নরওয়েতে তীর-ধনুক হামলায় ৫ জন নিহত

হামলার পর একটি তীর দেয়ালে আটকে থাকতে দেখা যায়।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, হামলার পর একটি তীর দেয়ালে আটকে থাকতে দেখা যায়।

নরওয়েতে একজন ব্যক্তি তীর ও ধনুক ব্যবহার করে হামলা চালানোর ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে রাজধানী অসলো থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কংসবার্গ শহরে পুলিশ হামলার খবর প্রথম পায়।

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েবিন্দ আস বলেন, একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং সে একাই হামলাটি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এটি সন্ত্রাসী কাজ কিনা তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।

প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ বলেছেন, এই ঘটনার খবর 'ভয়াবহ'।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাকে উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আমি বুঝতে পারি যে অনেকেই ভয় পাচ্ছে, কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ যে পুলিশ এখন অবস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

হামলাকারী কংসবার্গের পশ্চিম পাশে একটি কুপ এক্সট্রা সুপার মার্কেটের ভিতরে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজন অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি ওই সময়ে ওই দোকানটিতে উপস্থিত ছিলেন।

ওই চেইন শপটির এক মুখপাত্র পরে নিশ্চিত করে জানান যে, তাদের দোকানে একটি "গুরুতর ঘটনা" ঘটেছে তবে তাদের কর্মীদের মধ্যে কেউ আহত হননি।

স্থানীয় সময় পৌনে সাতটার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করার আগে হামলাকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন:

শহরের বেশ কিছু অংশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

ছবির উৎস, HAKON MOSVOLD/NTB/VIA REUTERS

ছবির ক্যাপশান, শহরের বেশ কিছু অংশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

বার্তা সংস্থা এএফপি'র জানাচ্ছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম টিভি-২ কে বলেন যে তিনি একটি হৈচৈ শুনেছেন এবং একজন নারীকে আড়াল নিতে দেখেছেন এবং সেসময় "একজন ব্যক্তিকে কাঁধে তীর এবং হাতে ধনুক নিয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন"।

তিনি বলেন, "পরে, আমি মানুষকে তাদের প্রাণ বাঁচিয়ে দৌঁড়ে পালাতে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন যিনি একটি শিশুর হাত ধরে ছিলেন।"

পুলিশ কর্মকর্তা আস সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী হামলা চালানোর সময় আর কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সন্দেহভাজন হামলাকারী শহরের একটি বড় অংশে চলাচল করেছে এবং কর্তৃপক্ষ শহরের বেশ কিছু অংশ ঘিরে রেখেছে। বাসিন্দাদের বাড়ির ভরতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

সন্দেহভাজনকে ড্রামেন শহরের একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি এবং হেলিকপ্টারসহ অনেক জরুরি যানবাহন রয়েছে।

নরওয়ের আইনমন্ত্রী মনিকা মেল্যান্ডকে ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে এক টুইটের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

দেশটির পুলিশ অধিদপ্তর অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে দেশব্যাপী সকল কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার নির্দেশ দিয়েছে। সাধারণত দেশটির পুলিশ সশস্ত্র নয়।

"নরওয়েজিয়ান ভাষায়" এক বিবৃতিতে পুলিশ অধিদপ্তর বলেছে, "জাতীয় হুমকি স্তরে পরিবর্তন হয়েছে এমন কোন ইঙ্গিত এখনো পর্যন্ত পুলিশের কাছে নেই।"