ট্রেনের ধাক্কায় চুরমার কার, নিহত তিনজন ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন

আজ সকালে দিনাজপুরে রেল ক্রসিং-এ দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন প্রাইভেটকার আরোহী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে রংপুর থেকে জয়পুরহাটে কেন যাচ্ছিলেন, গাড়ির চালক বেঁচে আছে কি নেই, গাড়ির মালিক কেন জানেন না তার গাড়ি ভাড়ায় দেয়া হয়েছে - এসব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যেভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটলো

ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরামপুরে আজ (বুধবার) ভোর ছটার দিকে। সেখানকার ঘোড়াঘাট রেল ক্রসিং-এর দিকে আসছিল ঢাকা থেকে রংপুরগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস।

ঠিক সেসময় রেল লাইনের উপরে উঠে পড়ে একটি নীল প্রাইভেট কার। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রাইভেট কারটিকে ছেচড়িয়ে নিয়ে যায় অনেক দুর। দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়িতে থাকা তিনজন। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত এসব তথ্য দিয়েছেন।

দড়ি, শিকল দিয়ে আটকানো রেল ক্রসিং

রেল ক্রসিং-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে লোহার রেল গেটটি নষ্ট রয়েছে।

"ট্রেন আসছে খবর পেয়ে আমি রেলক্রসিং আটকাতে শিকল ও দড়ি লাগিয়ে দিই। গত কয়েকদিন ধরে এটাই করা হচ্ছে। কারটির চালক সম্ভবত শীতের সকালের ঘন কুয়াশায় টাঙানো দড়ি দেখতে পাননি। কিন্তু রেললাইনের দুই পাশে তখন বেশ কিছু গাড়ি দাড়িয়ে গেছে। চালক পাশের একটু যায়গা দিয়ে গাড়ি টান দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এমন অবস্থায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।"

তিনি বলেন গাড়িটির সাথে ট্রেনের সংঘর্ষের আগ মুহূর্তে একজনকে গাড়ি থেকে নেমে তিনি পালিয়ে যেতে দেখেছেন।

"গাড়িটা লাইনের ওপরে ওঠার পর আমরা আশপাশের লোকজন চিৎকার করছিলাম। একজন গাড়ি থেকে পালালো। সে চালক না যাত্রী তা বুঝতে পারিনি। দুইজন গাড়ি থেকে কোন মতে লাইনের উপর নেমেছে। সেসময় ট্রেন এসে ধাক্কা দিয়েছে। আর একজন গাড়ির ভেতরেই ছিল।"

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন তারা

সুমন কুমার মহন্ত জানিয়েছেন মৃতদের সবার বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জে।

মৃত ব্যক্তিরা একটি গাড়ি ভাড়া করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আসা মৃত একজনের ফুপাত ভাই মোঃ ইউনুস আলী।

রংপুরে পরীক্ষা না দিয়ে কেন তারা জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন এখন সেই তদন্ত করছে সেখানকার রেল পুলিশ।

পার্বতীপুর রেল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, "ড্রাইভিং লাইসেন্স নেবার জন্য সব জেলায় ব্যবস্থা আছে। তারা নিজের জেলায় সেজন্য পরীক্ষা না দিয়ে কেন দিনাজপুর পার হয়ে জয়পুরহাট যাচ্ছিল সেটা এখন আমাদেরও প্রশ্ন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। রেল গেটের সমস্যাও তদন্ত করা হচ্ছে।"

গাড়ির চালক কোথায়?

ভাড়ায় দেয়া গাড়িটির মালিক সাইফুল ইসলাম বলছেন তিনি টেলিভিশনে খবর দেখে জেনেছেন তার গাড়িটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে যাতে তিনটি মানুষের প্রাণ গেছে।

তিনি বলছেন, "দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক বাড়িতে ফোন করেছে এবং এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমির ওর বাসায় গিয়েছিলাম। এটা আমার ব্যক্তিগত সুজুকি আল্টো গাড়ি। এতে কোন যাত্রী বহনের কথা না। গাড়িটা ড্রাইভারের বাসায় রাখা হতো।"

রেল পুলিশও বলতে পারছে না দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকের কী হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, "যারা মারা গেছেন তারা সবাই যাত্রীর আসনে বসা ছিলেন। চালক তাহলে কই গেল, সেটিও আমরা জানার চেষ্টা করছি।"