আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইসলামিক স্টেট নেতা আবু ইব্রাহিম আল-কুরাইশি সিরিয়ায় মার্কিন অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন, বলছে আমেরিকা
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেছেন যে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক রাতভর অভিযানে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশি নিহত হয়েছেন।
তুরস্ক সীমান্তের কাছে আতমেহ এলাকায় একটি দোতলা বাড়ির ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়। এ বাড়িতে আল-কুরাইশি লুকিয়ে আছেন বলে আগেই নিশ্চিত তথ্য পেয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ আক্রমণের সবুজ সংকেত দেবার পর হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি অভিযানের অগ্রগতির ওপর নজর রাখছিলেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন - অভিযানের শুরুতে মি. আল-কুরাইশি একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন - যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
ঘটনাস্থলে প্রথম হাজির হওয়া ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন অভিযানের পর তারা সেখানে ১৩ জনের লাশ পেয়েছেন।
বিরোধীদের অধিকৃত আতমেহ-র উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় প্রায় মধ্যরাতে (রাত ১১টা জিএমটি) বেশ কয়েকটি আমেরিকান হেলিকপ্টার অবতরণ করে বলে খবরে জানা যায়। আতমেহ ইদলিব প্রদেশের উত্তরে এবং তুরস্ক সীমান্তের কাছে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে মার্কিন সৈন্যরা অপ্রত্যাশিতভাবে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল এবং আমেরিকান হেলিকপ্টারগুলো সাঁজোয়া যান থেকে ছোঁড়া বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের মুখে পড়ে।
হেলিকপ্টারগুলো স্থান ত্যাগের আগ পর্যন্ত দুঘণ্টা ধরে বন্দুকের গুলি ও গোলাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস খবর দিচ্ছে যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেবার পর একটি হেলিকপ্টার সেখানে ফেলে রেখে যায় মার্কিন সৈন্যরা। পরে সেটি মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়। অনলাইনে ওই বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করা হয়।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলছেন অভিযানের সাথে যুক্ত সব আমেরিকান সৈন্য নিরাপদে ফেরত গেছে।।
তিনি ঘোষণা করেছেন এই অভিযান "মার্কিন জনগণ এবং আমাদের মিত্রদের সুরক্ষা দেবে এবং পৃথিবী নিরাপদ বোধ করবে।"
ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠাতা আবুবকর আল-বাগদাদি নিহত হবার পর এটাকেই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত খবর:
আবু বকর আল-বাগদাদি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এক বিশেষ অভিযানের সময় প্রায় একইভাবে বিস্ফোরক বাঁধা ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজে এবং তিন সন্তান মারা যান।
আতমেহ-র দশ মাইল দূরে তার এক গোপন আস্তানায় মার্কিন বাহিনী ওই অভিযান চালায়।
হোয়াইট হাউসের নিচের টুইট বার্তায় দেখা যাচ্ছে সিরিয়ায় মার্কিন স্পেশাল বাহিনীর অভিযান দেখছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দলের সদস্যরা।
যে দোতলা ভবনটি লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় এএফপি বার্তা সংস্থার একজন সংবাদদাতা সেই ভবনটি দেখেছেন এবং বলছেন সেখানে তীব্র লড়াইয়ের চিহ্ণ দেখা যাচ্ছে। দেয়ালে রক্তের দাগ, ভাঙা জানালা, অগ্নিদগ্ধ ঘরের সিলিং এবং আংশিকভাবে ভেঙে পড়া ছাদ।
সিরিয়া সিভিল ডিফেন্স প্রতিরক্ষা বাহিনী যারা হোয়াইট হেলমেট নামেও পরিচিত, তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ওই ভবনে তাদের বাহিনীর প্রথম সদস্যরা পৌঁছয় ভোর সোয়া তিনটা নাগাদ এবং সেখান থেকে ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করে যার মধ্যে ছয়জন শিশু এবং চারজন নারী ছিল।
তারা আহত আর একটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করে, যার পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযানে মারা গেছে বলে জানাচ্ছে হোয়াইট হেলমেট।
তারা আরও বলেছে ওই শিশুট এবং আর একজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ওখানে কী হচ্ছে দেখার জন্য সংঘাতের সময় ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গেলে তিনি আহত হন।
মানাবধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও নিহতের সংখ্যা ১৩ বলে নিশ্চিত করেছে।