এডিটার'স মেইলবক্স: র‍্যাব-এর নিষেধাজ্ঞা আর বিবিসির 'পঞ্চাশে বাংলাদেশ' নিয়ে কথা

বিশেষ বাহিনী র‍্যাব

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, বিশেষ বাহিনী র‍্যাব: বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত সপ্তাহের শেষের দিকেই এলো চমক লাগানো খবর। বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ বাহিনী র‍্যাব এবং তার বর্তমান ও প্রাক্তন ছ'জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে র‍্যাব বরাবরই একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু এখন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশ সরকারের একটি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হল।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে শ্রোতা-পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাদের চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ আছে যে, তারা গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মাদক বিরোধী তৎপরতার কর্মকাণ্ড হিসেবে ক্রসফায়ার ব্যবহার করে । তাছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অনেক সময়ে পুলিশ বা র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যায় ।

''অন্যদিকে বাইডেন প্রশাসন মানবাধিকার ও গণতন্ত্র অধিকারের ব্যাপারে যেহেতু সোচ্চার, তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বহির্বিশ্ব বিরূপ দৃষ্টিতে দেখবে । কাজেই মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রর জন্য সঠিক পথ প্রণালীর দিকে এখনি দৃষ্টি দেওয়াই কাম্য।''

সম্পর্কিত খবর:

খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে র‍্যাব প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

মানবাধিকারের দিকে সরকারের সব সময়ই দৃষ্টি দেবার কথা মিঃ ইসলাম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কেন? তবে এটা ঠিক যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এখানে হয়তো মনে রাখা উচিত র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। দু'হাজার চার সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই বাহিনী প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা চলছে।

তবে বছর তিনেক আগে মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যাপক হারে ক্রসফায়ারে মৃত্যুর পর পুরো বাহিনী ভেঙ্গে দেবার দাবিও করেছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

সে সময়ে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যা করার আগ মুহূর্তে তার পরিবারের সাথে টেলিফোনে কথাবার্তার রেকর্ডিং শুনে ক্রসফায়ারের ভয়াবহতা অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন।

সেই রেকর্ডিং-এ একরামুল হকের কান্না আর তার স্ত্রী-কন্যার আর্তনাদ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় ভেদ করে গিয়েছিল। কিন্তু তখনও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে নাই। হয়তো এখন নড়বে।

আরো পড়ুন:

পরিবারের সাথে মো. একরামুল হক।

ছবির উৎস, একরামুল হক

ছবির ক্যাপশান, স্ত্রী এবং দুই কন্যাসহ টেকনাফের কাউন্সিলর, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার একরামুল হক।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতিও খারাপ?

কিছুটা একই ধরনের কথা বলেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে রুবেল মিয়ান, যদিও তিনি আমেরিকার গণতন্ত্রেও বেশ গলদ দেখছেন:

''আমি মনে করি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতির চেয়েও ভালো। যদিও ইদানীংকালে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের শরীক দলের মত আচরণ করছে।

''এফবিআইয়ের রেকর্ড করা তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে কোনো উস্কানি ছাড়াই অন্তত ৪০৭জন নিরস্ত্র মার্কিনী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং প্রতি ক্ষেত্রেই এই হত্যাকাণ্ডকে 'ন্যায়সঙ্গত হত্যা' হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এফবিআইয়ের এই উপাত্তে পুলিশের প্রত্যেক হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

''অবস্থার বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি বাংলাদেশের চেয়েও ভয়াবহ। তবে, বাংলাদেশের এই সাত কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা নিঃসন্দেহে একটি ভালো বার্তা দেবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যে রাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি এবং তা সরকারি দলের এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার নয়, তা অনুধাবন করতে পারবেন কর্তারা।''

এরিক গার্নার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এরিক গার্নারকে নিউ ইয়র্কে পুলিশ ২০১৪ সালে প্রকাশ্যে হত্যা করে, কিন্তু পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কোন চার্জ আনা হয় নি।

আমেরিকার পুলিশ বাহিনীগুলো যে খুব সহজেই গুলি চালায়, বিশেষ করে তরুণ কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর, তা নিয়ে অনেক লেখা-লেখি হয়েছে মিঃ মিয়ান। নিরস্ত্র মানুষ মেরে ফেলার পর পুলিশের বিচারও যে খুবই বিরল, তাও সত্য। কিন্তু সে কথা বলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনকে তো আর যৌক্তিক বলা যায় না।

পুলিশ বাহিনী যে বিভিন্ন সময়ে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাও কারো অজানা নয়। আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশের প্রশিক্ষণ উন্নতমানের, তাদের আধুনিক অস্ত্র এবং প্রযুক্তি আছে।

কিন্তু দুর্নীতি আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রযুক্তি আর প্রশিক্ষণ জনসেবায় কতটুকু ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।

চীন-রাশিয়াই কি লক্ষ্য?

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে দেখছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''মাথাব্যথা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়ার হাত ধরে ৩২তম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে বিশ্ব পারমাণবিক ক্লাবে। রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক হয়েছে পূর্বের থেকে সুদৃঢ়।

''রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো ও উন্নয়ন সহযোগী অংশীদার দেশ হিসেবে চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের সাথে কাজ করে যাওয়া হল অন্যতম কারণসমুহ। বিবিসি কি ভাবছে?''

এই চিঠি-পত্রের আসরে আপনারা কী ভাবছেন, সেটাই মুখ্য মিঃ মোমিন উদ্দিন। আমি শুধু আপনাদের ভাবনার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করি। আর কিছু না।

আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে আপনি বিষয়টিকে, বাংলাদেশের সাথে চীন-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার প্রতি আমেরিকার অসন্তোষের বহি:প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। সেটা হতে পারে, কিন্তু তার প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।

বাংলাদেশ শীঘ্রই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আমেরিকার সাথে দেন-দরবার শুরু করবে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাবে তাদের মাথা ব্যথার কারণ কী!

র‍্যাবের ডিজি ছিলেন বর্তমান আইজিপি বেনজির আহমেদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রাক্তন র‍্যাব প্রধান ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ

সেনা অফিসারের খবর নাই কেন?

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার খবর বিবিসি ফলাও করে প্রচার করলেও, অন্য একটি খবর বিবিসি এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে আর তা হল, একজন সাবেক জেনারেলের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের খবর। তবে এটি বিবিসি বাংলার চোখে পড়লো না, এর কারণ কী? নাকি বিবিসি ইচ্ছাকৃত ভাবে এটি প্রচার থেকে বিরত ছিল।''

কোন খবর যদি আমরা প্রচার না করি, তাহলে সেটা তো ইচ্ছাকৃতই বলা যায় মিস ফেরদৌসি। প্রতিটি খবর প্রচার করা বা না করা একটি সুচিন্তিত সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত।

যে খবরের কথা আপনি বলছেন সেটা আমাদের চোখে অবশ্যই পড়েছিল, কিন্তু এই খবরের সত্যতা আমরা যাচাই করতে পারি নি, যার ফলে সেটা প্রচার করার প্রশ্নই উঠে নাই।

তা ছাড়া, পুলিশ প্রধানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আর অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা অফিসারের ভিসা বাতিল সমান গুরুত্ব বহন করে না।

এবারের ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই।

বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মোয়াজ্জেম হোসেনের ধারাবাহিক পঞ্চাশে বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কয়েকটি চিঠি এসেছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সেসময় তার একান্ত সচিব ডঃ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন

ছবির উৎস, Mohammad Farasuddin

ছবির ক্যাপশান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সেসময় তার একান্ত সচিব ডঃ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন

প্রথমটি লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:

''যদিও স্বল্প সময়ে একটি ধারাবাহিকে পঞ্চাশ বছরের কর্মযজ্ঞ তুলে ধরা একটি দূরুহ কাজ, তার পরও মোয়াজ্জেম হোসেন ধারাবাহিকটিতে অনেক অজানা তথ্য যে ভাবে তুলে ধরেছেন তাতেই ওনাকে ধন্যবাদ।

''যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ,ভেঙ্গে পড়া অবকাঠামো, তলাবিহীন ঝুড়ি তকমা পাওয়া, অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো, কৃষিতে বিপ্লব এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। অগ্রগতির আড়ালে হারানোর চিত্র কম আছে বলে মনে হয়না।

'বিগত পাঁচ দশকে যেমন আমরা সোনালী আঁশ পাট, বিভিন্ন শ্রেণির মাছ, প্রাণীর বিলুপ্ত হওয়া, সাহিত্য সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া, সর্বোপরি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক রীতিনীতিগুলো যদি গল্পে তুলে ধরা হতো তাহলে আরও ভালো হতো।''

ছয় পর্বে ৫০ বছরের কথা তুলে ধরা দূরুহ কাজ বটেই মিঃ আলী। সেজন্য এই ধারাবাহিকে মোয়াজ্জেম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিক বিবেচনা করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের যাত্রার সফলতা প্রকাশ পেয়েছে।

মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের ঘাটতি নিয়ে যা বলছেন, তা অবশ্যই সঠিক কিন্তু সেসব বিষয়ে আমরা নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচার করেছি। এই ধারাবাহিকে ভিন্ন আঙ্গিকে বাংলাদেশের ইতিহাস দেখা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

দেশে এই খাদ্য সংকটের মধ্যে চরম বামপন্থী দলগুলোর তৎপরতা বাড়ছিল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দেশে এই খাদ্য সংকটের মধ্যে চরম বামপন্থী দলগুলোর তৎপরতা বাড়ছিল

বাংলাদেশকে আবার জানছি

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

"পঞ্চাশে বাংলাদেশ" ধারাবাহিক অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সার্বিক সংকটপূর্ণ অবস্থা থেকে আজকের বাংলাদেশে পরিণত হবার গল্প রয়েছে। আমি এটাকে গল্পই বলবো কেননা, অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্বে উঠে এসেছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেগুলো ভাবলে অবিশ্বাস্য লাগে।

''স্বাধীন হওয়ার পর নানা সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর এই ইতিহাস সত্যিই গর্বের। যাই হোক, এই ধারাবাহিকে মোয়াজ্জেম হোসেন যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরছেন তা এই অনুষ্ঠানের যথার্থতা প্রমাণ করে। বাঙালি জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে আরো নতুন ভাবে জানছি।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ শামীম উদ্দিন, ১৯৭২ সাল থেকে ২০২১ সাল, এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর কিছু দেশ উন্নত হয়েছে যাদের বিস্ময় বলা হয়। তাদের বড় উদাহরণ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া - যুদ্ধ- বিধ্বস্ত, খণ্ডিত, বেশ গরীব একটি দেশ কীভাবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাতারে উঠে আসলো।

এক দিক থেকে দেখতে গেলে বাংলাদেশ আরো বড় একটি বিস্ময়, কারণ দেশটি যে আদৌ টিকে থাকবে সেটাই অনেকে ভাবতে পারে নি।

জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী ইমপ্ল্যান্ট নরপ্ল্যান্ট

ছবির উৎস, mark peterson

ছবির ক্যাপশান, জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী ইমপ্ল্যান্ট নরপ্ল্যান্ট

নরপ্ল্যান্ট নিয়ে বিস্তারিত কই?

ধারাবাহিকের পঞ্চম পর্বে বাংলাদেশে নারীদের কনট্রাসেপশন নরপ্ল্যান্ট নিয়ে যে বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সাতক্ষীরার তালা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''নব্বই এর দশকে আমি ছোট ছিলাম। তা না হলে নরপ্ল্যান্ট হয়তো আমাকেও ব্যবহার করতে হতো। অপ্রমাণিত গবেষণাধীন একটা পদ্ধতিকে সে সময়ের সরকার কিভাবে অনুমোদন দিয়েছিল সেটিও ভাববার বিষয়।

''সফলতার অনেক গল্প থাকলেও সেগুলি ক্ষতির কাছে তো ম্লান। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা কি বুঝতে পারেনি আমরা তাদের কিছু আবিষ্কারের পরীক্ষানিরীক্ষার পরীক্ষাগার? না সচেতনভাবে এসবে ছাড় দেওয়া হয়েছিল এসব কিছু বিবিসি বলেনি কিন্তু।''

আপনার সাথে আমি একমত হতে পারছি না মিস আক্তার। ধারাবাহিকের পঞ্চম পর্বে নরপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত সব দিকই আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের নারীদের ওপরে যে কনট্রাসেপশন পরীক্ষা করা হচ্ছে, সে অভিযোগের বিস্তারিত যেমন ছিল, তেমনি যারা এই প্রকল্প পরিচালনা করতেন, তারাও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কী ধরনের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে তারা এই কাজ করতেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জাতীয় সংসদ: বাংলাদেশ কি রাজনৈতিক দিক থেকে একটুও এগোয়নি?

রাজনীতিতে উন্নতি নেই?

ধারাবাহিকের প্রথম পর্বটি শুনেই প্রশংসা করেছেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে মোহাম্মদ সাগর মিয়া:

''ধারাবাহিক অনুষ্ঠান পঞ্চাশে বাংলাদেশ খুবই ভালো লেগেছে। এমন তথ্যবহুল অনুষ্ঠান আগে কোথাও শুনিনি। স্বাধীনতার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছিল, সে দেশটি আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে।

''তবে রাজনৈতিক দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ধন্যবাদ জানাই বিবিসি বাংলাকে এমন সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য।''

আপনাকেও ধন্যবাদ সাগর মিয়া, অনুষ্ঠান ভাল লাগার জন্য এবং চিঠি লেখার জন্য। বাংলাদেশ রাজনৈতিক দিক দিয়ে কোন উন্নতি করতে পারেনি, তা আমি বলবো না। তবে উন্নতি গুলো ধরে রাখতে পারেনি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই হয়নি।

অনেক চড়াই-উৎরাই পার হলেও, গণতন্ত্রের বীজ দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক জমিতে বপন করা হয়েছে, ধীরে হলেও শেকড় গজাবে।

কৃপণতা না করে কৃতজ্ঞতা

প্রথম বারের মত চিঠি লিখেছেন কমলেশ বিশ্বাস, যিনি পঞ্চাশে বাংলাদেশ নিয়েই লিখেছেন:

''পূর্বে কখনোও বিবিসি-কে লেখা হয়নি, কিন্তু ৫০শে বাংলাদেশ শুনার পর মনে হল এবার যদি না লিখি,এবার যদি কৃতজ্ঞতা না জানাই, সেটা হবে আমার কৃপণতা। চোখের সম্মুখে যেন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে দেখছি। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলা।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ বিশ্বাস। আপনার অভিনন্দন ধারাবাহিকের প্রতিবেদক এবং প্রযোজক মোয়াজ্জেম হোসেনকে পৌঁছে দেব।

আগের তুলনায় বাংলাদেশে এখন শাক-সব্জির উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

পঞ্চাশে বাংলাদেশ নিয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে জাহাঙ্গীর আলম:

''পঞ্চাশে বাংলাদেশ অসাধারণ লেগেছে। এক কথায় অতুলনীয়। একটা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা যায় কি, অডিও গুলোকে স্ক্রিপ্ট আকারে প্রকাশ করলেই হয়ে যাবে। বিশেষভাবে বিবেচনার আবেদন রইলো।''

এখানে কোন ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে না মিঃ আলম। তবে প্রতিটি প্রতিবেদন আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে পড়তে পাবেন, চাইলে সেখান থেকে প্রিন্ট নিয়ে আপনি নিজের জন্য সাজিয়ে রাখতে পারবেন।

রেডিওতে পুন:প্রচার হল কেন?

তবে এই ধারাবাহিক দিনের দুটি অধিবেশনেই প্রচার করাকে ভাল চোখে দেখছেন না দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বিবিসি বাংলা'র অধিবেশন মাত্র দু'টি। তাই সেগুলো পুনঃপ্রচার না করে তা যেকোন একটি অধিবেশনে রাখলেই পারতেন। বর্তমান এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সবার হাতে হাতেই স্মার্টফোন। তাই অনেকেই যেকোন সময় যেকোন অধিবেশন ইউটিউব কিংবা ২৪ ঘন্টার অনুষ্ঠান আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে শুনে নিতে পারেন।

''আমার কেন জানি মনে হয়েছে, আপনারা নিজেদের তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়াটা নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তা নাহলে কখনোই এমন একটা কাজ করে, পুরো সপ্তাহ বিবিসি বাংলা'র শ্রোতাদের ফিচার পর্বগুলো থেকে বঞ্চিত করতে পারতেন না।''

এখানে আপনি একটি ভুল করছেন মিঃ ইসলাম। আমাদের কোন রেডিও অনুষ্ঠান ইউ টিউবে পোস্ট করা হয় না। তাছাড়া, অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচারের সময়ে অনেকে মোবাইলে শোনেন ঠিকই, কিন্তু ব্রডকাস্ট হয়ে যাবার পর খুব অল্প সংখ্যক লোকই অন-ডিমান্ড শুনে থাকেন। আর আমি মনে করি না যে শ্রোতাদের কোন ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের দুটো অধিবেশনের শ্রোতাদের সমান সুযোগ দেবার জন্যই প্রতিদিন পুন:প্রচার করা হয়েছে।

তাছাড়া, প্রতিটি পর্বের টেক্সট ভার্সন যেমন আমাদের ওয়েবসাইটে থাকবে, তেমনি প্রতিটি পর্ব অডিওগ্রাম হিসেবে ইউ টিউবেও পোস্ট করা হবে।

ঢাকার কমলাপুর স্টেশন, ০১/০৩/২০১৭

ছবির উৎস, Future Publishing

ছবির ক্যাপশান, ট্রেনের আশে-পাশে শিশু-কিশোররা ঝুঁকিতে থাকে।

জেনে-শুনে কেন বিপদ ডেকে আনি?

এবারে দিনের একটি খবর নিয়ে মন্তব্য নেয়া যাক। সম্প্রতি নীলফামারীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনজন শিশু মারা যাবার খবর নিয়ে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:

''গত ৮ই ডিসেম্বর বিবিসির রাতের পরিক্রমায় অনেকগুলো খবরের মধ্যে যে খবরটি আমাকে সবচেয়ে বেশি মর্মাহত করল যেটি হচ্ছে নীলফামারী সদরের কুন্দুপুকুর এলাকায় রেল সেতুতে কাটা পড়ে তিন শিশুসহ ৪জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদটি। আমার প্রশ্ন হল, রেলপথে শিশুরা খেলবে কেন? কিংবা পথচারীরা রেলপথ দিয়ে হাঁটবে কেন?

এটি তো একটি সংরক্ষিত জায়গা যেখানে শিশু, বালক, যুবক,বৃদ্ধ সবার জন্য হাঁটা চলাফেরা নিষিদ্ধ । পথচারীদের জন্য রেলপথ সর্বদা বিপদজনক। এসব জেনেও আমরা নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনি।''

আপনি ঠিক কথাই বলেছেন মিঃ হোসেন, রেলপথে হাঁটা-চলা যে অনেক বিপজ্জনক তা জেনেও অনেকে তা করেন। তারা মনে করেন যে বিপদ আসলে তারা সরে যেতে পারবেন।

শুধু পথচারী বা শিশু না, অনেক সময় গাড়িও দেখা যায় ঝুঁকি নিয়ে রেলপথ অতিক্রম করছে। ট্রেন সহসা থামানো যায় না, সেজন্য হঠাৎ করে কেউ রেল লাইনে চলে আসলে দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি

ছবির উৎস, ABRAR FAHAD/FACEBOOK

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি

ছাত্র রাজনীতিই কি দায়ী?

সম্প্রতি বুয়েটের ছাত্র আবরার ফারহাদ হত্যার দায়ে ২০জনের ফাঁসির আদেশ বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। তার একটি দিক নিয়ে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালীর পশ্চিম কালিকাপুর থেকে মো়হাম্মদ আল আমিন:

''বুয়েটে পড়াশুনা করা প্রতিটা বাবা মায়ের এক বুক ভরা স্বপ্ন থাকে। আবরারও তাদের একজন ছিল। প্রতি বছর স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে এসে ছাত্র রাজনীতির কারণে আবরারদের জীবন বলি দিতে হয়।

''সেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ কিংবা সু-নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে আনার সময় কি এখনও হয়নি? আমরা চাইনা কোন বাবা মায়ের সন্তানই লেখাপড়া করতে এসে তার জীবন হুমকির মুখে পড়ুক।''

এক সময় ছাত্র রাজনীতি বাংলাদেশে গর্বের বিষয় ছিল। কিন্তু এখন সব মনে হয় ওলট-পালট হয়ে গেছে।

ছাত্র রাজনীতি মানেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নির্যাতন। তবে হয়তো ছাত্র রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে তাকে পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজনই বেশি। আর তা করতে হলে ক্যাম্পাস থেকে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাস দূর করতে হবে।

বাংলাদেশে বিজয় দিবসের আনন্দ

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে বিজয় দিবসের আনন্দ

বিজয় দিবস আর বিবিসি

শেষ করার আগে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দুটি চিঠি। প্রথমটি লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি, অশিক্ষা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ। গত ৫০ বছরে এগিয়েছে অনেক। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে বাংলাদেশ এখনো অনেক দুরে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আদৌ কি এগুলো অর্জন করতে পারবে?''

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে কি না, তা নির্ভর করবে আপনাদের ওপরই মিঃ পোদ্দার। সরকার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে, কিন্তু আমার মতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আর সামাজিক মূল্যবোধ কী হবে, তা সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবিত করতে পারে।

আর দ্বিতীয়টি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে বিবিসি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিবিসি সেদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার চিত্র সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিল বলে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে উঠেছিল। এ কারণে মার্ক টালি বাংলাদেশের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।''

আর আপনার সাথে আমি একমত হব মিঃ সরদার, বিবিসি বাংলাদেশ যুদ্ধের খবর বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষভাবে নিয়মিত পরিবেশন করেছিল বলেই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পেরেছিল সেখানে কী হচ্ছিল। এর ফলে প্রায় সারা বিশ্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছিল।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় , গোপালগঞ্জ।

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

রোমানা আক্তার শিউলি, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ রহমত আলী মোড়ল, তালা, সাতক্ষীরা।