জার্মানির নির্বাচন: কে হবেন অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের উত্তরসূরি, ক্ষমতায় যাবে কারা

ছবির উৎস, Getty Images
জার্মানির বেশ জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের উত্তরসূরি কে হবেন তা নির্ধারিত হতে যাচ্ছে আজ রবিবারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনে।
বার্লিনের রাস্তায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বার্ষিক ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা, কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রতিযোগিতা আসলে দেশজুড়ে এই নির্বাচন।
শেষ মুহূর্তে ভোটের জন্য গতকাল শনিবার চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল তার দলের প্রার্থী আরমিন লাশেটের এক সমাবেশে যোগ দেন।
সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, তাদের জেতার সম্ভাবনা একেবারে নাগালের বাইরে নয়।
এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে চলেছে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব। জার্মানির ১৮ বছরের বেশি বয়সী ৬ কোটির বেশি মানুষ নির্বাচনে ভোট দেয়ার উপযুক্ত।
স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ভোট নেয়া শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টায় যখন ভোট গ্রহণ শেষ হবে, তখন নির্বাচনী ফল সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের ফল কী দাঁড়াবে, তা কেউই বলতে পারছে না। নির্বাচনী প্রচারাভিযানের একেবারে শেষ পর্যায়ে আঙ্গেলা মেরকেল তার দলের পক্ষে মাঠে নামেন। তিনি ভোটারদের এই বলে সতর্ক করে দেন যে, ক্ষমতার শীর্ষে কে থাকবেন, সেটার আসলেই অনেক গুরুত্ব আছে।
অ্যাঙ্গেলা মের্কেল গত ১৬ বছর ধরে জার্মানির নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির রাজনীতির শীর্ষ অবস্থান থেকে। তিনি ভোটারদের বলেছেন, জার্মানিতে স্থিতিশীলতা দরকার এবং জার্মান তরুণদের ভবিষ্যৎ দরকার। একমাত্র আরমিন লাশেট তা দিতে পারেন।
এই নির্বাচন নিয়ে কিছুই আঁচ করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত এক তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার ঠিক করতে পারেননি, তারা কাকে ভোট দেবেন। যদিও রেকর্ড সংখ্যায় অনেক ভোটার এরই মধ্যে ডাকযোগে ভোট দিয়ে ফেলেছেন।

গত কয়েক মাস ধরে জনমত জরিপে একবার এই দল, আরেকবার ঐ দলের পক্ষে যাচ্ছিল। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিইউ) এবং বাভারিয়া রাজ্যে তাদের অঙ্গদল শুরুতে এগিয়ে ছিল। আবার একটা সময় এগিয়ে ছিল গ্রিন পার্টি। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসডিএফ) পক্ষে জোয়ার দেখা যায়।
অন্যান্য খবর:
অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের উত্তরসুরি হিসেবে চ্যান্সেলর পদের জন্য যে তিনজন লড়ছেন, তাদের মধ্যে মিস্টার শলৎজই মনে হচ্ছে ভোটারদের বেশি উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। তিনি যেহেতু মিসেস মেরকেলের ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছেন, তাই নিজেকে তিনি তার রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় অনেক সহজে একজন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মতো প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে পারছেন।
কিন্তু তিনি যদি জিততেও পারেন, তাকে আরও দুটি দলের সমর্থন পেতে হবে কোন জোট সরকার গঠনের জন্য।
জলবায়ু সঙ্কট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
তবে জার্মানির গ্রিন পার্টির জন্য এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সুযোগ। জার্মান ভোটারদের কাছে এখন জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয়টি সবচেয়ে বড় ইস্যু। কোন ফেডারেল নির্বাচনের জরিপে গ্রিন পার্টির পক্ষে দশ শতাংশের বেশি সমর্থন এর আগে কেবল একবারই দেখা গেছে।

ছবির উৎস, EPA
তবে চ্যান্সেলর পদের জন্য তাদের প্রার্থী আনালেনা বেরবক গত গ্রীষ্মে কিছুটা সমর্থন হারিয়েছেন। যদিও জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে ভয়ংকর বন্যায় অন্তত ১৯১ জন নিহত এবং অনেক জনবহুল রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে বার্লিনের কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের ইস্যুটিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও, তারা মনে করে অন্যান্য দলও এই সমস্যার সমাধানে কাজ করতে পারে।
রক্ষণশীল আরমিন লাশেট ভোটারদের বলেছেন, এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও দ্রুত অগ্রসর হওয়ার দরকার। কারণ তার ভাষায়, "আমরা জার্মানরা এক্ষেত্রে অনেক ধীরগতিতে যাচ্ছি।"
লিবারেল দল এফডিপি গ্রিন পার্টির সঙ্গে অনেক বিষয়েই দ্বিমত পোষন করে, তবে জলবায়ুর ইস্যুতে তারা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। এই দুটি দলেরই পরের সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, দুটি দলই 'কিংমেকারের' ভূমিকায় নামতে পারে।
তবে এই নির্বাচনে যদি সুস্পষ্টভাবে কোন দল জয় পায়, পরের সরকারে কারা থাকবে, সেটার ধারণা পেতে জার্মানির মানুষকে কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।
বিজয়ী দলকে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে। তবে দু্টি দলের যে বিরাট জোট সরকার এখন জার্মানির ক্ষমতায়, সেরকম একটি সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সেজন্যেই জার্মানিতে বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে কত রকমের কোয়ালিশন হতে পারে, তার বহু রকমের হিসেব নিকেশ চলছে।
তবে এই সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা যতক্ষণ না কাটছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অ্যাঙ্গেলা মের্কেলকেই থেকে যেতে হচ্ছে সরকারের শীর্ষপদে।








