আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
খালেদা জিয়া: বিএনপি নেত্রীর অসুস্থতার ইস্যুতে আন্দোলন কোথায় নিতে চায় দলটি?
- Author, আবুল কালাম আজাদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং তাকে বিদেশে নেয়ার ইস্যু। সরকার মনে করে দেশেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব, কিন্তু তার পরিবার এবং দল বলছে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিদেশ নেয়া জরুরি। এই পরস্পর বিরোধী অবস্থান থেকে দাবি আদায়ে বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচী দিয়ে মাঠে রয়েছে।
বিভিন্ন ইস্যুতে জোরদার আন্দোলন করতে কার্যত ব্যর্থ বিএনপি এবার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ইস্যুতে কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে - তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের। প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা এই আন্দোলন কতদূর নিয়ে যেতে চায়।
বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে দলের অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখছে। তারা মনে করেন, এবার তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে যে কোন কর্মসূচী পালনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলেও তৃণমূল থেকে বলা হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, "এই মুহূর্তে আপনারা বুঝতে পারেন আমাদের জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি মানুষের মনের অবস্থা এবং মানসিকতা। আজকে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি লেগেছে।"
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
গত ক'দিনে বিএনপি যেসব কর্মসূচী পালন করেছে সেখানে বিএনপির ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে, নগর, মহানগর এবং কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সরব উপস্তিতি দেখা গেছে। দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ইস্যুতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ছাদলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন বলেন, "দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আসলে পেছনে ফেরার আর সুযোগ নাই। জাতীয় নির্বাহী কমিটি কি প্রোগাম দেবে না দেবে আমরা ওই অপেক্ষায় না থেকে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দ্রুত নতুন কিছু করার।"
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ইস্যুতে সারাদেশে কর্মী সমর্থকরা মাঠে নামবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ইস্যুতে সাধারণ মানুষের সহানুভুতি এবং সমর্থন মিলবে এমনটাও মনে করছে বিএনপির অনেকে। তাই দাবি আদায়ে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।
মহিলা দলের নেত্রী হেলেন জেরিন খান বলেন, "আমাদের এই আন্দোলনের সাথে সব কর্নারের লোকজন কিন্তু অংশগ্রহণ করছে। এইজন্য মনে হচ্ছে যে কর্মীরাও আরো বেশি উজ্জীবিত। আমরাও প্রত্যাশা করি আন্দোলন গতি পাবে।"
এই মুহূর্তে বিএনপি প্রধানত খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি আদায় করতে মাঠে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা ইশরাক হোসেন বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাটা একটা সিম্বলিক (প্রতীকী) বিষয় । আমরা যদি আমাদের নেত্রীকেই মুক্ত করতে না পারি আমরা গণতন্ত্র কোথা ত্থেকে পূনরুদ্ধার করবো।"
হিসেব কষে কর্মসূচী দিচ্ছে বিএনপি
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় তারা খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো ইস্যুতে দলীয় কর্মসূচী চায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য হিসেব কষে কর্মসূচী দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের ওপর আর সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচী নির্ভর করছে।
তবে তাদের মধ্যে এমন ভাবনাও আছে যে দেশে সরকার বিরোধী বড় আন্দোলনের উপলক্ষ্য হতে পারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ইস্যুটি।
বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, "সরকারের পরিবর্তন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই হলো সমস্যার সমাধান। আর সেজন্য আন্দোলন সংগ্রাম দরকার। যে কোনো বড় আন্দোলনের একটা উপলক্ষ্য লাগে। এবার সেই উপলক্ষ্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা।"
"আমরা এটাকে সামনে নিয়ে এসেছি কিন্তু মূলত আমরা এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য দেশে গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই।"
সাধারণ মানুষের ইস্যুতে আন্দোলন না করার সমালোচনা কেন?
এদিকে দেশে দ্রব্যমূল্য, মানুষের কষ্ট দুর্ভোগের মত জনস্বার্থের ইস্যুতে বিএনপি কোনো বড় আন্দোলন করে না এমন অভিযোগ আছে। যদিও আন্দোলনের ইস্যু বলতেই শুধুই খালেদা জিয়ার এটি মানতে চায় না বিএনপি নেতৃত্ব।
মি. খান এ ব্যাপারে বলেন, "প্রত্যেকটি ইস্যুতেই আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি এই নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছি। বিএনপি যদি আন্দোলন না করতো তাহলে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী গুম হয়েছে এবং নিহত হয়েছে সেটা হতো না।"
এদিকে বর্তমান অবস্থায় অসুস্থ্ খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর মনোভাব স্পষ্ট।
সেই সাথে ক্ষমতাসীনরা বিএনপির দেয়া কর্মসূচী এবং প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণে করছে। বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে প্রয়োজনে কঠোর অবস্থানে যাবে তারা সেটিও বোঝা যাচ্ছে।
তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার অসুস্থ্তাকে কেন্দ্র করে দেশে আবার কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হয় কিনা - এমন শঙ্কাও আছে জনমনে।
বিবিসি বাংলার আরো খবর: