এডিটার'স মেইলবক্স: ওসি প্রদীপ, বগুড়ার বেকার আর তারকাদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

এ সপ্তাহের সব চেয়ে বড় খবর কী ছিল, তা নিয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। হ্যাঁ, আমি বলছি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানকে হত্যার দায়ে দু'জন সিনিয়র পুলিশ অফিসারের মৃত্যুদণ্ডের রায়-এর কথা। দু'হাজার কুড়ি সালের জুলাই মাসের সেই হত্যাকাণ্ড তখন সারা দেশে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

সে বিষয়ে প্রথমে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

''পুলিশ বা র‌্যাবের হাতে ইতিপূর্বে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে অনেক নিরপরাধ মানুষ খুন হয়েছে, এই রায় কি তা প্রমাণ করে না? এসব কথিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কি ভুক্তভোগীরা আশা করতে পারে না?

''এই রায় কি সাধারণ মানুষের প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঠিক আইন প্রয়োগে সজাগ করবে না? দেশে গুম খুনের রাজনীতি কি বন্ধ হবে না?''

এই রায়টি প্রমাণ করেছে যে কক্সবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস এবং তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা বেআইনি ভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছিল।

তবে এই রায়ের সূত্র ধরে এই প্রশ্নটি অবশ্যই করা যায় যে, মাদক ব্যবসা দমনের নামে কক্সবাজার এলাকায় যে সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত আর বিচার কেন হবে না? টেকনাফের ওয়ার্ড কমিশনার একরামুল হকের হত্যাকাণ্ড সেরকমই একটি ঘটনা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পুলিশ কি সচেতন হবে?

এই রায়ের ফলে পুলিশের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে কি না, সে প্রশ্ন করে লিখেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী :

''বাংলাদেশের বেশির ভাগ অপকর্মের সাথে পুলিশ জড়িত। হত্যা, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার,গুম, সাধারণ মামলা দিতে গেলে টাকা আদায়, গাড়ির লাইসেন্স দেখার নামে ঘুষ গ্রহণ, এগুলো সব পুলিশ বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হয়।

''অথচ এরা ভুলে যায় যে এরা জনগণের টাকায় চলে। পুলিশ শব্দের অর্থই তারা ভুলে যায়। এরা মনে করে যে এদের বিচার হবে না। এই বিচার এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও পুলিশ বাহিনী সচেতন হবে কিনা সেটা দেখার বিষয়।''

আপনার কথায় বোঝা যাচ্ছে মিঃ চৌধুরী, যে আপনি চাইছেন এই রায়ের ফলে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালনে আরো সচেতন হবে, বিশেষ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডর মত কাজ থেকে বিরত থাকবে।

জবাবদিহিতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে শুধু পুলিশ সদস্য বা র‍্যাব না, নীতিনির্ধারকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

বেকার কেন ভাত চায়?

আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা একটি প্রতিবেদনের বিষয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে লিম্পা দে:

''আলমগির কবির নামের এক উচ্চ শিক্ষিতের দু'বেলা খাওয়ার দাবিতে প্রাইভেট পড়ানোর একটা পোস্টার বিবিসির ওয়েবসাইটে দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। এমন অদ্ভুত দাবি সম্বলিত পোস্টার, আবার সেই পোস্টার বিবিসির ওয়েবসাইটে। হাসবো না কাঁদবো?

''এই কাজটি করে লোকটি বগুড়াকে ছোট করেছে আমার দেশকে ছোট করেছে। এই ছেলের আসল উদ্দেশ্য বের করা দরকার।''

বলেন কী! এখানে হাসার কী আছে, কাঁদারই বা কী আছে লিম্পা দে! আমার তো মনে হয় আলমগির কবির তার উদ্দেশ্য তার পোস্টারেই ব্যক্ত করেছেন। তিনি বেকার, চাকুরি পাচ্ছেন না। তিনি কত মরিয়া, সেটা প্রকাশ করার জন্য তিনি এ'ভাষা বেছে নিয়েছেন।

আমাদের ধারণা হয়েছিল বিবিসি বাংলার পাঠক মিঃ কবিরের কাহিনী জানতে আগ্রহী হবে। এবং আমাদের ধারণাটাই সত্য প্রমাণিত হল, কারণ এই প্রতিবেদন দু'দিনে প্রায় এক লক্ষ বার পড়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

আরো পড়ুন:

বগুড়ার আলমগির বাস্তবতার প্রতিফলন

তবে সবাই আলমগির কবিরের প্রচারকে হাস্যকর মনে করছেন না। তাকে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দেখছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল, যিনি ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা:

'' বগুড়ার আলমগিরের অবস্থা বর্তমান বাস্তবতার এক চরম সত্য উদাহরণ। একমাত্র চাকুরি প্রত্যাশী বেকার ছাড়া এটা কারো পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

''দেখেন, বেকারের অসহায়ত্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং করোনা মহামারির কারণে কয়েক বছর থেকে বেকারত্বের হার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় তা বর্ণনাতীত। এই বছরের শুরুতেই আবার সকল ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্য চাকুরির পরীক্ষাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

''দু'হাজার সালের মার্চে যাদের চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সীমা শেষ হয়ে গেছিলো তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই তিন বছর পর যদি তারা চাকুরিতে প্রবেশের সুযোগ পায়, তাহলে তাদের রিটায়ারমেন্টের বয়সের কী হবে?

''বেকারত্বের ভয়াবহ এই অবস্থা তারাই বুঝে যারা এর ভুক্তভোগী।''

আপনার শেষ বাক্যটি বাস্তবতাই তুলে ধরেছে মিঃ শামীম উদ্দিন। তবে চাকরির বয়সের বিষয়টি ভিন্ন ভাবেও দেখা যায়।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা আছে সরকারি চাকরিতে, কিন্তু সেটাই তো একমাত্র পথ হতে পারে না। সরকারি চাকরির বাইরে তো বাংলাদেশে প্রচুর কর্মসংস্থান আছে - কৃষি, শিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সেবা খাত, সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি।

লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত মানুষ সরকারি চাকরির বাইরে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। সরকারি চাকরির বয়স সীমা কেন আপনাকে সীমাবদ্ধ করে দেবে?

এবারে আসি চলতি সপ্তাহের সব চেয়ে আলোচিত নির্বাচনের বিষয়ে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হঠাৎ করেই সবার নজর কেড়েছিল, এবং ফলাফল বের হবার পর তা মনে হয় কেলেঙ্কারির পর্যায়ে চলে গেছে।

সে বিষয়ে লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

'' প্রতিবছরই দেশের পেশাজীবী সংগঠনে নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনের উত্তাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না । কিন্তু এবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সবার মধ্যে আগ্রহ-উত্তাপ দেখা গেছে।

''মনে হচ্ছিল, জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের হাওয়া উড়ছে।

''চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিনেই অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচনও হয়েছে। সেটা নিয়ে কিন্তু এত আলোচনা হয়নি। তাহলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে এত আলোচনা কেন?''

কারণটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না মিঃ আহমেদ। এটা হতে পারে যে, ইলিয়াস কাঞ্চন আর নিপুন আক্তারের মত তারকারা যখন প্রার্থী, তখন মানুষের মনে আরো বেশি আগ্রহ জন্মায়।

তবে ভোটা-ভুটির পরে যা হল, তা নিয়ে আরো আলোচনা আর বিতর্ক চলছে। সে দিক নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''নির্বাচনে একজন প্রার্থী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ করেছেন। আরেকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভোট গণনা, পুণঃগণনা নিয়েও অনেক নাটকীয়তা হয়েছে।

''উক্ত নির্বাচনে যেসব নাটকীয় ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে, আমার মনে হয় তা নিয়ে আরেকটি নাটক কিংবা সিনেমা তৈরি করা সম্ভব। সিনেমা দেখে মানুষ অনেক কিছু শিখে, নায়ক নায়িকাদের অনুসরণ ও অনুকরণ করে।

''কিন্তু যারা সিনেমা তৈরি করে, তাদের নির্বাচন যদি নাটকীয়তা ও বিতর্কে ভরপুর থাকে, তাহলে মানুষ ভবিষ্যতে তাদের কাছে কি শিখবে? এটা দর্শক শ্রোতাদের কাছে নিশ্চয়ই নেতিবাচক ভুল বার্তা দিবে!''

নির্বাচনে পরাজয় না মেনে অপর পক্ষকে দোষারোপ করার যে প্রবণতা দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে চলে আসছে, এই বিতর্ক তারই ধারাবাহিকতা বলেই মনে হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হত, তখনও দেখা যেত পরাজিত দল কারচুপির অভিযোগ আনতো।

তবে সিনেমা দেখে মানুষ অনেক কিছু শেখে, আপনার এই কথার সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করবো মিঃ রহমান। মানুষ পরিবার থেকে শেখে, স্কুল-কলেজে শেখে, এমনকি টেলিভিশন, রেডিও আর খবরের কাগজ থেকেও শেখে।

কিন্তু সিনেমা বা চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের কাছ থেকে খুব একটা কিছু শেখে বলে আমার মনে হয়না।

এবারে আমাদের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ। বিবিসি বাংলার সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং এ নারী এবং পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্ব নিয়ে যে রিপোর্ট গত সোমবার প্রচার করা হয়েছে, তার নিন্দা করে লিখেছেন সাইফুল আলম খান, তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন তা বলেননি:

''আমাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় অবস্থায় এটি মানানসই নয়। সাধারণ বন্ধুত্ব এক বিষয়, আর বাসায় গিয়ে আড্ডা দেয়া, হাত ধরাধরি করা ইত্যাদি ইত্যাদি অন্য বিষয়। এমনিতেই এগুলো আমাদের সমাজ বাস্তবতায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। এবং এই সাধারণ বন্ধুত্বে অসাধারণ ঘটনা কম ঘটে না।

বিবিসি আমার প্রিয় এবং বস্তুনিষ্ঠ একটি সংবাদ মাধ্যম। কিন্তু এই রিপোর্ট খোলাখুলিভাবে একটি মতাদর্শ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আশা করি বিবিসি এদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ'ধরনের প্ররোচনামূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকবে।''

আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন মিঃ খান, আমাদের রিপোর্ট এবং আলোচনাতেও বলা হয়েছে যে ছেলে-মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব সমাজে ভাল চোখে দেখা হয় না। এই অনুষ্ঠানে তার কারণটি খোঁজা হয়েছে।

একই সাথে এ'ধরনের বন্ধুত্ব হওয়া স্বাভাবিক কি না, বা সমাজ সেটা গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এখানে প্ররোচনামূলক কিছু ছিল না এবং দেশের সমাজ বা সংস্কৃতির প্রতি কোন অসম্মান দেখানো হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

তবে এটা ঠিক, বিবিসি বাংলায় আমরা সমাজের অনেক ঘটনা বা ইস্যু নিয়ে আসি যেগুলো অনেকে স্পর্শকাতর মনে করেন। কেন করি? কারণ সেগুলো সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে এবং অনেক মানুষের অজানা সংগ্রাম, ভোগান্তির কাহিনী অন্যদের গোচরে নিয়ে আসে।

অভিযোগ থেকে আসি হাল্কা একটু প্রশংসায়। গত মঙ্গলবার রেডিওতে পরিক্রমায় বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।

তাঁর সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''গত মঙ্গলবার এ'সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে রেজা কিবরিয়ার খোলামেলা আলাপচারিতা শুনলাম। পরে তার সাক্ষাৎকারটি বিবিসি বাংলার ফেসবুকে দেওয়া লিংক থেকে দেখলামও।

''তার রাজনৈতিক দর্শন সহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মিঃ কিবরিয়া। গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রশ্নের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য বের করে আনার জন্য আকবর হোসেনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

''তবে এখানে একটা বিষয় আমি সবিনয়ে জানতে চাইব, রেজা কিবরিয়ার সাক্ষাৎকারটি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে কেন ধারণ করা হয়েছে, বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?''

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন মিঃ সরদার, এই ভিডিও সাক্ষাৎকারগুলোর যেটাই আমাদের ঢাকা অফিসে করা হয়েছে, সেটাতেই সম্পূর্ণ কালো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। আমাদের অফিসের সেই কক্ষটি কোন স্টুডিও না, সেখানে কোন সেট নেই।

আমরা কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে কোন কৃত্রিম ব্যাকগ্রাউন্ডও সৃষ্টি করতে চাইনি। সেজন্য কালো পর্দা দিয়ে দেওয়াল ঢেকে গম্ভীর একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এর আলাদা কোন তাৎপর্য নেই। আর আমি আপনার শুভেচ্ছা আকবরকে পৌঁছে দেব।

সম্প্রতি রুশ-ইউক্রেন সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু মোয়াজ্জেম হোসেনের লেখা সেই প্রতিবেদন অন্যান্য মিডিয়া হুবহু প্রকাশ করছে বলে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

''এত সুন্দর একটি প্রতিবেদন বিবিসি বাংলায় পড়ার ঠিক কিছু সময় পরে একই শিরোনামে বেশ কয়েকটি বেসরকারি চ্যানেলের ওয়েব সাইট ও তাদের ফেসবুক পাতায় হুবহু কপি করে ছাপানো প্রতিবেদনটি দেখতে পেলাম।

''এক্ষেত্রে রিপোর্টটি কপি করে প্রকাশ করা হলেও প্রতিবেদনকারীর নাম উল্লেখ করা ছিল না। উপরন্তু বিবিসি বাংলার নামটিও অনেক ছোট করে লেখা। আর তাদের ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা এই প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলার থেকেও পড়ছে হাজার হাজার লাইক কমেন্ট রিয়্যাকশন।

''অর্থাৎ মানুষ ভাবছে প্রতিবেদনটি তাদের করা। এক্ষেত্রে বিবিসি বাংলার নিউজ হুবহু কপি করে তাদের ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করা কি বিবিসি বাংলার কপি রাইট লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে না? নাকি বিবিসি নিজেও তাদের কাছ থেকে নিউজ সংগ্রহ করে বিধায় বিবিসি বাংলার তাতে কোন অসুবিধে হয় না?''

অসুবিধা অবশ্যই হয় মিঃ চৌধুরী, এবং এগুলো আমাদের কপি রাইটের লঙ্ঘন বটেই। কিন্তু তারপরও আমাদের অনেক প্রতিবেদন এভাবেই বাংলাদেশের ছোট-বড় অনেক ওয়েবসাইট এবং পোর্টাল ব্যবহার করে থাকে।

বড় সাইটগুলো সাধারণত বিবিসিকে ক্রেডিট দেয়। তবে কিছু কিছু সাইট প্রতিবেদনের ওপরে 'নিজস্ব ডেস্ক' শব্দগুলো জুড়ে দেয় যেটা মোটেই সৎ না, কারণ লেখাটা হুবহু ছাপা হয়। এগুলো বিনা অনুমতিতে করা হয়, যেটা অবশ্যই কপি রাইটের লঙ্ঘন।

কিন্তু আমরা কখনোই অন্য মিডিয়ার কোন রিপোর্ট হুবহু ছেপে দেই না, এমনকি ক্রেডিট দিয়েও আমাদের পাতায় প্রকাশ করি না। কাজেই এখানে আমাদের সাথে কোন তুলনা হতে পারে না।

আমাদের অনুষ্ঠানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে। সে বিষয় লিখেছেন সাতক্ষীরার তালা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''সম্প্রতি এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে। আমি এটাকে ইতিবাচক মনে করছি। কারণ বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ব্যাপক নারী নিয়োগ হচ্ছে।

''মহিলাদের এই সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নারী শিক্ষার প্রতি অভিভাবক সচেতন। ফলে অল্পবয়সী মেয়ের বিয়ে যেমন কমেছে, তাদের অসময়ে শ্রম বিক্রিও কমেছে।

আমি বরং সরকারকে ধন্যবাদ দিব তারা মহিলাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার দিকে আন্তরিক হয়েছে। যার ফল গার্মেন্টসে মহিলা শ্রমিক কমে গিয়েছে।''

আমাদের অনুষ্ঠানে কিন্তু ভিন্ন একটি চিত্র বেরিয়ে এসেছে মিস আক্তার। বাংলাদেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতি এবং তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে আপনি যা বলছেন, তা অবশ্যই সঠিক।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে যে পরিবর্তন হচ্ছে, বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে, সে কারণেই পোশাক শিল্পে নারীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আমাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত আরেকটি বিষয় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপ । সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''মাত্র এক বছরেই ১০১জন বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহনন সত্যিই বিবেককে নাড়া দেওয়ার মত ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে, যা কিছু সময়ের জন্য আমাকে আমার ক্যাম্পাস জীবনে নিয়ে গিয়েছিল।

''সত্যিই তো, গ্রাম থেকে একজন সহজ সরল মানুষ কে নিয়ে ঠাট্টার কতই না উপজীব্য পাওয়া যায়, যা ভিকটিমকে মৃত্যুর মুখে পর্যন্ত ঠেলে দিতে পারে। তাছাড়া হতাশা, বিষণ্ণতা, তারপর মানসিক সমস্যা, এগুলো কি বাংলাদেশে আদৌ সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়?

''কারো মানসিক সমস্যা হলে তাকে পাগল বানাতে একটুও সময় নিতে চাইনা আমরা। ফলে আত্মহত্যা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে না, এটা ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে।''

নির্মম একটি সত্য কথাই বলেছেন মিঃ সাঈদ। বাংলাদেশে মনে হয় মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। কারও জীবনে শারীরিক বা মানসিক কোন বিপর্যয় আসলে, তার চিকিৎসার জন্য ঔষধ খোঁজা হয়, কিন্তু কাউন্সেলিং নিয়ে ভাবাই হয় না।

হয়তো সময় মত কাউন্সেলিং পেলে ঐ ১০১জনের অনেকেই আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতেন, অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের এভাবে হারাতো না।

আমাদের অনুষ্ঠানে কী ছিল, তা থেকে যাই অনুষ্ঠানে কী নেই, সে দিকে। লিখেছেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে রুমানা আক্তার শিউলি:

''বিবিসি বাংলার নিউজে আমি খুব খেয়াল করেছি যে, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের নিউজ কম। কালেভদ্রে হয়তো নিউজ হয়। এর কারণ কি? এরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল এবং সুশাসনের দেশ তাই?''

কথাটা পুরোপুরি ঠিক বলেননি মিস আক্তার। মিয়ানমার নিয়ে আমাদের পরিবেশনায় অনেক কিছু থাকে, রেডিও রিপোর্ট থেকে শুরু করে ভিডিও। রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ নিয়ে প্রচুর রিপোর্টিং হয়েছে।

নেপাল নিয়েও টুকিটাকি খবর থাকে। তবে ভুটান নিয়ে খুব কমই থাকে, কারণ এত ছোট দেশে খবর করার মত ঘটনা খুব একটা থাকে না।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

পলাশ চন্দ্র রায়, বোদা, পঞ্চগড়।

দিপায়ন মণ্ডল, তালা, সাতক্ষীরা।

মনিরা আক্তার লিখি, কেশবপুর, যশোর।

গাজী মোমিন উদ্দীন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।