আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ: স্বৈরশাসকের পতন হবে - ভ্লাদিমির পুতিনকে জো বাইডেনের হুশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন স্বৈরশাসকের পতন হবে।
কংগ্রেসে দেয়া তার বার্ষিক স্টেট অফ দি ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব কিভাবে পাল্টা আঘাত হানবে, সে ব্যাপারে ভুল হিসেব করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
- খারকিভের পতন, আকাশ থেকে নামছে রুশ ছত্রীসেনারা - বিবিসি বাংলার লাইভ আপডেট
- ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে পারমাণবিক বোমা হামলার ঝুঁকি আসলে কতটা
জো বাইডেন কংগ্রেস সদস্যদের বলেছেন, ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধ রীতিমতো পূর্বপরিকল্পিত। কোন ধরনের প্ররোচনা ছাড়া তিনি হামলা চালিয়েছেন। তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
"তিনি ভেবেছেন পশ্চিমা বিশ্ব এবং নেটো এর জবাব দেবে না। এবং তিনি ভেবেছেন তিনি আমাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করবেন।"
"কিন্তু তিনি ভুল ভেবেছেন। আমরা প্রস্তুত আছি।"
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার পর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমাও রাশিয়ার জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নতুন অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, "তার কোন ধারণা নেই সামনে কি আসতে যাচ্ছে।"
তার ভাষণের সময় কংগ্রেসে অতিথিদের আসনে বসা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওকসানা মারকারোভা। এক পর্যায়ে কংগ্রেস সদস্যারা সবাই উঠে দাড়িয়ে তাকে সম্মান জানান।
জো বাইডেন বলেছেন, "দমন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জয় হবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বছরে একবার কংগ্রেসে ভাষণ দেন। যাকে বলা হয় 'স্টেট অফ দি ইউনিয়ন স্পিচ"।
তিনি যখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়ছিল ক্যাপিটল হিল।
যদিও জরীপে দেখা যাচ্ছে মি. বাইডেনের জনপ্রিয়তা এই মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই পড়তির দিকে। ৪০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন তিনি তার কাজ ঠিকভাবেই করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আফগানিস্তান থেকে যেরকম বিশৃঙ্খলভাবে সেনা প্রত্যাহার হয়েছে, সেটি তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয়।
এবছর তার ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, যেটি এখন জো বাইডেনের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সংকট।
তার বক্তৃতার কয়েক ঘন্টা আগে মি. বাইডেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কির সাথে কথা বলেছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ান হামলার ছয়দিনেরা মাথায় এসে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে সাহায্য করতে পারে সে ব্যাপারে আলাপ করেছেন তিনি।
যুদ্ধে ষষ্ঠ দিন শেষে রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিছু স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে বেসামরিক লোকজনকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রায় ৬৫ কিমি একটি দীর্ঘ সামরিক বহর কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর খারকিভের পতনের পর শহরটিতে আকাশ থেকে রুশ ছত্রীসেনারা নেমে আসছে, এমন একটি খবর নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, খারকিভের বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই আকাশ থেকে হামলা চালানো শুরু হয়।