রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কিয়েভ দখল করতে না পেরে পুতিন 'কোরিয়া পরিস্থিতি' তৈরির পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ

ছবির উৎস, Getty Images
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান বলছেন, কিয়েভসহ প্রধান শহরগুলো দখলে নিয়ে তার দেশের বৈধ সরকারকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হবার পর রাশিয়া এখন ইউক্রেনে 'উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মত পরিস্থিতি' সৃষ্টি করতে চাইছে।
কিরিলো বুদানভ বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন তার ভাষায় "পুরো ইউক্রেনকে গিলতে পারবেন না", তাই তিনি পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল এবং দেশটির বাকি অংশের মাঝখানে একটা বিভক্তি রেখা চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করবেন।
তার মতে, রুশ অগ্রাভিযান স্থবির হয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অগ্রাধিকার হচ্ছে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাংশ। তিনি যদি এই অঞ্চলটাকে সংযুক্ত করতে পারেন - তাহলে একে ইউক্রেনের বাকি অংশ থেকে আলাদা করে মস্কো-নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চল সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবেন - অনেকটা কোরিয়া যুদ্ধের পর যেমন হয়েছিল।
জেনারেল বুদানভ বলেন, এরকম কোন রাষ্ট্র স্থাপনের চেষ্টা টেকসই হবে না, কারণ স্থানীয় জনগণ একে প্রতিহত করবে। তিনি আরো বলেন, তার দেশ শিগগীরই রুশ-অধিকৃত এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করবে।
আরও পড়তে পারেন:

তিনি বলেন, রাশিয়ার আসল সমস্যা হচ্ছে পূর্বাঞ্চল ও ক্রাইমিয়ার মধ্যে একটি স্থল করিডোর প্রতিষ্ঠা ও চালু রাখা, তবে এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মারিউপোল - যাকে কোনরকমেই ভাঙা যাচ্ছে না।
লুহানস্কে গণভোট হবে?
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ বলছে, রাশিয়া-সমর্থিত স্বঘোষিত লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকে খুব শিগগীরই রাশিয়ায় যোগদানের প্রশ্নে একটি গণভোট হতে পারে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা লিওনিদ পাসেচনিক এ কথা বলেছেন। পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল দুটি ২০১৪ সালেই স্বাধীনতা ঘোষণা করে, এবং তখন থেকেই সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চলছিল।
এ বছরই ২১শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়া তাদের স্বীকৃতি দেয়, এবং তার দু'দিনের মধ্যেই সেখানকার জনগণকে রক্ষার কারণ দেখিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ভাষায় 'বিশেষ সামরিক কার্যক্রম' শুরু করে।

ছবির উৎস, Reuters
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধিকৃত এলাকায় কোন গণভোট করলে তা বাতিল হয়ে যাবে।
এর মধ্যে ইউক্রেনের সবচেয়ে সিনিয়র মানবাধিকার কর্মকর্তা লুদমিলা দেনিসোভা বলছেন, রাশিয়ার দখল করে নেয়া একমাত্র বৃহৎ ইউক্রেনীয় শহর খেরসনেও স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোট করার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া, এবং সেখানে তারা নিজস্ব মুদ্রা রুবল চালু করতে চাইছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি
রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তু আছে যেগুলো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে - রুশ বিমানকে যেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে না হয় - সে জন্য রাশিয়া তাদের নিজ আকাশসীমার ভেতর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী বলছে, দক্ষিণ পূর্বের মারিউপোল শহরের বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর রাশিয়া আরো আক্রমণ চালিয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী কিয়েভের ওপরও আক্রমণ হচ্ছে। শহরটির ভেতরে এবং উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তার দেশকে যুদ্ধবিমান ট্যাংক এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহ করে। তিনি বলেন, মেশিনগান দিয়ে রুশ বিমান ভূপাতিত করা যায় না।









