জামালপুরগামী ট্রেনের ছাদে দুজন যাত্রীকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে র‍্যাব, যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

বাংলাদেশের ট্রেনের ছাদে চড়ে যাত্রীদের চলাচলের ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের ট্রেনের ছাদে চড়ে যাত্রীদের চলাচলের ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখা হয়।

র‍্যাব বলছে, সম্প্রতি একটি চলন্ত ট্রেনে ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে 'সংঘবদ্ধ চক্রের' পাঁচ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

গত বৃহস্পতিবার (তেইশে সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী একটি ট্রেনে ডাকাতি করার সময় ট্রেনটির ছাদে থাকা দুজন ব্যক্তি ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়।

বাংলাদেশে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাত্রীদের চলাচলের ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে ওই রাতে ডাকাতদের হামলায় নিহত নাহিদ মিয়া ও সাগর ট্রেনের কামরায় জায়গা না পেয়েই ছাদে চড়ে ভ্রমণ করছিলেন।

র‍্যাব বলছে, নিহত দুজন ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান।

ময়মনসিংহে র‍্যাবের কার্যালয়ে আজ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, রবিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অভিযুক্ত ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে তারা, যাদের হামলায় ওই দুই ব্যক্তি নিহত হয়।

ঘটনার পরদিন গত শুক্রবার রেলওয়ে পুলিশের জামালপুর থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা বিবিসিকে বলেছিলেন, রাতের ট্রেনে ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেছিল। পরে তাদের জামালপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন:

যদিও ট্রেনকে বাংলাদেশে একটি নিরাপদ বাহণ হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু এর ঝুঁকির দিকগুলোও কম নয়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যদিও ট্রেনকে বাংলাদেশে একটি নিরাপদ বাহণ হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু এর ঝুঁকির দিকগুলোও কম নয়

র‍্যাব তাদের রবিবারের সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছে, আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, ট্রেনে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে চারজন, টঙ্গি স্টেশন থেকে তিন জন এবং পরে ফাতেমানগর থেকে তাদের সঙ্গে আরো দুইজন যোগ দেয়।

তারা একত্রিত হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন বগি থেকে লুটপাট শুরু করে।

এক পর্যায়ে তারা ছাদে থাকা "নাহিদ মিয়া এবং সাগরের কাছে আসে তখন তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। সেখানে একটা ধস্তাধস্তি হয়, সেই সময় এই ডাকাত দল অস্ত্র দিয়ে তাদের মাথায় আঘাত করে। আঘাত করার ফলে তারা ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন", সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক উইং কমাণ্ডার রোকনুজ্জামান।

পরে ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনের কাছাকাছি এলে সিগনালের কারণে গতিয়ে কমিয়ে দিলে তারা ট্রেন থেকে নেমে চলে যায়, সংবাদ সম্মেলনে বলছে র‍্যাব-১৪।

উইং কমাণ্ডার রোকনুজ্জামান বলছেন, অভিযুক্তরা একটি "সংঘবদ্ধ চক্র"।

"এরা নিয়মিতভাবে এরকম কার্যক্রম করে আসছে। এরা টঙ্গী, কমলাপুর, ফাতেমানগর, গফরগাঁও স্টেশন থেকে গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে উঠত। তারা ট্রেনে ডাকাতি করে ময়মনসিংহে নেমে যেত"।

র‍্যাব জানাচ্ছে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আর বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: