র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মার্কিন সেনেটরদের, কতটা আমলে নিচ্ছে র‍্যাব?

অভিযোগ তোলা হয় যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি গুম এবং নির্যাতনের মত কর্মকাণ্ডের সাথেও র‍্যাব জড়িত

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অভিযোগ তোলা হয় যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি গুম এবং নির্যাতনের মত কর্মকাণ্ডের সাথেও র‍্যাব জড়িত

বাংলাদেশের পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সেনেট কমিটি।

২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে ৪০০'র বেশি মানুষের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে র‍্যাব জড়িত ছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে চিঠিতে।

১০ সদস্যের সেনেট কমিটির পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও ও কোষাগার বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভেন নুখিন কাছে পাঠানো চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে বাংলাদেশ সরকার "২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে 'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা' করার সময় বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে"।

সেনেটরদের চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয় যে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি গুম এবং নির্যাতনের মত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও র‍্যাবের সিনিয়র কর্মকর্তারা কোনো শাস্তির সম্মুখীন হয়নি।

কী অভিযোগ তোলা হয়েছে চিঠিতে?

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে মার্কিন সেনেটেরদের চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয় যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের 'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' অভিযানকে 'বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ইচ্ছাকৃত পদ্ধতি' বলে মনে হয়।

চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয় - জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়টি মাথায় রেখে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানালেও র‍্যাব তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

র‍্যাবের 'পরিচালিত' বিচার বহির্ভূত-হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় সবগুলোর কারণ হিসেবে 'বন্দুকযুদ্ধ'কে উল্লেখ করা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বন্দুকযুদ্ধের প্রমাণ পায়নি বলে অভিযোগ তোলা হয় চিঠিতে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ আরো কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে অভিযোগ তোলা হয় যে অনেক ক্ষেত্রেই 'বন্দুকযুদ্ধের সাক্ষীদের জোরপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য' দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা যাওয়া অনেক ভুক্তভোগীই নিহত হওয়ার কিছুদিন অথবা কয়েকমাস আগে থেকে জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলেন।

এরকম প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী মার্কিন কর্তৃপক্ষ যেন র‍্যাবের সিনিয়র কমান্ডারদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেই আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও ও কোষাগার মন্ত্রী স্টিভেন নুখিনের কাছে চিঠি লেখে সেনেটররা।

আরো পড়তে পারেন:

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাহিনীর হাতে প্রায় চার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাহিনীর হাতে প্রায় চার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

কী বলছে র‍্যাব?

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও কোষাগার মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সেনেট কমিটির লেখা চিঠিতে তোলা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে র‍্যাব।

সেনেটরদের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "র‍্যাব বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত বাহিনী এবং এই সংস্থাটি তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।"

"র‍্যাব বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা নির্যাতনের সাথে জড়িত নয় এবং র‍্যাব এই ধরণের কর্মকাণ্ড সমর্থনও করে না।"

তবে মি. আশিক বিল্লাহ স্বীকার করেন যে কখনো কখনো অভিযান পরিচালনা করার সময় 'সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের' সাথে গুলি বিনিময়ের মত ঘটনা ঘটে থাকে।

তিনি বলেন, "অপরাধীদের আটক করতে পরিচালিত অভিযানের সময় কখনো কখনো সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ী বা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে অনাকাঙ্খিত গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।"

"কিন্তু র‍্যাব বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা সমর্থনও করে না এবং এই ধরণের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়," বিবিসিকে বলেছেন এই র‍্যাব কর্মকর্তা।