রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মারিউপোলে একদিনের যুদ্ধবিরতি, চেরনিহিভের ওপর এখনো গোলাবর্ষণ চলছে

ছবির উৎস, Reuters
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোল শহরে একদিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া - আর এর পর অবরুদ্ধ শহরটি থেকে বেসামরিক লোকদের বের করে নিতে এবং মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেবার জন্য ইউক্রেনের সরকার সেখানে অনেকগুলো বাসের একটি বহর পাঠাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও তা টিকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রেডক্রস বলছে, তারা বেসামরিক লোকদের মারিউপোল থেকে বের করে নেবার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত - যদি সব পক্ষ এ কার্যক্রমের সময়কাল, পথ এবং শর্তাবলী নিয়ে একমত হয়। রেডক্রসের বাসগুলোও এখন মারিউপোলে যাবার পথে রয়েছে।
রুশ বাহিনীর প্রচণ্ড বোমা ও গোলাবর্ষণের শিকার শহরটিতে হাজার হাজার লোক আটকে আছে।
একজন মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তা ও পরিবহনের ব্যবস্থাপনার কারণে মারিউপোলের লোকদের বের করে নেবার কাজ শুক্রবারে সম্পন্ন হবে। এর আগে ইউক্রেনের সরকার ৪৫টি বাস পাঠানোর কথা জানানোর পর বৃহস্পতিবারই এ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হয়েছিল ।
বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:

ছবির উৎস, Reuters
এর মধ্যে এই লোকদের সরিয়ে নেবার জন্য আরো দুটি নিরাপদ করিডোরের কথাও ঘোষণা করা হয়। একটি মারিউপোলের পশ্চিমের মেলিটোপোল শহর থেকে, অন্যটি এনারজোডার থেকে - যেখানে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক প্ল্যান্টটি রয়েছে।
চেরনিহিভের ওপর আরো গোলাবর্ষণ
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত রুশ-ইউক্রেন বৈঠকে রাশিয়া - কিয়েভ ও চেরনিহিভ শহরদুটিতে সামরিক কার্যক্রম "ব্যাপকভাবে কমানোর" কথা বললেও গত দুই রাত ধরে চেরনিহিভের ওপর গোলাবর্ষণ চলছে।
উত্তরাঞ্চলীয় এ শহরটি রাশিয়ার বাহিনী কার্যত ঘিরে আছে, এবং প্রায় ১৪০,০০০ লোক বিদ্যুৎ,গ্যাস ও পানিবিহীন অবস্থায় বাস করছে।
শহরের বাসিন্দারা বিবিসিকে বলেছেন, তারা রাতে এবং ভোরবেলাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
তবে বিবিসি এসব দাবির সত্যতা স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করতে পারেনি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া খবরে বলা হয়, চেরনিহিভ শহরের আশপাশে ব্যাপক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা নিক্ষেপ চলছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এতে বলা হয়, রাজধানী কিয়েভ শহরের উপকণ্ঠেও প্রচণ্ড লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। কারণ কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে রুশ বাহিনীর উল্রেখযোগ্য উপস্থিতি এখনো আছে, যদিও কিছু ইউনিটকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
ইরপিন শহর পুরোপুরি পুনর্দখল করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী
ইউক্রেনীয় বাহিনী বলছে, উত্তর পশ্চিমের ইরপিন শহরটি পুরোপুরি পুনর্দখল করেছে তারা, তবে শহরটির অবস্থা এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বাসিন্দাদের সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রাম হোস্টেমেল ও বুচায় এখনো রুশ উপস্থিতি রয়েছে।
এর মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস এলাকায় তার দেশ নতুন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
অন্যদিকে মারিউপোল শহরেও তীব্র যুদ্ধ চলছে, কিন্তু ইউক্রেনের বাহিনী এখনো শহরটির নিয়ন্ত্রণে আছে।








