কোভিড টিকা: জন্মনিবন্ধন সনদের জটিলতায় ব্যাহত হচ্ছে টিকা কর্মসূচি

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে তা জন্মনিবন্ধন সনদের জটিলতায় অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারের সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে নিবন্ধন করার নিয়ম।
কিন্তু 'অনলাইন-জন্মনিবন্ধন সনদ' না থাকার ফলে সুরক্ষা অ্যাপ সেটা গ্রহণ করছে না।
ফলে এই বয়সের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে।
এদিকে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর বলছে তারা এই সংকট নিরসনে কাজ করছে।
যারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না তাদের একজন জাহান সুলতানা।
তার বোনের বয়স ১৫ বছর। তিনি বলছেন সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তার বোনের করোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন করার চেষ্টা করছেন কয়েক দিন যাবৎ।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারেননি।
তিনি বলেন "আমার বোনের জন্মনিবন্ধন তো আগেই করা হয়েছে। সেটা দিয়ে কয়েক দিন ধরে নিবন্ধন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো পারিনি। কোথায় কি করতে হবে সেটাও বুঝতে পারছি না।"
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
কেন নিবন্ধন করা যাচ্ছে না?
জাহান সুলতানার মত আরো অনেক অভিভাবক আছেন যারা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন না।
চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজারের টিকা দান কর্মসূচি শুরু করে।
কিন্তু আজ ১২দিনের মাথায় এসে অনেকের অভিযোগ, টিকা তো দূরের বিষয় তারা নিবন্ধন করতে পারছেন না।
আরো পড়ুন:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন এখানে প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটি রয়েছে।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর- সুরক্ষা অ্যাপে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের কাজ করছে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজাউল মাকছুদ জাহেদি বলেন যাদের জন্ম নিবন্ধন ১৭ ডিজিটের তারাই পারছেন নিবন্ধন করতে।
তিনি বলেন "সুরক্ষা অ্যাপে ১৭ ডিজিট লিমিট দেয়া আছে। এখন যাদের অফলাইনে জন্মনিবন্ধন করা আছে আগে, তারা স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করলে তারা ১৭ ডিজিট করে দেবেন। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য আসলে আমরা সেটা নতুন করে অ্যাপে সংরক্ষণ করে নেব।"

ছবির উৎস, Getty Images
কতজন টিকা পেয়েছে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকা কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন প্রতিদিন অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হবে।
কিন্তু অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন এখন পর্যন্ত এক লক্ষের কিছু বেশি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার জন্য প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য- মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউসিকে দেয়।
তারা আবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের কাছে তথ্য সরবরাহ করে।
মাউসির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা ইএমআইএস সেলের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট খন্দকার আজিজুর রহমান বলেন যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার শিশুদের টিকা কর্মসূচি শুরু করেছিল সেই অনুযায়ী কাজ করতে না পারার অন্যতম কারণ এই প্রযুক্তিগত জটিলতা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছিল, প্রথম দফায় টিকা পাবে ৩০ লাখ শিশু। তাদের দুই ডোজ দেয়ার জন্য ফাইজারের ৬০ লাখ ডোজ সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে বর্তমানে ঢাকার আটটা স্কুলকে টিকা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা এইসব স্কুলে গিয়ে টিকা দিতে পারবে।








