আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
'রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার অজুহাত পেতে ষড়যন্ত্র করছে'
রাশিয়া নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক হামলার নাটক সাজিয়ে ইউক্রেনে অভিযান চালানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রুশ এজেন্টরা এরকম 'সাজানো নাটকের' ষড়যন্ত্র করছে, যাতে এই অজুহাতে মস্কো ইউক্রেনে একটা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
ইউক্রেনকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য মার্কিন-রুশ আলোচনার এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ তুললো।
গতকাল শুক্রবার ইউক্রেনের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে যে সাইবার হামলা হয়েছে, তার জন্য ইউক্রেন রাশিয়াকে দোষারোপ করছে।
এসব ওয়েবসাইট অফলাইনে চলে যাওয়ার আগে সেখানে ''সবচেয়ে খারাপ অবস্থার জন্য প্রস্তুত হতে'' ইউক্রেনের মানুষকে সতর্ক করে দেয়া হয়।
তবে ইউক্রেনের এসব ওয়েবসাইট কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবার অনলাইনে ফিরে আসে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটো এই সাইবার হামলার নিন্দা করেছে এবং ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।
তবে এই হ্যাকিং এর বিষয়ে রাশিয়া কোন মন্তব্য করেনি।
অন্যান্য খবর:
পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কার্বি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার ভাষায় ''রুশ ষড়যন্ত্রের'' কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "রাশিয়া একদল লোককে নিয়োজিত করেছে এমন এক হামলা চালানোর জন্য, যেটিকে তাদের বিপক্ষের কাজ বলে মনে হবে। এই হামলা দেখে মনে হবে এটি বুঝি রাশিয়ার ওপর কিংবা ইউক্রেনের রুশভাষী মানুষের ওপর হামলা, যাতে করে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার একটা অজুহাত পায়।"
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন এসব রুশ এজেন্টদের শহর এলাকায় যুদ্ধের কলাকৌশল এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যাতে তারা রুশপন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নাশকতা চালাতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মলডোভার বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল ট্রান্সডনস্ট্রিয়ায় অবস্থান নেয়া রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধেও একই রকম সাজানো হামলার ষড়যন্ত্র চলছে।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এর কোন প্রমাণ নেই।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভ্যানও একই ধরণের কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনে হামলা চালানোর অজুহাত বানানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে।
তিনি আরও বলেছিলেন, ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া দখলের আগে রাশিয়া যেরকম ষড়যন্ত্র করেছিল, এবারও সেই একই কৌশল অনুসরণ করছে।
আরও পড়ুন:
রাশিয়া সম্প্রতি ইউক্রেনের সীমান্তে হাজার হাজার সৈন্য এবং বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ফলে এরকম আশংকা করা হচ্ছে যে, রাশিয়া হয়তো ইউক্রেনে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে ইউক্রেনকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আলোচনা চালান। কিন্তু সেই আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনে কোন ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে তারা নেটোর কাছ থেকে এরকম একটা নিশ্চয়তা চাইছে যেন এই সামরিক জোটের পূর্বমুখী সম্প্রসারণ বন্ধ করা হয়। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, এরকম কোন নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়।
বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-আশার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে এরকম প্রকাশ্যে খোলাখুলি কথা বলে না, যেটা তারা ইউক্রেন নিয়ে কথিত রুশ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে করেছে। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন স্পষ্টতই এটা করেছে যাতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক আচরণের অভিযোগ তোলার সুযোগ না পায়।
এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এটা বেশ নাটকীয় পদক্ষেপ।