আফগানিস্তান: তালেবানের উত্থান বাংলাদেশে কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে?

কাবুলের রাস্তায় তালেবান যোদ্ধারা

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, কাবুলের রাস্তায় তালেবান যোদ্ধারা
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানদের হাতে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড যারা করে, তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসিকে বলেছেন, নতুন করে উগ্রপন্থী সংগঠিত হতে পারবে না বলে তারা বিশ্বাস করেন।

"উগ্রপন্থী নতুন করে যাতে গজাতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে" বলেন মি: মোমেন।

পুলিশ বলেছে, উগ্রপন্থীদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

আফগানিস্তান যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে ছিল, তখন বাংলাদেশ থেকে অনেকে আফগানিস্তানি যুদ্ধে গিয়েছিলেন।

তারা দেশে ফেরার পর অনেকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে অন্যতম দু'জন হলেন মুফতি আব্দুল হান্নান এবং আব্দুর রহমান।

জঙ্গি তৎপরতার দায়ে তাদের ইতিমধ্যে ফাঁসি হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে জঙ্গি একেবারে দূর্বল হয়ে পড়েছে।

ইসলামপন্থী দলগুলোও কি উদ্বিগ্ন?

তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের ইসলামপন্থী একটি দলের নেতা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, উগ্রপন্থীরা কৌশল পাল্টিয়ে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, উগ্রপন্থীদের অনেকে কৌশল পাল্টিয়ে এখন মানহাজি নামের কট্টর তত্ত্ব তুলে ধরছে এবং প্রচলিত ইসলামপন্থী বিভিন্ন দল বা সংগঠনে প্রবেশ করেছে বলে তাদের ধারণা।

উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, "আফগানিস্তানে যখন তালেবানের উত্থান হয়েছে, তাহলে এখানেও কট্টরপন্থী মানহাজীদের তৎপরতা বাড়তে পারে-এমন আশংকা আছে।"

পুলিশের কর্মকর্তারাও বলেছেন, উগ্রপন্থীরা তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অন্যদলে ঢুকে পড়া বা ব্যক্তি হিসাবেই ইন্টারনেট-সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তৎপরতা চালানো- এধরনের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুনোর চেষ্টা করে।

সে কারণে এদের নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ রয়েছে।

এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছবির ক্যাপশান, এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসিন বলেছেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থী যারা তালেবানকে বা তাদের আদর্শকে সমর্থন করতো-তাদের নিয়ে উদ্বেগ বা ঝুঁকি থেকে যায়।

একইসাথে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার সফলভাবেই উগ্রপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।

"কিন্তু উগ্রপন্থীদের সেই আদর্শতো চলে যায়নি, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে" বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আমেনা মোহসিন।

ইসলামপন্থী সব সংগঠনে উচ্ছ্বাস কেন?

ইসলামপন্থী রাজনীতির একজন বিশ্লেষক শরীফ মোহাম্মদ পরিস্থিতিকে দেখেন ভিন্নভাবে।

তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের পট পরিবর্তনে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী সব দল বা সংগঠনেই উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

কিন্তু এর কারণ তালেবান আদর্শ নয় বলে তিনি মনে করেন।

"আগ্রাসী শক্তি থেকে একটা মজলুম দেশের মুক্ত হওয়ার বিষয় উচ্ছ্বাসের পেছনের বড় কারণ" বলে মনে করেন শরীফ মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, "আমেরিকা এবং নেটোর পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুতুল সরকার বসিয়ে দেয়া, সেই পুতুল সরকারকে উচ্ছ্বেদ করার সামর্থ্য অর্জন করা-এরকম অনেকগুলো বিষয় রয়েছে উচ্ছ্বাসের পেছনে।"

শরীফ মোহাম্মদ, ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক

ছবির উৎস, আতিক আনোয়ার

ছবির ক্যাপশান, শরীফ মোহাম্মদ, ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক

শরীফ মোহাম্মদের বক্তব্য হচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী অনেক দলের সাথে তালেবানের আদর্শের মিল থাকতে পারে, কিন্তু তারা সশস্ত্র অবস্থায় চলে যাবে বা ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করবে-এটা তিনি মনে করেন না।

সরকার কী বলছে?

দু'দিন আগে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশের কিছু লোক সেখানে পৌছানোর চেষ্টা করেছে।

সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীও উগ্রপন্থীদের নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, উগ্র কোন শক্তি নতুন করে সংগঠিত হতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

"একসময় আমাদের দেশের কিছু সন্ত্রাসী আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসেছিল। আমরা সেগুলো উৎখাত করেছি" বলেন মি: মোমেন।

সেজন্য তারা বিশ্বাস করেন, "এমন উগ্রপন্থী নতুন করে গজাতে পারবে না"।

তিনি এও বলেছেন যে, উগ্রপন্থী কোন শক্তি যাতে সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটা সরকার করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও বলেছেন, উগ্রপন্থীদের কর্মকাণ্ড সবসময় মনিটর করা হচ্ছে।