আফগানিস্তান: ২০২১ সালে বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক- জানাচ্ছে জাতিসংঘ

কাবুলের রাস্তায় একটি যুদ্ধ-বিরোধী দেয়াল অঙ্কন, ১১/০৭.২০২১

ছবির উৎস, SAJJAD HUSSAIN

ছবির ক্যাপশান, কাবুলের রাস্তায় একটি যুদ্ধ-বিরোধী দেয়াল অঙ্কন।

আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় এবছরের প্রথম ভাগে রেকর্ড সংখ্যায় বেসামরিক মানুষ মারা গেছে বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের নতুন একটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে ২০২১ সালে এ পর্যন্ত ১,৬০০-র ওপর বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। তাদের এই রিপোর্ট বলছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবছর ৪৭ শতাংশ বেশি মানুষ মারা গেছে।

জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আফগান সরকারি বাহিনীর সাথে এখন তালেবান বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। তালেবান এখন আফগানিস্তানের বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

দেশটিতে প্রায় বিশ বছর বিদেশী সৈন্যরা তাদের মিশন চালানোর পর এখন বেশিরভাগ সৈন্যই আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে।

আরও পড়ুন:

কাবুলে ট্রাক বোমা হামলায় আহত এক ব্যক্তির স্বজন হাসপাতালের বাইরে

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে লড়াইয়ে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা বাড়ছে

নজিরবিহীন প্রাণহানির হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তানে ২০০৯ সালে জাতিসংঘ হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করতে শুরু করার পর থেকে এই বছরের মে এবং জুন মাসে হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ বেড়েছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, ৬৪% বেসামরিক মানুষের হতাহতের জন্য সরকার বিরোধী বাহিনী দায়ী। সরকারি বাহিনীর হাতে হতাহতের পরিসংখ্যান ২৫% এবং ক্রসফায়ারে মারা গেছে ১১% বেসামরিক জনগণ। সব হতাহতের মধ্যে ৩২% শিশু।

দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে খুবই ধীর গতিতে।

আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেব্রা লিওন্স দু পক্ষকেই "এই সংঘাতের মর্মান্তিক পরিণাম ও উর্ধ্বমুখী প্রাণহানির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার" আহ্বান জানিয়েছেন।

''এই প্রতিবেদন একটা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে এবছর আফগান বেসামরিক মানুষ নজিরবিহীন সংখ্যায় প্রাণ হারাবে এবং গুরুতর আহত হবে যদি ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় রাশ টানা না হয়,'' জাতিসংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্তব্য করেছেন ডেব্রা লিওন্স।

আফগানিস্তানে বেসামরিক মানুষের হতাহতের পরিসংখ্যান
1px transparent line

আফগানিস্তানে ২০০১ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান তালেবানকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে পারেনি।

এবছর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেছেন আফগানিস্তান থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

শনিবার আমেরিকার শীর্ষ সেনা অধিনায়ক জেনারেল কেনেথ ম্যকেঞ্জি বলেছেন আফগান সৈন্যদের সহায়তা করতে আমেরিকান বাহিনী বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন তালেবানের বিজয় অবশ্যম্ভাবী নয়।

তবে আমেরিকা ৩১শে অগাস্ট দেশটিতে তাদের সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবার পরেও তারা এই বিমান হামলা চালিয়ে যাবে কিনা জেনারেল ম্যাকেঞ্জি তা স্পষ্ট করে বলেননি।

তালেবান কান্দাহার শহরে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখলে গত সপ্তাহে আমেরিকান বাহিনী তালেবানের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

এদিকে তালেবানের শহর দখলের অভিযান প্রতিহত করার চেষ্টায় আফগান কর্মকর্তারা শনিবার দেশের প্রায় সর্বত্র এক মাসব্যাপী রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে।