আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ওয়ান-ইলেভেন, করোনাভাইরাস আর নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন
করোনা ভাইরাসের নতুন ঢেউ, বিশেষ করে অমিক্রনের সংক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি কয়েকটি বিধি-নিষেধ ঘোষণা করেছে। এই বিধি-নিষেধ নিয়ে বেশ কয়েকটি চিঠি এসেছে। সেগুলো দেখবো একটু পরে, কিন্তু আজ শুরু করছি বাংলাদেশে সামরিক শাসন সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়ে।
ওয়ান-ইলেভেন বা ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পনেরো বছর পূর্তি হল। পুরো ঘটনা নিয়ে বিতর্ক এখনো থামে নি। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''আমার মতে, বিএনপির রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব আর অতি মাত্রায় ক্ষমতার লোভই ১/১১-র প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। ওয়ান ইলেভেন এই জাতির জন্য আশীর্বাদ আর পরিবারতন্ত্রের জন্য অভিশাপ হয়ে এসেছিলো ঠিকই, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা তার সুফল ধরে রাখতে পারিনি।
''আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটা পরিবর্তন আসা খুব দরকার। রাজনীতিকদের বিশ্বাস করতে হবে যে, রাজনীতির অর্থ নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করা নয়।
''আরেকটি বিষয়, সেনা ছাউনি থেকে বেরিয়ে এসে রাতারাতি রাজনৈতিক নেতা বনে গিয়ে দীর্ঘ একুশ বছর যাবত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে পর্যায়ক্রমে দখল করে রাখার উন্মত্ত খেলায় মেতে ওঠা জিয়া-খালেদা কিংবা এরশাদ গংরা এদেশের রাজনীতিকে শুধু ধ্বংসই করেননি, বরং পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের সুনাম, অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে এতই দুর্বল করে দিয়ে গেছেন যে, সেটা আজকের এই পর্যায়ে যতটুকু অবশিষ্ট আছে- সেটাও কম নয় বৈকি।''
সম্পর্কিত খবর:
ওয়ান-ইলেভেন-এর প্রেক্ষাপট তৈরি করতে শুধু বিএনপি নয়, সকল রাজনৈতিক দল কম-বেশি দায়ী ছিল বলে আমার মনে হয়।
দলগুলো নিজেদের মধ্যে কোন সমঝোতায় আসতে পারে নি, দেশে সংবিধান অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট সদিচ্ছা দেখাতে পারে নি। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছিল, যেটা সামরিক শক্তির হস্তক্ষেপের রাস্তা সুগম করে দেয়।
তারপরও আরেকটি কথা আছে। অতীতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেআইনি ক্ষমতা দখলের জন্য কোন সেনানায়কের বিচার হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলো সময় বুঝে সামরিক বাহিনীকে নিজ স্বার্থে ব্যবহারও করেছে। ফলে, সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের ওপর একটি বিশাল ছায়ার মত থেকে গেছে, যেটা গণতন্ত্র বিকাশের জন্য মোটেই সুখকর নয়।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
এবারে আসি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধি-নিষেধের প্রসঙ্গে। প্রথমে লিখেছেন যশোরের কেশবপুর থেকে অজিয়ার রহমান, যিনি একজন ইজি বাইক চালক:
''প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন মানুষ আমার ইজি বাইকে ওঠে। আমি মাস্ক পরি, তাদের বেশিরভাগ পরে না। মাস্ক ছাড়া যাত্রী নিব না বললে আমি শেষ। দিন শেষে আমার সংসার অচল।
''আবার নিজে মাস্ক দিতে চাইলেও অনেকেই নেয় না, উল্টো যা তা বলে। তাহলে বিধি-নিষেধ কিভাবে বাস্তবায়ন হবে। আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে, কথাটি খুব মনে পড়ে এখন।''
আসল কথাই বলেছেন মিঃ রহমান। সবাই যদি নিজ থেকে দায়িত্বশীল না হন, তাহলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তবে সরকার যেহেতু মাস্ক না পরলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা করছে, তাই হয়তো বিধি-নিষেধ মানার ব্যাপারে অনীহাটা কম হতে পারে।
মাস্ক পরা যেহেতু জনস্বাস্থ্যের ব্যাপার, তাই এখানে সরকারকে কঠোর হতেই হবে, না হলে সব কিছুই ভেস্তে যাবে।
তবে মহামারি মোকাবেলায় সরকারের নীতি কি স্ববিরোধিতায় ভুগছে? সে প্রশ্ন করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''এক দিকে সরকার ১১ দফা স্বাস্থ্য বিধি জারি করেছে, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচন চালু রেখেছে। গত বছর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করায় করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক ভাবে ছড়িয়েছিল।
''সেক্ষেত্রে ১১ দফা স্বাস্থ্য বিধি জারি এবং নির্বাচন চালু রাখা সরকারের স্ববিরোধিতা বা দ্বৈতনীতি নয় কি?''
খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ টেনেছেন মিঃ রহমান। করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ ঠেকাতে যেহেতু খোলা জায়গায় জন সমাগম নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তাহলে নির্বাচনী প্রচারণা কি সেটার আওতায় পড়বে না?
আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ১৩ তারিখে নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন আর অন্যান্য জায়গায় ইউপি নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে দেয়া হয় কি না।
যদি দেয়া হয়, তাহলে দ্বৈতনীতির অভিযোগ তোলা যৌক্তিক হবে। এই অনুষ্ঠান যখন রেডিওতে শুনবেন তখন নিশ্চয়ই জেনে ফেলেছেন ঘটনা কী!
পরের চিঠি লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:
''করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও জীবন-জীবিকা সচল রেখে কেবলমাত্র গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্তটি কাগুজে সিদ্ধান্তে পরিণত হবে বলে মনে করি। অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের নামে বাস ভাড়া বাড়ানো হলে সেটা আয় কমে যাওয়া সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করবে।''
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মহসীন আলী:
''যে দেশে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়, বাণিজ্য মেলা খোলা থাকে, সেখানে এসব বিধিনিষেধ কতটা যৌক্তিক বা কার্যকর হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। অমিক্রন মোকাবিলায় সর্ব প্রথম প্রয়োজন সকল দলের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
''সরকারি এসব বিধিনিষেধের কারণে এক শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ কর্ম হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্য মূল্য বাড়িয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়।
''বিধি-নিষেধের মধ্যে আবার শিথিলতাও দেখা যায় যেমন এখানে বলা আছে, বিশেষ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করা যাবে। করোনা ভাইরাস নিয়ে এখনও মানুষের মাঝে অনেক সচেতনতার অভাব রয়েছে।''
করোনাভাইরাস সব দেশকেই এই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে মিঃ আহমেদ আর মিঃ আলী। সব দেশই চাইছে অর্থনীতি সচল রেখে সংক্রমণ কমিয়ে আনতে। কিন্তু সেটা সহজ কাজ না। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিধি নিষেধ আরোপ করা মানেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা, বেকারত্ব সৃষ্টি করা।
কিন্তু তা না করলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হবে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাবে। কোন সরকার সেটা চায় না।
অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও চাইবে এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে মহামারি মোকাবেলা করতে। এখানে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আর টিকা কর্মসূচি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
টিকা কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশে প্রায়ই বিতর্ক হয়, এবার নতুন একটি দিক নিয়ে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১২ বছর বয়সের নীচের কোনো শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। তার মানে, প্রাথমিক স্তরের কোনো শিক্ষার্থী এখনই টিকা পাচ্ছে না। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয় তো খোলা রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদানও চলছে। তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে নেই?
''প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রাখা আদৌ ঠিক হয়নি বলে আমি মনে করি। টিকা ছাড়াই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে তাদের করোনা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন কি না এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও একটু ভেবে দেখা উচিৎ বলেই আমার মনে হয়।''
বারো-বছরের কম বয়সী শিশুদের আদৌ টিকা দেয়া নিরাপদ হবে কি না, তা নিয়ে এখনও দ্বিমত থাকলেও অনেক দেশে এখন পাঁচ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ফাইজারের ভ্যাক্সিন অনুমোদন করা হয়েছে। যেমন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা, ইসরায়েল, ভারত ইত্যাদি। আমরা ধারণা করতে পারি, বাংলাদেশেও পর্যায়ক্রমে শিশুদের টিকা দেয়া হবে।
এবারে ভিন্ন এক প্রসঙ্গ। টেকনাফে মাছ ধরার খবর নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''সাগরের মাছ এক সাথে এক পথে চলে--- কথাটি নতুন জানলাম তাও বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে। টেকনাফ এলাকায় এক সাথে বিপুল পরিমাণ মাছ জালে ধরা পড়ার ঘটনাটি বিবিসির মত গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায়, ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও।
''আমার জিজ্ঞাসা হল, নিউজটি ভাইরাল হওয়ার কারণ কি বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়া না সাগরে এক সাথে এক পথে মাছের চলাচলের কারণে বেশি মাছ পাওয়ার বিষয়টি প্রচার করা?''
যে কোন খবর তখনই ভাইরাল হয় যখন সেটা মানুষের জরুরি তথ্য চাহিদা মেটায় বা কোন অজানা তথ্য দেয় যেটা তাদের বিস্মিত করে বা তাদের আবেগে টান দেয়। টেকনাফে মাছ ধরার খবর নিশ্চয়ই সেই বিস্মিত করা অজানা খবরের আওতায় পড়ে।
এবারে আসি বাংলাদেশে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে। লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের ভোটও রক্তপাতহীন করা সম্ভব হলনা। কমপক্ষে ১০ জন নিহত, শতাধিক আহত হলেও নির্বাচন কমিশনের কাছে এটাই নাকি "উৎসব মুখর নির্বাচন"। এযাবৎ ধাপে ধাপে ৮৬ জনের মৃত্যু আর অগণিত মানুষের আহত হবার ঘটনা ঘটলেও ঠিক কিভাবে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ আর উৎসবমুখর, তা আমার বোধগম্য না।
''বরং আমার যেটা মনে হয়, নির্বাচন কমিশনের এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।''
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যে এক দিক থেকে উৎসবমুখর হয়, সেটা অসত্য না মিঃ সাঈদ। কিন্তু এই স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রাটাও ভয়াবহ হয়। যখন প্রায় এক'শ লোক কোন নির্বাচনে নিহত হন, তখন সেই নির্বাচনকে উৎসবমুখর না বলাই ভাল। তার সাথে এটাও ভাবা দরকার, স্থানীয় এই নির্বাচনে কেন এত টাকা ঢালা হয়, কেন এত সহিংসতা? কারণ হয়তো সবারই জানা আছে, তাহলে সেটা বন্ধ করা হচ্ছে না কেন?
ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সম্পৃক্ত গ্রাম পুলিশ নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন ঝালকাঠির তালগাছিয়া থেকে শহিদুল ইসলাম:
''একজন গ্রাম পুলিশের প্রায় ৭০ ধরনের কাজ করতে হয়, এমনকি তারা জনগণের সাথে মিশে প্রশাসনের কাজ করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের কাজ তাদের দিয়ে করানো হয়, গভীর রাতেও থানা থেকে অপরাধীদের ধরার জন্য তাদেরকে ডেকে নেয়া হয়।
''প্রশাসনের সব ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও তারা সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অবহেলিত এবং তাদের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কেউ কখনো ভাবে না। তাই বিবিসির কাছে অনুরোধ যেন তাদের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে একটা রিপোর্ট করা হয়।''
ভাল প্রস্তাব দিয়েছেন মিঃ ইসলাম। আমরা সাধারণত শহর অঞ্চলে বা রাজনৈতিক অঙ্গনে পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করি, বিশেষ করে যেখানে পুলিশের কাজ অত্যাচারমূলক হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে পুলিশ যেভাবে কাজ করে বা জীবনযাপন করে, তা নিয়ে খুব কমই রিপোর্টিং করা হয়। আপনার প্রস্তাব আমাদের বিবেচনায় থাকবে।
এবার আসি বিবিসি নিয়ে কয়েকটি চিঠিতে। বিবিসিতে বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে রোমানা আক্তার শিউলি:
''বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে দেখলাম বিদেশিদের জন্য বিবিসি তার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে বিজ্ঞাপন ইংল্যান্ডের কেউ দেখতে পাবে না। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সেটা হয়তো সম্ভব হলেও আমার প্রশ্ন, ইংল্যান্ডের কেউ দেখলে বা বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে ক্ষতি কি?''
এই সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয় মিস আক্তার। বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রিটেনের বাইরে বিবিসির টেলিভিশন এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন নেয়া হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, বিবিসি যেহেতু ব্রিটিশ পাবলিকের দেয়া টেলিভিশন লাইসেন্স ফি দিয়ে চলে, ব্রিটিশ পাবলিক বিবিসি চালানোর জন্য টাকা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক মুনাফা-ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো লাইসেন্স ফির টাকা পায় না, তারা পুরোপুরি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্রিটেনে বিবিসির বিজ্ঞাপন নেয়া নিষিদ্ধ।
এবারে আমাদের একটি অনুষ্ঠান মালা নিয়ে চিঠি লিখেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল:
''বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিবিসি বাংলা 'পঞ্চাশে বাংলাদেশ' নামক যে বিশেষ ফিচার অনুষ্ঠান প্রচার করেছে তা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, বিশেষ করে কৃষিবিজ্ঞানী ডঃ আব্দুস সালাম সম্পর্কে জানতে পেরে। তিনি কিভাবে বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের কৃষি আর কৃষকের অবস্থা, তা আমি বিবিসি বাংলার মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম।
''তিনি একজন কৃষকের সন্তান হয়ে কৃষকের কষ্ট নিজের ভেতর ধারণ করেছেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে তিনি যেভাবে বাংলাদেশের কৃষিকে বদলে দিয়েছেন, তার জন্য ডঃ সালাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এইসব ফিচার গুলো আমাদের উদ্দীপ্ত করে, জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ খলিল, আমাদের আয়োজন ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। আপনার শুভেচ্ছা আমি ধারাবাহিকের প্রযোজক এবং প্রতিবেদক মোয়াজ্জেম হোসেনকে পৌঁছে দেব।
আজ শেষ করছি একটি অভিযোগ দিয়ে, যেটাকে বেশ মজার একটি অভিযোগই বলতে হয়। লিখেছেন খুলনার ডুমুরিয়া থেকে ঝুমুর সুলতানা:
''গত প্রীতিভাজনেষু শুনে মনে হল বিবিসি সাতক্ষীরার দখলে। এক জেলার এত চিঠি একই দিনে স্থান দেওয়া কি বিবিসির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করেনি? আমি শুধু শুনি, লিখি না। সাতক্ষীরার অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত বিবিসিকে সচেতন করতে লিখতে হল।''
দুঃখিত মিস সুলতানা, কিন্তু আপনার চিঠি পড়ে না হেসে পারছি না, কারণ জেলা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আগে কখনো শুনি নাই! কোন জেলা থেকে চিঠি নেয়া হল, সেটা দিয়ে বিবিসির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হবে কেন? জেলা-ভিত্তিক ভারসাম্য বজায় রাখার কোন বাধ্যবাধকতা আমাদের নেই। আমি চিঠির বক্তব্য দেখে অনুষ্ঠানে নেই, প্রেরকের ঠিকানা দেখে নয়।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মনিরা আক্তার লিখি, মজিদপুর কেশবপুর, যশোর।
লিম্পা দে,পাইকগাছা, খুলনা
মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।
সম্পদ কুমার পোদ্দার, শেরপুর, বগুড়া।
শামীমা আক্তার লিপি, তালা, সাতক্ষীরা।
মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।
এহসান আহমেদ সাবির, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।