করোনা ভাইরাস: মৃত্যু আর রোগী শনাক্তে অগাস্ট কি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ মাস?

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চের আট তারিখে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হবার পর অগাস্ট মাসেই সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়েছেন।
একই সঙ্গে সংক্রমিত হবার পর এ মাসেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারাও গেছেন।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬১৮ জন।
মারা গেছেন ২৬ হাজার ১৯৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত আঠারো মাসের মধ্যে রোগী শনাক্ত, মৃত্যু এবং শনাক্তের হার অগাস্ট মাসেই সবচেয়ে বেশি ছিল।
সর্বাধিক মৃত্যু
করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মারা গেছেন মোট ২৬ হাজার ১৯৫ জন।
এর মধ্যে কেবল অগাস্ট মাসেই মারা গেছেন পাঁচ হাজার ৩৯৬ জন।
অর্থাৎ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যত মানুষ মারা গেছেন, তার প্রায় ২১ শতাংশের মত মানুষ কেবল অগাস্ট মাসেই মারা গেছেন।
মারা যাওয়া মানুষের বড় অংশটি হাসপাতালে মারা গেছেন, এবং তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুরুষ।
এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৬ হাজার ৯৮৭ জন ছিলেন পুরুষ আর নারী ছিলেন ৯ হাজার ২০৮ জন।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এ বছরের অগাস্ট মাসের শুরু দিনে ২৪ ঘণ্টায় ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল ।
এরপর পাঁচই অগাস্ট এবং ১০ই অগাস্টেএকদিনে সবোর্চ্চ ২৬৪ জন করে মারা যান।
যদিও দিনে দুইশোর বেশি মৃত্যু শুরু হয়েছিল জুলাই মাসের আগেই।
রোগী শনাক্ত
বাংলাদেশে অগাস্ট মাসের শেষদিন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত মোট রোগী শনাক্ত হবার সংখ্যা ১৫ লাখ ৬১৮ জন।
অগাস্ট মাসের ৩১ দিনে মোট দুই লাখ ৫১ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
অগাস্ট মাসের প্রথম আটদিনেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ চার হাজারের বেশি।
এ মাসের শেষ ১৮ দিনে এসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে।
অগাস্ট মাসের প্রথম দিন প্রতি ১০০টি করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত রোগীর হার ছিল ৩০ শতাংশ।
তবে মাসের শেষদিনে এ হার কমে প্রায় ১২ শতাংশ নেমেছে।
যদিও বাংলাদেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর হার সর্বোচ্চ ছিল জুলাই মাসে।
অগাস্ট কি সবচেয়ে ভয়াবহ মাস?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে যা দেখা যাচ্ছে তাতে প্রশ্ন জাগে তাহলে কি বাংলাদেশের জন্য অগাস্ট মাসই সবচেয়ে ভয়াবহ মাস ছিল?
এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, "করোনাভাইরাসের ইমপ্যাক্ট অনুযায়ী মানে রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর হার বিবেচনা করলে বলা যায় এ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হয়ত অগাস্ট মাসই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।"
দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের ফলে রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যান্য খবর:
তবে তিনি বলেছেন, "আশার কথা হচ্ছে এখন সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। সেটা ধরে রাখতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে যেন এ হার আবার বেড়ে না যায়।"
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে জুলাই মাসের এক তারিখ থেকে কয়েক দফায় 'কঠোর লকডাউন' দেয়া হয়।
যদিও মাঝে ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য কয়েকদিন লকডাউন শিথিল করা হয়।
এরপর আবারও আরেকদফা লকডাউন দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১১ই আগস্ট থেকে লকডাউন শিথিল করে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক থেকে শুরু করে গণপরিবহন, শপিং মল, এবং দোকানপাট খুলে দিয়েছে সরকার।








