শহীদ উদ্দিন খান: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্ত কর্নেল ও স্ত্রীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে আদালতের ওই রায়ে।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির আহাম্মদ রুমী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পলাতক থাকায় মি. খানের পক্ষে রাষ্ট্র থেকে একজন কৌঁসুলি নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তবে ওই রায়ের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খান উভয়েই দেশের বাইরে রয়েছেন। আদালতে তাকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা জারি করেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছে।
এই মামলায় আরেক আসামী জহুরুল হক খন্দকারের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া, অপর দুইজন অভিযুক্ততে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ উদ্দিন খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ছয়টি গুলি, দুইটি শটগান ও তিন লাখ সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৭ই জানুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শহীদ উদ্দিন খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগদ ও জাল টাকা উদ্ধার করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এছাড়া, অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করা হয়।
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র আইনের একটি মামলায় এর আগে গত বছরের ১০ই নভেম্বর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো আজ।
এছাড়া, গত বছর ২০শে ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির একটি মামলায় শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হুমকি ও গুমের অভিযোগ সংক্রান্ত খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আলোচিত হয়ে ওঠেন শহীদ উদ্দিন খান। ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে সরকারের একজন সমালোচক হিসেবেও তিনি পরিচিতি পেয়েছেন।








