বাস ভাড়া: শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেবে বিআরটিসি, বেসরকারি কোম্পানিগুলো বলছে তাদের পক্ষে ‘সম্ভব নয়’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি'র বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের 'হাফ পাস' বা অর্ধেক ভাড়ার দাবির প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে তার বাসভবন থেকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, "পরিবহন ভাড়ায় ছাড়ের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সারা দেশে বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়া শতকরা ৫০ ভাগ কমানোর সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।"

পহেলা ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মি. কাদের জানান, শুধুমাত্র সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিআরটিসি বাসে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির দিনে শিক্ষার্থীরা ভাড়ায় কোন ছাড় পাবেন না।

তবে ভ্রমণের সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছবি যুক্ত বৈধ পরিচয় পত্র সাথে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার এই ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা হবে কিনা, সেবিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঐ বৈঠক শেষ হয়।

এ মাসের শুরুতে বাংলাদেশের সরকার ডিজেল ও কোরোসিনের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ধর্মঘট পালন করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এরপর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করে জ্বালানি তেলের দামের সাথে সমন্বয় করে গণপরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এর কয়েকদিন পর থেকেই গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া, 'হাফ পাস'এর দাবিতে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে প্রায় সব এলাকাতেই বাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়ার একটা রেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, তবে এটির কোন আইনি ভিত্তি কখনোই ছিল না।

নভেম্বরের শুরুতে বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করার পর বাসে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন না - অনেক জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে হাফ ভাড়ার দাবিতে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলা শহরে পরপর কয়েকদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ছাড় দেয়ার বিষয়টি আলোচনার জন্য বিআরটিএ'তে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো শনিবার আবার একটি বৈঠক করবে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা 'সামাজিক দায়বদ্ধতা ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল' হয়ে যেন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, সেই আহ্বান জানান মি. কাদের।

আরো পড়তে পারেন:

পরিবহন মালিক সমিতি কী বলছে?

তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বেসরকারি বাস কোম্পনিগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন যৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।

তিনি বলেন, "বেসরকারি খাতে অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা কীভাবে সম্ভব? বিআরটিসি বাস সরকার ভর্তুকি দিয়ে চালায়, তারা চাইলে শিক্ষার্থীদের কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু বেসরকারি খাতের জন্য এটি সম্ভব নয়।"

শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা হলে সারাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মি. এনায়েতউল্লাহ।

"বাংলাদেশে এমন অনেক বাস মালিক রয়েছে যাদের হয়তো একটা বা দুইটা বাস রয়েছে, যারা খুব সামান্য লাভ করে এই ব্যবসা থেকে। শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নিতে হলে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।"

পরিবহন মালিক- শ্রমিক সমিতির এই নেতা বলেন, "বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের সবার জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা হলে ঢাকা সহ সবগুলো জেলা শহরে এর প্রভাব পড়বে, পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।"