবাদ বা সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মীয়বাদ থাকে,যারা অভিবাসন বিরোধী, যারা নারী অধিকার বিরোধী ইত্যাদি তাদের কট্টর ডানপন্থী বলা হয়।

যারা গণতান্ত্রিক পথে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের বামপন্থী বলা হয়, কিন্তু যারা বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বা পুরো অর্থনীতির ওপরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী, তাদের কট্টর বামপন্থী বলা হয়। যারা গণতন্ত্র এবং পুঁজিবাদে বিশ্বাসী কিন্তু একই সাথে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের সাধারণত মধ্যপন্থী বলা হয়।

আর গ্রিনস বলতে বোঝায় পরিবেশবাদী রাজনীতি, যারা সাধারণত মধ্য-বামপন্থী হয়ে থাকে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

গাজী মোমিন উদ্দীন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।

দিপায়ন মণ্ডল, মাছিয়াড়া, সাতক্ষীরা।

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।