আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
রাজধানী কিয়েভসহ পূর্ব ও উত্তর ইউক্রেনে রাশিয়া তাদের টার্গেটগুলো দখল করতে লড়াই করলেও তাদের অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ ইউক্রেনে সাফল্য পাওয়াটাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়াও মনে করছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলই হবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতোমধ্যেই কিছু শহর তারা দখল করেছে। সবশেষ তারা জেপোরেঝিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও দখল করে নিয়েছে।
দক্ষিণে তাদের এই অভিযান শুরু হয়েছে মূলত ক্রাইমিয়া দিয়ে। ২০১৪ সালে এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলো রাশিয়া। এখন সেখানে রাশিয়ার বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
বুধবার পেন্টাগন মুখপাত্র জন কিরবিও বলেছেন যে ক্রাইমিয়াতে রাশিয়ার বড় ধরনের অবস্থান আছে।
রুশ সেনারা ক্রাইমিয়ার দিক থেকেই ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে এবং ধীরে ধীরে তারা পূর্বদিকে মারিয়োপল ও পশ্চিম দিকে ওডেসার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এর মাধ্যমে তারা ইউক্রেনের সমুদ্র যোগাযোগ বন্ধের হুমকি দিয়েছে যা হবে দেশটির অর্থনীতির জন্য চরম ক্ষতিকর।
"কৌশলগত দিক থেকে ওই অঞ্চলে বড় বন্দর আছে যা পুতিন বাহিনীকে সাগর পথে ইউক্রেনের জন্য আসা সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সহায়তা করবে," বলছিলেন ডিকিনসন কলেজের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ প্রফেসর কার্ল কুয়ালস।
ক্রাইমিয়ার পূর্ব দিকে রুশ বাহিনী মারিয়োপলের দিকে যাচ্ছে। শহরটিতে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ বাস করে। ইতোমধ্যেই পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সেখানে বন্ধ হয়ে গেছে বলে অধিবাসীরা জানিয়েছেন।
মারিয়োপলের পতন হলে এটি রাশিয়াকে ইউক্রেনের একটি বড় বন্দরের নিয়ন্ত্রণ পেতে সহায়তা করবে। একই সাথে এটি ক্রাইমিয়া ও রাশিয়া সমর্থিত লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের সাথে একটি সড়ক করিডোর প্রতিষ্ঠা করবে।
এতে করে রাশিয়া থেকে সরাসরি ক্রাইমিয়াতে মালামাল ও মানুষ পরিবহন সহজতর হবে যা রাশিয়া ২০১৪ সাল থেকেই পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
এখন এই উপত্যকার সাথে রাশিয়ার যোগসূত্র হিসেবে আছে একটি মাত্র সেতু যা অনেক অর্থ ব্যয় করে তৈরি করেছে রাশিয়া।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল
মারিয়োপলের উত্তর পশ্চিমে জেপোরেঝিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। স্বাভাবিক সময়ে এই কেন্দ্রই ইউক্রেনের বিশ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
সে কারণে এ কেন্দ্রটি দখলের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলো।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী খেরসন শহরও দখল করে নিয়েছে যা এমন একটি জায়গায় যেখানে দানিয়ুব নদী গিয়ে কৃষ্ণসাগরে মিশেছে। এ স্থানটিকে রাশিয়ান সেনাদের ইউক্রেনের আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউটের ডঃ জ্যাক ওয়াটলিং বিবিসিকে বলেছেন, "তারা এখন দানিয়ুব নদীর পশ্চিম দিকে এবং ওডেসার দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম।"
যদি রাশিয়া আরও পশ্চিমে ওডেসা এবং তারপরেও অগ্রসর হতে পারে তাহলে তা শুধু ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকেই বিচ্ছিন্ন করবে না বরং পুরো দেশটিকেই তারা তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলতে পারবে।
"তারা ওডেসার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে সেখান থেকে পুরো ইউক্রেনের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারবে," বলছিলেন পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাস, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিষয়ক প্রফেসর ক্যাথরিন ওয়ানার।
নভরোশিয়া বা নতুন রাশিয়া
দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসনের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। ১৮শতকে অটোমানদের সাথে অনেকগুলো যুদ্ধের পর রাশিয়ার সম্রাট ইউক্রেনের ওডেসা থেকে শুরু করে লুহানস্কের দক্ষিণ থেকে পূর্ব দিক পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলো।
এটাই পরিচিত হয়ে উঠেছিলো নভরোশিয়া বা নতুন রাশিয়া হিসেবে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে নভরোশিয়ার বড় অংশের নামই ছিলো ইউক্রেনিয়ান সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক হিসেবে যার পরে বর্তমান ইউক্রেনে রূপ নেয়।
২০১৪ সালে ক্রাইমিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন যে বিভিন্ন কারণে নভরোশিয়ার ভূখণ্ড রাশিয়া হারালেও এর জনগণ সেখানেই আছে।
এটিকে রাশিয়ার ভূমি হিসেবে যে মিথলোজি আছে সেটিকে মিস্টার পুতিন প্রমোট করছিলেনে বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর কুয়ালস।
তিনি বলেন, "এটি রাশিয়া সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো কিন্তু রাশিয়ানরা সেখানে বাস করতো না। বরং রাশিয়ানদের চেয়ে রোমানিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা সেখানে বেশি ছিলো।"
তবে ধারনাটি হারিয়ে যায়নি। লুহানস্ক ও দ্যোনেৎস্ক-এর স্বঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নভরোশিয়াকেই আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।
তবে ইউক্রেনের ভূমি নিয়ে মিস্টার পুতিনের দাবিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন প্রফেসর ওয়ানার।