সাকিব আল হাসান: দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলালেন বাংলাদেশের তারকা, রবিবার দলের সাথে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়বেন

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, আগামীকাল (রবিবার) রাতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাথে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন সাকিব আল হাসান এবং সেখানে সব ফরম্যাটেই তিনি খেলবেন।
মিস্টার হাসান যখন বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর সামনে এ মন্তব্য করেন তখন তার সাথেই ছিলেন সাকিব। বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসসহ কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনটি ওডিআই ও দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে।
যদিও কয়েকদিন আগে একটি মুঠোফোন কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনের কাজে দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সাথে খেলার সময় মাঠে নিজেকে 'প্যাসেঞ্জার' মনে হয়েছে এবং তার মনে হয় না তিনি 'আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত'।
এরপর ছয়ই মার্চ সাকিবের ছুটি মঞ্জুর করে বোর্ড। কিন্তু এখন বোর্ড সভাপতি বলছেন যে ঢাকায় ফেরার পর বৃহস্পতিবার তাকে ফোন করে সাকিব জানান যে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে যেতে আগ্রহী।
"আমি তাকে আরও চিন্তা ভাবনা করে আজ বোর্ডে আসতে বলেছিলাম। সে এসেছে এবং পুরো প্রোগ্রাম নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সবাই মিলে বসেছি," বলছিলেন মিস্টার হাসান।
তবে ছুটি চাওয়ার আগে সাকিব বলেছিলেন তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত 'ফিল করছেন না।'
যে কারণে তিনি আগে যেতে চান নি সেই সমস্যা মিটেছে কি-না একজন সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, " কোন জিনিস ১/২ দিনে চেঞ্জ করা সম্ভব না । এখন বেটার। যেহেতু পুরো ক্লিয়ার পিকচার আছে আমার সামনে। সাউথ আফ্রিকায় ন্যাচারাল বিউটির সামনে গেলে হয়তো ভালো হবে। আশা করি ভালো কিছু হবে। দলের জন্য বেটার পারফর্ম করতে পারবো"।

ছবির উৎস, Getty Images
বিসিবি সভাপতি বলেন লম্বা আলোচনার পর সাকিব তাকে নিশ্চিত করেছেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় সব ফরম্যাটেই খেলতে চান তিনি।
"পরশুদিন বলেছে সে মেন্টালি ডিস্টার্বড। আমরা সবাই কখনো না কখনো এটা হতে পারি। তার সেজন্য সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা টোটাল প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা নিয়ে স্পেকুলেশেনের কিছু নেই। বোর্ডও কাউকে বাদ রেখে নতুনকে সুযোগ দিতে পারে। দিস ইজ পার্ট অব দা গেম"।
তিনি বলেন, "তবে সাকিব যেহেতু বলেছে সে মেন্টালি ডিস্টার্বড, সেজন্য এ সময় তার পাশে থাকা উচিত। সাকিব, তামিম, মাশরাফি, রিয়াদ, মুশফিক অনেক কিছু করেছে দেশের জন্য। আমরা তাদের পাশে আছি এবং সামনেও থাকবো"।
বোর্ড সভাপতি বলেন সাকিব আল হাসান দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছে কাল রাতে। তিনটা ওডিআই ও দুটি টেস্ট। কিন্তু কোন একটায় যদি সে না খেলে সেটা নিয়ে হুলুস্থুলের কিছু নেই। তবে সে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে খেলতে চাইলে ওয়েলকাম করা হবে।
" দক্ষিণ আফ্রিকা কঠিন প্রতিপক্ষ। ভারতের মতো দল সেখানে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়ে এসেছে। আমরা আশা করছি টিম ভালো খেলুক। খেলতে খেলতেই ভালো খেলবে। তবে আমি নিশ্চিত সাকিবের অন্তর্ভুক্তি আমি নিশ্চিত টিম স্পিরিট বাড়াবে"।
'বিসিবি ডোন্ট কেয়ার'
এর আগে সাকিবআল হাসানের খেলতে না চাওয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন গত মঙ্গলবার বলেন, যদি খেলতে না চায়, তবে সাকিবকে অনুরোধ করার কিছু নেই।
তিনি বলেন, "সাকিব যদি খেলতে না চায়, বিসিবি ডোন্ট কেয়ার।"
"কেউ যদি খেলতে না চায় তাঁর জন্য বাংলাদেশ দল বসে থাকবে এটা ভুল চিন্তা। ওকে রিকোয়েস্ট করার কিছুই নেই, ও তো আমাদের এমপ্লয়ি।"
সাকিবের এখন থামার সময় হয়েছে বলছেন বলে মনে করছেন খালেদ মাহমুদ সুজন, "সাকিব বিসিবি চালাতে পারে না। সে বলতে পারে না, আমি আজ খেলবো কাল খেলবো না।"
সাকিব ছাড়াও এই মুহূর্তে তামিম ইকবাল ছয় মাসের জন্য টি-টোয়েন্টি থেকে বিরতি নিয়েছেন এবং মুস্তাফিজুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যতদিন বায়ো-বাবল থাকবে তিনি টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না।
সাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন না।
খালেদ মাহমুদ সুজনের মতে, "একজন খেলোয়াড় যখন একটানা বায়ো-বাবলের মধ্যে থাকে, তখন সে ব্রেক চাইতেই পারে। তবে সাকিব এটা আরো আগেই বলতে পারতো।"
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বিমানে উঠতে যখন তিনদিনও বাকি নেই, তখন সাকিব আল হাসানের গণমাধ্যমে বক্তব্য তোলপাড় ফেলে দেয় ক্রিকেট পাড়ায়।
সাকিব রবিবার রাতে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ক্রিকেট খেলার মতো মানসিক ও শারীরিক অবস্থায় নেই।
তবে এটা যে প্রথমবার নয় সেটাও মনে করিয়ে দিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন, "সাকিব যে এইরকম, সেটা তো আমরা সবাই জানি। তবে এটা মেনে নেয়াটা অবশ্যই ঠিক না। সাকিব-তামিম-রিয়াদ-মুশফিক ওরা তো ছোটবেলা থেকে পাইপ-লাইনে থেকেই এতো বড় ক্রিকেটার হয়েছে।"
এর আগে গত রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনও কড়া ভাষায় সাকিব আল হাসানের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, "যদি এই সময়ে আইপিএল থাকতো তবে কি সে ছুটি নিতো"?
খালেদ মাহমুদ সুজন ও নাজমুল হাসান পাপনের মন্তব্য নিয়ে সাকিবের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন "নো কমেন্টস"।
বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিতে দুবাই যাওয়ার আগে ঢাকার বিমানবন্দরে গত রবিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সাকিব আল হাসান।
এসময় তিনি যেসব মন্তব্য করেন তার অনেকগুলোই ছিলো পরস্পরবিরোধী।
প্রথমে তিনি বলেছেন "দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথেই যাবো" - কিন্তু পরে বলেছেন "এমনও হতে পারে ওয়ানডে না খেলে টেস্ট খেলতে পারেন"।
আবার একই সাথে এটাও বলেছেন, তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের নয়, অন্তত ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত অর্থাৎ নয় মাসের ছুটি চেয়েছেন বোর্ডের কাছে।
আবার বলেছেন, তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত 'ফিল করছেন না।'
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে- ২০১৯ সালে তিনি নিউজিল্যান্ড সফরে যাননি, ২০২০ সালে ছিল নিষেধাজ্ঞা, ২০২১ সালে সাকিব গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলেননি তিনি।
এরপর ২০২২ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে নাম সরিয়ে নেন সাকিব আল হাসান । এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সাকিব আল হাসান মত বদলে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিলেন।








