`ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই` বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচিত বগুড়ার আলমগীর চাকরি পেলেন

    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে বগুড়ার মো. আলমগীর কবির নামে যে তরুণ 'শুধুমাত্র দু'বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই' বলে বিজ্ঞাপন সাটিয়ে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছেন, বুধবার তাকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান চাকরি দিয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, চাকরি না পেয়ে হতাশা থেকে মি কবির এ ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন এবং তার কোন অপরাধের রেকর্ড তারা পাননি।

বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তিনি।

ফলে তার এমন বিজ্ঞাপনের পর এ নিয়ে গত কদিন ধরে নানা আলোচনা চলছিল।

এ প্রেক্ষাপটে বগুড়া জেলার পুলিশের কর্মকর্তারা বুধবার আলমগীর কবিরকে ডেকে নিয়ে সকাল দশটা থেকে কয়েক ঘন্টা ধরে তার সাথে কথা বলেন।

আরও পড়ুন:

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেছেন, এই কথাবার্তাায় তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সম্মানজনক চাকরি না পাওয়ার হতাশা এবং অভাব অনটন থেকে আলমগীর কবির এই বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন।

"আমরা তাকে আমাদের কার্যালয়ে ডেকে এনে তার বিষয়গুলো জানতে চাই। তার পেছনে কোনো ইন্ধন আছে কিনা, কোনো প্ররোচণা আছে কিনা তা জানতে চাই," বলেন পুলিশ সুপার।

তিনি আরও বলেন, "তার (আলমগীর কবির) সাথে কথা বলে আমরা জানতে পারি তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো সম্মানজনক চাকরি পাচ্ছিলেন না। এছাড়া সরকারি চাকরিতেও তার বয়স শেষ হয়ে গেছে।"

"সেজন্য তার মধ্যে হতাশা এবং এক ধরনের মানসিক অবসাদ ছিল। সেকারণেই তিনি ওই ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন" বলেন বগুড়ার পুলিশের ঐ কর্মকর্তা।

বগুড়ার পুলিশের পক্ষ থেকে আলমগীর কবিরের অতীত কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

সেখানকার পুলিশ সুপার মি. চক্রবর্তী বলেছেন, আলমগীর কবিরের অপরাধের কোনো তথ্য তারা পাননি। সেজন্য তারা আলমগীর কবিরের চাকরির ব্যবস্থা করেন।

"যেহেতু তার অপরাধের কোনো তথ্য প্রমাণ আমরা পাইনি, সেকারণে আমরা মনে করেছি সম্মানজনক একটা চাকরি পেলে তার এই হতাশা এবং মানসিক অবসাদ দূর হবে" বলেন পুলিশ সুপার।

তিনি জানিয়েছেন, বড় অনেক প্রতিষ্ঠান চাকরি দেয়ার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করছিল।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মি: চক্রবর্তী বলেন, "এসিআই শিল্প প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বুধবার বগুড়ায় অবস্থান করছিলেন। তিনি আমাদের কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাকে আমরা তার চাকরির ব্যাপারে বললে তিনি একটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুযোগ দেয়ার কথা জানান।"

বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যারয়েই এসিআই গ্রুপের ঐ কর্মকর্তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন এবং সেই পরীক্ষায় আলমগীর কবির উত্তীর্ণ হন।

সেই পরীক্ষার ফলাফলের পরই আমগীর কবিরের হাতে নিয়োগপত্র হাতে দেয়া হয়।

আলমগীর কবিরকে প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আলমগীর কবিরের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।