ভারতের ত্রিপুরায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ওপর রিপোর্ট করাকে কেন্দ্র দুই সাংবাদিক অভিযুক্ত

ছবির উৎস, PINAKI DAS
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ওপর রিপোর্ট করাকে কেন্দ্র করে দু'জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বৈরিতা উস্কে দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক স্বর্ণা ঝা ও সমৃদ্ধি সাকুনিয়া বলেছেন, তারা গত মাসে একটি হিন্দু দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীর সমাবেশ চলার সময় মুসলিমদের বাড়িঘর ও একটি মসজিদের ওপর চালানো আক্রমণের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
সরকার বলছে, কোন মসজিদের ক্ষতিসাধন করা হয়নি এবং সহিংসতায় কেউ আহতও হয়নি।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বেশ কিছু আইনজীবী, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা করেছে - যারা ওই সহিংসতার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন।
গত মাসের মাঝামাঝি নাগাদ ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের বাড়িঘর বা মসজিদে হামলার বেশ কয়েকটি অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় নানা জেলায় হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে ত্রিপুরায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দলের মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল । সেই মিছিলগুলো থেকেই এসব হামলার অভিযোগ উঠেছিল।
বিবিসি বাংলায় আরও খবর:
এর পর রাজ্যের কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে তাদের সুরক্ষা দেবার দাবি জানান।
কিন্তু ত্রিপুরার পুলিশ-প্রশাসন ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা আগাগোড়াই এই সব হামলার কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। তারা দাবি করেন, রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার মতো আসলে কিছুই হয়নি।
এসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার অভিযোগে ত্রিপুরা রাজ্য পৃলিশ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি কঠোর সন্ত্রাস-বিরোধী আইনে পদক্ষেপ নেয়।
বিবিসি জানতে পেরেছে, ত্রিপুরা পুলিশ টুইটারে ৬৮জন, ফেসবুকে ৩২জন এবং ইউটিউবে ২জন - মোট ১০২জন অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধে ইউএপিএ নামে ওই কঠোর আইনটি প্রয়োগ করে এবং এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরিচিত সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী আছেন।
এর আগে ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে টুইটারের সদর দফতরে চিঠি লিখে ওই ৬৮টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করারও অনুরোধ জানানো হয়।
অক্টোবর মাসে ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের একটি উৎসব হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ত্রিপুরার হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এই উৎসব বন্ধ করার ডাক দিলে তা স্থগিত করা হয়।








