খালেদা জিয়া: লিভারের সমস্যা জটিল হওয়ায় মেডিকেল বোর্ড আবারও বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ করেছে

খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মেডিকেল বোর্ড আজ বুধবার আবারও চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেয়ার সুপারিশ করেছে বলে তাঁর একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, মিসেস জিয়ার লিভার বা যকৃতের জটিলতার কারণে মেডিকেল বোর্ড বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছে।

এদিকে, মিসেস জিয়ার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির দাবিতে বিএনপি আজ আটদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্ত থাকায় আইন অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দেখছেন।

খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সেপ্টেম্বরে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ তৃতীয়বারের মত ছয় মাস

যেসব শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া এবার ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

সে সময়ই বেসরকারি হাসপাতালটির একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেয়ার সুপারিশ করেছিল।

আজ আবার মেডিকেল বোর্ড মিসেস জিয়ার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষার পর বিদেশে তাঁর চিকিৎসার সুপারিশ করেছে।

তাঁর একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং মেডিকেল বোর্ডের সদস্য জাহিদ হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়ার আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি এবং হার্টের পুরোনো সমস্যাগুলো রয়েছে।

এখন লিভারের জটিলতাই বড় সমস্যা

কিন্তু এখন জটিল হয়েছে লিভারের সমস্যা এবং সেজন্য অন্য সমস্যাগুলোতে ঔষধ সেভাবে কাজ করছে না।

মি: হোসেন বলেছেন, লিভারে একটি অপারেশন জরুরি হয়ে পড়েছে, এ ধরনের অপারেশন করার আধুনিক সুবিধা বাংলাদেশে নেই।

মেডিকেল বোর্ড তাদের সুপারিশের ক্ষেত্রে এই জটিল পরিস্থিতি তুলে ধরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

"ক্রনিক লিভারের রোগটা এমন একটা পর্যায়ে গিয়েছে যে কোন কোন সময় উনার (খালেদা জিয়া) কিছুটা জিআই ব্লিডিং(পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ) হয়েছে," বলছেন ডা: জাহিদ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, "উনার (খালেদা জিয়া) লিভারের চিকিৎসায় এক ধরনের অপারেশন করতে হবে এবং মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা এটা বলেছেন।

"লিভারের এই অপরেশনের সুবিধা বাংলাদেশ নাই। এই সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলোতে আছে। সেজন্য মেডিকেল বোর্ড দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ করেছে," জানিয়েছেন মিসেস জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি মহাসচিব।
ছবির ক্যাপশান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি মহাসচিব।

রাজপথে কর্মসূচি রেখেছে বিএনপি

দুর্নীতির মামলায় সাজা স্থগিত করে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল গত বছরের মার্চে।

এরপর তিনি কয়েকবার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এবছরে শুরুতে তাঁর ভাই শামীম ইসকান্দর বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন।

তখন সেই আবেদন সরকার নাকচ করেছিল। এখন আবার সপ্তাহখানেক আগে মি: ইসকান্দর একই আবেদন করেছেন।

তাতে সরকারের পক্ষ থেকে আইনে সুযোগ না থাকার কথা বলা হচ্ছে। সেই আবেদনকে ভিত্তি করে বিএনপি সমাধান চাইছে।

একই সাথে দলটি কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। আজ দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে বিক্ষোভ করে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছে।

আগামী আটদিন অর্থাৎ ৪ঠা ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর একটা চাপ তৈরি করতে চাইছেন।

"আমরা যতটুকু সম্ভব, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছি।"

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আইনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

কিন্তু তার পরিবারের এবারের আবেদন এখনও নাকচ করেনি সরকার।

সরকার কী বলছে

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়া যায় না। এরপরও তারা আবেদন পর্যালোচনা করে দেখছেন।

তবে সরকার শক্ত অবস্থান নিচ্ছে বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেছেন, "শক্ত অবস্থান বলাটা সঠিক হবে না। তার কারণ হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু নির্দেশ দিয়েই উনাকে (খালেদা জিয়া) মানবিক কারণে সাজা স্থগিত করে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল।"

তিনি বলেন, "ওনারা (বিএনপি) যে বক্তব্য দিয়েছেন, আইনগত দিক থেকে নিশ্চয়ই (তার সাথে) আমার মতপার্থক্য আছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমরা ব্যাপারটা দেখছি।"

এদিকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার ইতিবাচক সাড়া দেবে, তারা এখনও তা আশা করছেন।