হুমায়ুন আজাদ: মৃত্যুর দেড় যুগ পর তাকে হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের সুপরিচিত লেখক ও অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ বিবিসিকে বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর ফলে আঠার বছর পর এই হত্যা মামলার রায় এলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ তাঁর লেখালেখির জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
বিশেষ করে তাঁর 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস প্রকাশের পর ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো।
দুই হাজার চার সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে জখম করেছিলো একদল সন্ত্রাসী।
এরপর চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ওই বছরেই অগাস্টে তিনি বৃত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য গিয়েছিলেন জার্মানিতে।
সেখানেই কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
এর আগেই ঢাকায় হামলার শিকার হওয়ার পরদিন মিস্টার আজাদের ভাই হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন।
তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে পাঁচজনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল।
তবে বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি পুলিশ দ্বিতীয় দফায় একটি তদন্ত করে।
এই তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো ঢাকায় দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে।
এতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি'র পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিলো।
মামলার অভিযোপত্রে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিলো যে, চিকিৎসা প্রতিবেদন, জার্মানি থেকে পাঠানো মৃত্যুর সনদ, ময়না তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, আক্রমণের কারণেই লেখক হুমায়ুন আজাদ মারা যান।
অভিযোগপত্রে যারা সরাসরি ঘটনার সাথে জড়িত ছিল, এমন জেএমবির পাঁচজন সদস্যকে অভিযুক্ত করার কথা তখন আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন।
এদের মধ্যে একজন পলাতক এবং চারজন তখন আটক ছিলেন।
এখন তাদের মধ্যে দুজন আটক আছেন আর একজন এখনো পলাতকই আছেন।
অন্য দুজন গ্রেপ্তার হলেও ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা করে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিলো জঙ্গিরা।
তবে এ সময় একজন পালিয়ে যেতে পারলেও অপরজন পুলিশের হাতে আটক হন ও পরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।








