রোজার মাসে বাংলাদেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে 'খতম তারাবীহ পড়ার' অনুরোধ কেন?

    • Author, নাগিব বাহার
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে আসন্ন রমজান মাসে সব মসজিদে 'একই পদ্ধতিতে খতম তারাবীহ পড়ার আহ্বান' জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বুধবার প্রকাশিত ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের সকল মসজিদের ইমাম, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হয় যেন একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে দেশের সকল মসজিদে খতম তারাবীহ পরিচালনা করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, তারাবীহ নামাজে বিভিন্ন মসজিদে কোরানের নির্দিষ্ট পারা তিলাওয়াত না করায় 'কর্ম উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের কোরান খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না।'

সেজন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয় যেন সব মসজিদে রমজানের প্রথম ছয় দিনে তারাবীহ নামাজে দেড় পারা করে মোট নয় পারা, এবং পরবর্তী একুশ দিনে এক পারা করে কোরান তিলাওয়াত করা হয়, যেন ২৭ রমজানের রাতে বা 'শবে কদরে' মুসল্লিদের জন্য কোরান খতম করা সম্ভব হয়।

'খতম তারাবীহ' কী?

রমজান মাসে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সব দেশেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ইশা'র নামাজের পর তারাবীহ'এর নামাজ আদায় করে থাকেন।

বাংলাদেশের মসজিদে রমজান মাসে সাধারণত বিশ রাকাত তারাবীহ'র নামাজ পড়া হয়ে থাকে।

সাধারণত রমজান মাসের প্রথম সাতাশ দিনে - অর্থাৎ শবে কদরের রাত পর্যন্ত - মসজিদগুলোতে 'খতম তারাবীহ' পড়া হয়ে থাকে।

এই পদ্ধতিতে, প্রথম দিন তারাবীহ'র নামাজের সময় কোরানের যে অংশ তিলাওয়াত করা হয়, পরের দিনের নামাজে তার পরবর্তী অংশ তিলাওয়াত করা হয়ে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় সাধারণত সাতাশে রমজানের মধ্যে পুরো কোরানের ত্রিশ পারা তিলাওয়াত সম্পন্ন করা হয়ে থাকে ।

এর ফলে নামাজে অংশগ্রহণকারীরা রমজান মাসে পুরো কোরান খতম করার পুণ্য অর্জন করতে সক্ষম হন বলে বলা হয়ে থাকে।

আরো পড়তে পারেন:

মুসল্লিদের কাছে 'খতম তারাবীহ' কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রমজান মাসে খতম তারাবীহ পড়ার মাধ্যমে মুসল্লিদের 'অতিরিক্ত নেকি লাভের' সুযোগ থাকে বলে উল্লেখ করেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের মসজিদে নূরের খতিব মুফতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, "তারাবীহ এর নামাজ যে মসজিদে জামাতের সাথে পড়তে হবে, তা নয়। কেউ চাইলে ঘরে বসেও তারাবীহ এর নামাজ আদায় করতে পারেন।"

"কিন্তু অতিরিক্ত সওয়াব লাভের আশায় অনেকেই তারাবীহ নামাজের মধ্যে কোরান খতম দিতে চান, তখন তারা খতম তারাবীহ পড়ে থাকেন।"

কোরানের একটি আয়াতের উল্লেখ করে মি. কামরুজ্জামান বলেন, "কোরান তিলাওয়াতের সময় তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং চুপ থাকার নির্দেশ দেয়া রয়েছে কোরানে। তাই তারাবীহর সময় চুপ থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার কারণে নামাজে অংশগ্রহণকারীরা দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করে থাকেন।"

"এছাড়া হাদিসেও বর্ণিত আছে যে, কোরান পাঠকারীর চেয়ে যে কোরান শুনবে, সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।"

"সেই হিসেবে, যে সারা বছর কোরান খতম করতে পারে না, এক রমজানে তারাবীহ নামাজের মধ্যে সে একবার কোরান খতম শুনবে, তা অনেক বড় বিষয়", মন্তব্য করেন মি. কামরুজ্জামান।

তবে কোনো কারণে তারাবীহ নামাজের এই ধারাবাহিকতা লঙ্ঘিত হলেও - অর্থাৎ কারো পক্ষে খতম তারাবীহ পড়া সম্ভব না হলেও - নিজে থেকে তারাবীহ নামাজ পড়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মি. কামরুজ্জামান।

রমজান মাসে তারাবীহ'র নামাজের সময় কোরান তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব মসজিদে একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হলে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করা মুসল্লিরা 'খতম তারাবীহ'র সওয়াব' লাভ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মুফতি কামরুজ্জামান।

তবে কেউ কোনো কারণে 'খতম তারাবীহ' পড়তে সক্ষম না হলেও - অর্থাৎ কোনো একদিন জামাতের সাথে তারাবীহ পড়তে না পারলেও - তার পক্ষে খতম তারাবীহ'র সওয়াব অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন মি. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, "সেক্ষেত্রে জামাতে নামাজ না পড়তে পারার কারণে কোরানের যে পারাটা তার ছুটে গেছে, সাতাশে রমজানের পর কোনো একজন হাফেজকে ইমাম হিসেবে রেখে ঐ পারাটা তিলাওয়াত করে নামাজ আদায় করতে পারেন।"

বিবিসি বাংলায় আজকের আরো খবর: