বাঘ: যে পাঁচটি উপায়ে এই বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়াতে পারে বাংলাদেশ

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সানজানা চৌধুরী
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বন উজাড়, অবৈধ চোরা শিকারসহ আরও নানা কারণে বাংলাদেশের জাতীয় পশু ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে প্রতিনিধিত্ব করা বাঘ এখন মহা-বিপন্নের তালিকায় রয়েছে।
এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৃহত্তম আবাসভূমি সুন্দরবন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই বনকে তাদের বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করা যায়নি।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্ব থেকে উল্লেখজনক হারে সব প্রজাতির বাঘ কমতে থাকায় ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথমবারের মতো বাঘ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
সেখানে অংশ নেয় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ।
ওই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বে বাঘের সংখ্যা এক যুগের মধ্যে দ্বিগুণ করা।
সম্মেলনে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নেপাল, ভারত, ভুটান, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে তাদের বাঘের সংখ্যা দেড় থেকে প্রায় দুই গুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের বাইরেও দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য অঞ্চলেও কিছু বাঘ আছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ তাদের বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।
পিটার্সবার্গের ওই সম্মেলনের পর ২০১৫ সালে আধুনিক ক্যামেরা টেপিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঘের জরিপ করে বন অধিদফতর। সাথে ছিল ওয়াইল্ড টিম, যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়াম কনজারভেশন বায়োলজি ইন্সটিটিউট।
সে সময় বাংলাদেশের সুন্দরবনে মোট বাঘ পাওয়া যায় ১০৬টি। সে হিসেবে বাংলাদেশ যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চায় তাহলে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা অন্তত ২০০টি বা তার আশেপাশে রাখতে হবে।
সবশেষ ২০১৮ সালের জরিপে দেখা যায় বাঘের মোট সংখ্যা ১১৪টি। অর্থাৎ তিন বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছ মাত্র ৮টি। যা অন্য দেশের অনুপাতে আশানুরূপ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন এর দ্বিগুণ সংখ্যক বাঘ ধারণ করার ক্ষমতা রাখলেও, শিকার ও হত্যা বন্ধ না হওয়ায় কোনভাবেই বাঘের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।
এমন পরিস্থিতিতে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কয়েকটি উপায়ের কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মনিরুল হাসান খান।
আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
১. চোরা শিকার বন্ধ:
বিশেষজ্ঞদের মতে বাঘের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি চোরা শিকারিদের বাঘ হত্যা ও পাচার। বাংলাদেশে এখনও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানান মি. খান।
জাতিসংঘের মতেও সুন্দরবনে চোরা-শিকারিদের অবাধ বিচরণের কারণে বাঘ হুমকির মুখে রয়েছে।
এমন চোরকারবারিদের ঠেকাতে শাস্তির বিধান বাড়িয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সংসদে পাস হয়।
এ আইনে বাঘ শিকারি বা হত্যাকারী জামিন-অযোগ্য হবেন এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর ও সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ থেকে ১০ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলে উল্লেখ আছে।
এরপরও প্রতি বছর একাধিক বাঘ শিকারি ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু বাঘ শিকার ও পাচারের প্রকৃত সংখ্যা তারও কয়েকগুণ বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
একারণে সুন্দরবনে কঠোর নজরদারিসহ স্মার্ট পেট্রোলিং-এর ব্যবস্থা বা টহল কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলছেন, সুন্দরবনের যেসব এলাকা অপরাধপ্রবণ এবং চোরাকারবারিদের রুট হিসেবে ব্যবহার হয় সেইসব এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন করে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
বাঘ শিকার, ফাঁদ/ বিষটোপ ফেলা এবং ডাকাতের উপদ্রব বন্ধের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে সমগ্র সুন্দরবনে নিয়মিতভাবে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন মি. খান।

ছবির উৎস, Getty Images
সুন্দরবনে চোরা-শিকারিদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বাঘ বা বাঘের শাবক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব বাঘ মেরে তাদের শরীরের চামড়া, হাড়সহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। বাঘের চামড়া, দাঁত অনেকে ঘর সাজাতে ব্যবহার করেন।
আবার কোনো কোনো দেশে ওষুধ হিসেবে বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার হয়ে থাকে।
যদিও বিশ্বের কোথাও বাঘের অঙ্গ দিয়ে ওষুধ বানানোর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা আইনগত বৈধতা নেই বলে জানিয়েছেন মি. খান।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বাঘের চামড়া, হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হতে তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইন প্রণয়ন করা হলেও চোরাপথে এসব পাচার ও কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
ই পাচার ঠেকাতে সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, যেসব দেশে বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবহার রয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের সচেতন ও সতর্ক করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বাঘের চাহিদা না থাকলে বাঘ শিকার হবে না, যার ফলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
গবেষণায় দেখা যায়, চোরা শিকার বন্ধ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।
বাঘ বাড়ানোর জন্য যেমন বন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, একইভাবে বন রক্ষা করতেও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
কারণ শিকারি প্রাণী বাঘ বনের সার্বক্ষণিক পাহারাদারের কাজ করে। যেখানে বাঘ আছে, সেখানে মানুষ যায় না। ফলে বন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও কোন সুযোগ থাকে না।

ছবির উৎস, Getty Images
২. বাঘের খাদ্য হিসেবে প্রাণী সংরক্ষণ:
খাদ্যের অভাবেও বাঘের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাণী বিজ্ঞানী মনিরুল হাসান খান বলেন, প্রতিটি বাঘের জন্য বনে অন্তত ৫০০টি প্রাণী থাকতে হবে যা বাঘ শিকার করতে পারে। সে হিসেবে বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে যদি ২০০টি করতে হয় তাহলে বনে অন্তত ১ লাখ প্রাণী থাকা দরকার।
সুন্দরবনে বাঘ যেসব প্রাণী শিকার করে তার মধ্যে রয়েছে হরিণ, শুকর, বানর, বুনো মোষ, ইত্যাদি।
প্রায়ই পত্রপত্রিকায় দেখা যায়, বনের হরিণ শিকার হচ্ছে। অথচ বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে এসব প্রাণীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। বাঘের খাবার যদি কমে যায়, তাহলে মহা-বিপন্ন প্রাণীটি বাংলাদেশ থেকে অচিরেই হারিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নজরদারি ও টহল জোরদারের মাধ্যমে এসব প্রাণীর পাচার রোধ করা সম্ভব। এছাড়া চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নজির সৃষ্টি করা জরুরি বলেও তারা মনে করছেন।
এছাড়া সুন্দরবনের কাছাকাছি হরিণ ও শূকরের খামার তৈরি করে বাঘের খাদ্য চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
৩. নৌ চলাচল ও শিল্প কারখানা স্থাপন বন্ধ করা
বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে এই প্রাণীটি যাতে তার স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দূষণ এবং নদীনালা দিয়ে লাগামহীনভাবে নৌযান চলাচল।
সার, তেল ও অন্যান্য মালবাহী জাহাজ চলাচলের শব্দ যেমন আছে, তেমনি যেকোনো দুর্ঘটনায় বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশঙ্কা আছে।
এক্ষেত্রে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল হ্রাস করে বিকল্প পথে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলছেন, সুন্দরবনের একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে জাহাজ বা ছোটবড় নৌযান চলাচল সীমিত করে আনতে হবে।
যেসব নৌযান চলবে সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে চালানোর পাশাপাশি শব্দ এবং আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখতে হবে যেন রাতের বেলা বাঘ নদীগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
আবার বনাঞ্চল ধ্বংস করে ভারী শিল্প অবকাঠামো, কলকারখানা, জনবসতি, হাট-বাজার, বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাছের ঘের, রাস্তাঘাট গড়ে তোলার কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে বাঘের আবাসস্থল ক্রমেই তাদের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলেও তারা মনে করছেন।
এমন অবস্থায় সুন্দরবনের পাশে যে কোনো ধরনের শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা যেন গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।
অপরিকল্পিত পর্যটনেরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাঘের ওপর। এক্ষেত্রে সুন্দরবনের ভেতরে জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করে আনতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
৪. বাঘ-মানুষ সংঘাত কমানো, আবাসস্থল রক্ষা
সুন্দরবন সংলগ্ন জনবসতি ক্রমেই বনের কাছাকাছি চলে আসায়, সেইসঙ্গে বন ও লোকালয়ের মাঝের খাল-নদী ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ায় বনের বাঘ ঘন ঘন খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
এক্ষেত্রে স্থানীয়রা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি তারা বাঘকে পিটিয়ে আহত বা হত্যা করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে গত দেড় বছরে তিনটি বাঘকে গণপিটুনি দিয়ে মারা হয়েছে।
লোকালয়ে বাঘ ও মানুষের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কমানো না গেলে অপঘাতে বাঘের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে বিআশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলছেন, বনের কাছাকাছি যদি মানুষের বসবাস থেকে থাকে তাহলে ওই লোকালয় সুন্দরবন থেকে সরিয়ে লোকজনকে অন্যত্র পুনর্বাসন করতে হবে।
সুন্দরবন ও লোকালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে মানুষ এবং বাঘকে আলাদা রাখতে হবে।
লোকালয়ে আসা বাঘ যাতে নিরাপদে বনে ফিরতে পারে সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের ওপর স্থানীয়দের মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাঘের সংখ্যা কমার আরেকটি বড় কারণ।
এই অঞ্চলে লবণাক্ত পানির কারণে চাষবাস না হওয়ায় অধিবাসীরা জীবন-জীবিকার জন্য প্রধানত বন ও বনসম্পদের ওপর নির্ভর করেন।
কেউ কাঠ কাটে, গোলপাতা সংগ্রহ করে, কেউ মধু সংগ্রহ করে, আবার কেউবা মাছ ধরেন। এতে নির্বিচারে বন উজাড় হচ্ছে। সংকটে পড়ছে বাঘের আবাসস্থল।
আবার বাওয়ালী, জেলে, মৌয়ালী ও জ্বালানি কাঠ আহরণকারীরা বাঘের আক্রমণের শিকার হওয়ায় তাদের জীবন যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে তেমনি বাঘও মানুষের আক্রমণের মুখে পড়ছে।
এক্ষেত্রে সুন্দরবন অংশে স্থানীয়দের বিকল্প জীবন-জীবিকা যেমন গবাদিপশু পালন ও মাছ চাষের মতো বিভিন্ন উপায়ে আয়- রোজগারের ব্যবস্থা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলছেন, বাঘের আক্রমণে নিহত ও আহত মানুষ ও গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। আবার সুন্দরবনে দিনে রাতে যথেচ্ছভাবে মাছ ধরা ঠেকাতে বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল প্রয়োজন।
এছাড়া গত দেড় বছরে সুন্দরবনে মোট পাঁচবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মৌয়ালদের মধু সংগ্রহসহ আরও নানা কারণে এমনটা হয়ে থাকে।
এই আগুন বাঘের বংশবিস্তারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন।

ছবির উৎস, Getty Images
৫. জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি
বাঘের বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়ানোও বেশ জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বলতে বোঝায় বাঘের বিচরণের ক্ষেত্র বাড়ানো।
যেমন খুলনায় কোন বাঘ উদ্ধার হলে সেটি চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে ছেড়ে দিলে বাঘের জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়বে।
তবে বাঘ যদি তার আবাসস্থলে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার পায় তাহলে তারা তাদের অঞ্চল সাধারণত ছেড়ে যায় না।
এছাড়া বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, ফলে সুন্দরবনের জলাশয়ে ক্রমেই লবণাক্ততা বাড়ছে।
সেইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
তাই সুপেয় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার জন্য প্রাকৃতিক জলাধারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে বাধ নির্মাণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোরও ব্যবস্থা করতে হবে।








