আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
নারী বৈষম্য: মেয়েদের খেলার পোশাক নিয়ে লিঙ্গবৈষম্যবাদী খবরদারি কেন থামছে না
"পোশাক সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনতে আমরা একসাথে লড়বো - যাতে খেলোয়াড়রা যে যেমন পোশাকে স্বচ্ছন্দ বোধ করে - তা পরে খেলতে পারে।"
এই বিবৃতিটি দেয়া হয়েছিল নরওয়েজিয়ান হ্যাণ্ডবল ফেডারেশনের (এনএইচএফ) পক্ষ থেকে।
এর কারণ, দেশটির নারী বিচ ভলিবল দলকে ১,৫০০ ইউরো জরিমানা করেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কর্তৃপক্ষ।
কী ছিল তাদের অপরাধ? কারণ তাদের নারী খেলোয়াড়রা বিকিনি বটম বা বিকিনির নিচের অংশের মত দেখতে শর্টস পরতে অস্বীকার করেছিলেন।
কিন্তু আগের দিনই ওই একই প্রতিযোগিতায় একজন নারী প্যারা-এ্যাথলিটকে বলা হয়েছিল তার নিম্নাঙ্গের পোশাক "খুব বেশি ছোট এবং শরীর-দেখানো।"
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, নারী এ্যাথলেটরা ( বা সাধারণভাবে নারীরা) কি পরবে-না-পরবে তা নিয়ে এ ধরনের খবরদারি নতুন কিছুই নয়।
এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কিছু ঘটনা, এবং তার পর কী হয়েছিল তার কাহিনি পড়ুন এখানে।
বিকিনি না পরায় বিচ হ্যাণ্ডবল টিমকে জরিমানা
নরওয়েজিয়ান বিচ হ্যাণ্ডবল দলের খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছিলেন, তাদেরকে পরার জন্য যে সংক্ষিপ্ত পোশাক দেয়া হয়েছে তাতে খুব বেশি যৌনতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে এবং সেটা আরামদায়কও নয়।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নরওয়ের ব্রোঞ্জ পদক-নির্ধারণী এই ম্যাচটি ছিল স্পেনের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে নরওয়ের নারী খেলোয়াড়রা তার পরিবর্তে শর্টস পরবেন বলে ঠিক করলেন।
বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:
খেলার আগে নরওয়ে, আন্তর্জাতিক হ্যাণ্ডবল ফেডারেশনের কাছে শর্টস পরার অনুমতি চাইলো।
তাদের আবেদন শুধু যে প্রত্যাখ্যান করা হলো তাই নয়। তাদের মনে করিয়ে দেয়া হলো যে নিয়ম ভঙ্গ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ । কিন্তু নরওয়ের মেয়েরা শর্টস পরেই খেললেন, এবং তার পর এ জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১৭৭ ডলার সমমানের জরিমানা করা হলো।
ইউরোপিয়ান হ্যাণ্ডবল ফেডারেশন এর কারণ হিসেবে বললো, নরওয়ের খেলোয়াড়রা যে শর্টস পরেছেন তা আইএইচএফের বিচ হ্যাণ্ডবলের ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
প্রতিক্রিয়া
কিন্তু এই জরিমানার প্রতিক্রিয়া হলো ব্যাপক।
অনেকে প্রশ্ন তুললেন, পুরুষদের বিচ ভলিবলে খেলোয়াড়রা লম্বা এবং ঢিলেঢালা শর্টস এবং টপস পরেন যা তাদের উরুর উপরিভাগ পর্যন্ত ঝুলে থাকে। তাহলে মেয়েরা ওইরকম পোশাক পরতে পারবে না কেন?
"এ্যাথলেটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো তারা যাতে আরাম বোধ করে তেমন পোশাক পরা" - বলছেন নরওয়ের হ্যাণ্ডবল ফেডারেশনের প্রধান কারে গাইর লিও।
নরওয়ের ভলিবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এইরিক সোরডাল বলছেন, "আমরা ২০২১ সালে আছি, এখন এগুলো কোন বিতর্কের বিষয় হওয়াই উচিৎ নয়।"
দেশটির সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী আবিদ রাজা এক টুইট বার্তায় লেখেন, "এটা একেবারেই হাস্যকর, আন্তর্জাতিক খেলার জগতের রক্ষণশীল ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন।"
আমেরিকান গায়ক পিংক টুইটারে প্রস্তাব করেন, এ জরিমানা তিনি নিজেই দিয়ে দেবেন।
প্রকৃতপক্ষে বিচ স্পোর্টস ইভেন্টগুলোতে নারী-পুরুষের পোশাকের এই পার্থক্য নিয়ে নারী খেলোয়াড়রা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। তারা বলেছেন, বিকিনি পরে খেলাটা অবমাননাকর, এবং এ পোশাক বাস্তবসম্মতও নয়।
ক্রীড়া সাংবাদিক রেনাটা মেনডোংকা বিবিসিকে বলছেন, "সব খেলারই নিয়মকানুন দরকার, কিন্তু যখন আমরা দেখি কিছু নিয়ম করা হয়েছে শুধু মেয়েদের জন্য - তখন বলতেই হবে এখানে একটা সমস্যা রয়েছে।"
"এটা হচ্ছে সূক্ষ্ম লিঙ্গবৈষম্যবাদী বা সেক্সিস্ট মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে খেলাধূলার জগতে এটা খুব বেশি ঘটে থাকে এবং অনেক নারী এ্যাথলিট যে খেলা ছেড়ে দেন - এটা তার পেছনে একটা বিরাট কারণ," - বলছেন সাবেক আইনজীবী ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুতকারক টোভা লেই।
"এখানে শর্টসটা আসল প্রশ্ন নয়, আসল বিষয়টা হলো এই ২০২১ সালেও নারীদের বলা হচ্ছে তারা কি পরতে পারবে বা পারবে না - কারণ নারীদের দেহকে এখনো পুরুষের জন্য একটি পণ্য বা বস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই সবাই এ বিষয়ে কিছু বলার, কোন দাবি জানানোর বা মন্তব্য করার অধিকার পেয়ে যায়।
"খেলার জগতে মেয়েদের গুরুত্বের সাথে নেয়া হয় না, তাদের দেখা হয় চোখের আরামের বিষয় হিসেবে - পেশাদার এ্যাথলেট হলেও তাদের সেভাবে দেখা হয় না," বলছেন লেই।
প্রতিদিন কীভাবে লিঙ্গবৈষম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে নারীদেহকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয় - তা নিয়ে অনেক লিখেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন টোভা লেই।
মিজ মেনডোংকা বলছেন, "বিকিনি পরে খেলার পেছনে কোন যুক্তিসংগত কারণ দেখানো যায় না। মেয়েরা যদি শর্টস পরে খেলে তাহলে আসল খেলাটাতে তো কোন পরিবর্তন ঘটে যাবে না - বরং লাভ হবে এই যে মেয়েরা অনেক স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন।"
মিজ মেনডোংকা অন্য কয়েকজনের সাথে মিলে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে খেলাধুলায় নারীদের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করা, মূলধারার মিডিয়ায় তাদের যতটা সুযোগ তার মতে প্রাপ্য কিন্তু যা দেয়া হয় না - তা পাওয়া নিশ্চিত করা।
"নরওয়েজিয়ান হ্যাণ্ডবল দলের ঘটনাটিতে বোঝা যায় যে এসব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তৈরিই হয়েছে পুরুষদের জন্য। এই ২০২১ সালেও যারা ক্রীড়া সংস্থাগুলো পরিচালনা করে -তারা সাধারণত শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হয়, এবং তারা নারী এ্যাথলেটদের দেখেন অলংকার হিসেবে - যার লক্ষ্য পুরুষদের আনন্দ দেয়া। নারীদের জন্য সর্বোত্তম পোশাক কী তা নারীদেরই ঠিক করতে পারা উচিত। কিন্তু ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে যেহেতু নারীদের উপস্থিতি খুবই কম বা একেবারেই নেই - তাই নারী এ্যাথলেটদের কণ্ঠ কেউ শোনে না" - বলেন তিনি।
"এটা কী করে হয় যে নারী এ্যাথলেটদের কথাকে বিবেচনায় নেয়া হয় না, কেনই বা নারী খেলোয়াড়দের দেহ ও পোশাকের ওপর খবরদারি করে সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং তার আশপাশের লোকেরা?"
প্যারা-এ্যাথলেটের পোশাক "বেশি ছোট" ,"শরীর দেখানো"
নারী এ্যাথলেটদের পোশাক নিয়ে এমন ঘটনার মুখোমুখি যে শুধু নরওয়েজিয়ান দলই হয়েছে তা নয়। এমন ঘটনার মধ্যে এটিই যে সর্বশেষ হবে - তাও হয়তো নয়।
নরওয়েজিয়ান টিমের জরিমানার ঘটনার ঠিক আগের দিনই জিবি বা গ্রেট ব্রিটেন দলের প্যারা-এ্যাথলেট এবং দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অলিভিয়া ব্রিন -কে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিযোগিতা করার সময় "আরো শালীন" শর্টস পরতে বলা হয়।
অলিভিয়া ব্রিন একথা শুনে "হতবাক হয়ে যান।"
মন্তব্যটি এসেছিল একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন অলিভিয়ার শর্টস "বেশি ছোট" এবং "শরীর দেখানো"। (সেই পোশাক কেমন ছিল তা ওপরের টুইট বার্তায় দেখা যাচ্ছে।)
টোকিওর প্যারালিম্পিকেও স্প্রিণ্ট এবং লং জাম্প ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন অলিভিয়া ব্রিন। তিনি বলছেন, তিনি এ ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন কারণ তিনি চান অন্যদের ক্ষেত্রে যেন এমন না হয় - সেটা নিশ্চিত করতে।
বিবিসির কাছে তিনি তার পোশাককে "উঁচু কোমরওয়ালা বিকিনি বটম" বলে অভিহিত করে বলেন, "প্রতিযোগিতা করার সময় আমরা যতটা সম্ভব হালকা বোধ করতে চাই। যাতে পোশাকটা আমাদের ভারী না লাগে এবং আরামপ্রদ হয়।"
"আমি এ পোশাক নয় বছর ধরে পরে আসছি, কখনো কোন সমস্যায় পড়িনি। আমরা যা পরতে পারি সেটাই আমাদের পরা উচিত।"
লেই বলছেন, "দুটি ঘটনা কারো কাছে হয়ত পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে , কিন্তু আসলে তারা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।"
"নারীদেহকে একটা সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, আচরণও করা হয় সেভাবেই। আমাদের শরীর যেন হয় "অশালীন", বা "যথেষ্ট বিনোদন দিতে অক্ষম।"
হিজাব পরে খেলা
২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকসের একটি ছবি অনলাইনে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়, এ নিয়ে প্রচুর মন্তব্যও পড়ে। তাতেও এই একই বিষয় আবার আলোচনায় উঠে আসে।
ছবিটি ছিল দুজন নারী বিচ ভলিবল খেলোয়াড়ের - একজন মিশরের, অপরজন জার্মানির।
এ নিয়ে যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলো, তা তাদের ক্রীড়ানৈপুণ্য নিয়ে হয়নি। হয়েছিল তাদের "বিপরীতধর্মী" পোশাক নিয়ে। কিছু সংবাদপত্রে লেখা হলো, এই ছবিতে ফুটে উঠেছে "দুই সংস্কৃতির সংঘাত ।"
এ মন্তব্যকে প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করে অনেকে বললেন, এ ছবিতে আসলে খেলার মধ্যে যে 'সেতুবন্ধন রচনার শক্তি' আছে - সেটাই ফুটে উঠেছে।
ছবিটিতে যে মিশরীয় খেলোয়াড়কে দেখা যাচ্ছে তিনি হলেন দোয়া এল-খোবাশি - প্রথম হিজাব-ধারী বিচ ভলিবল খেলোয়াড়।
তিনি সেসময় বলেছিলেন, "আমি ১০ বছর ধরে হিজাব পরছি। আমি যা যা করতে ভালোবাসি - তার কোনোটাতেই হিজাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। বিচ ভলিবল সেগুলোরই একটি।"
তবে একটি ছবিকে ঘিরে এ বিতর্ক অন্য অনেকের মতে একটি বৃহত্তর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে।
ব্রিটিশ সাংবাদিক হান্না স্মিথ সে সময় লিখেছিলেন, "আপনি যে সংস্কৃতি থেকেই এসে থাকুন, তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ নারীর শরীর এবং সেই শরীরে কি পোশাক পরানো হচ্ছে, তা এরপরেও জনগণের - বা আরো নির্ভুলভাবে বলতে গেলে পিতৃতন্ত্রের - সম্পত্তিই রয়ে যাচ্ছে ।"
"একজন নারী হিসেবে আপনি যে পোশাক পরেই খেলতে নামুন না কেন, আপনার বিচার সব সময়ই করবে পুরুষ দর্শকরা।"
সেরেনা উইলিয়ামসের 'ক্যাটস্যুট'
আমেরিকান টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস সন্তানের মা হবার পর ২০১৮ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জেতেন। বিজয়ের পর তিনি তার পরিহিত পোশাকটিকে "সেই সব মায়েরা যারা একটি কঠিন গর্ভাবস্থা পার করেছেন" তাদের প্রতি উৎসর্গ করেছিলেন।
'ক্যাটস্যুট' নামে পরিচিতি পাওয়া সেই পোশাক পরে তার নিজেকে মনে হয়েছে 'ওয়াকাণ্ডার রানির' মতো - ব্ল্যাক প্যান্থার সিনেমার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী সেরেনা।
তাকে অবশ্য বলা হয়েছিল যে ওই পোশাক পরে তাকে আবার খেলতে দেয়া হবে না।
ফরাসি টেনিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বার্নার্ড গিউডিচেলি তাকে বলেছিলেন, "আমার মনে হয় কখনো কখনো আমরা বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। আপনাকে খেলাকে এবং যেখানে খেলছেন সেই স্থানকে সম্মান করতে হবে।"
উইলিয়ামস বলেছিলেন, ওই পোশাক তাকে গর্ভকালীন রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা মোকাবিলা করতে সহায়ক হয়েছে - যা তার ভাষায় তাকে "প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।"
তিনি বলেছিলেন যে এ নিয়ে গিউডিচেলির সাথে তার কথা হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত খুব বড় কোন ব্যাপার নয়। "যদি তারা জানতে পারে যে কিছু জিনিস স্বাস্থ্যের কারণেই করা হয়, তাহলে তারা এটা মেনে নেবে না - তা হতেই পারেনা।"
তাহলে যেহেতু নারী এ্যাথলেটরা এসব ব্যাপারে একটা অবস্থান নিচ্ছেন, লোকেও এ নিয়ে মন খুলে কথা বলছে - তাই এ ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন কি ঘটছে, এমন কথা কি বলা যায়?
টোকিও অলিম্পিকসে জিমন্যাস্টদের পুরো-শরীর-ঢাকা স্যুট
অলিম্পিকসে মেয়েদের কোয়ালিফাইং পর্বে জার্মানির জিমন্যাস্টরা পুরো শরীর ঢাকা স্যুট পরেছেন। তারা তাদের এই খেলায় যৌনতার প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।
তাদের কেউ কেউ এবছরের শুরুর দিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতই পোশাক পরেছেন। সারাহ ভস বলছেন, তিনি এবং তার টিমমেটরা চান - এই খেলায় তরুণ প্রতিযোগীরা যেন নিজেদের নিরাপদ বোধ করতে পারেন।
বডি স্যুট এই খেলার ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি ভেঙেছে। বেশির ভাগ জিমন্যাস্টই লিওটার্ড পরিধান করেছেন। আর যারা নিজেদের পা ঢেকে রেখেছেন - তারা সেটা করেছেন ধর্মীয় কারণে।
গত সপ্তাহে জার্মান দল অনুশীলনের সময়ও এ পোশাক পরেছে। তিনবারের অলিম্পিয়ান সেইৎজ তখন বলেছিলেন, "এটা আরামদায়ক বলেই করা হয়েছে।"
"আমরা এটা দেথাতে চেয়েছি যে প্রতিটি নারীই নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি কী পরবেন" - বলেন তিনি।
সোল ক্যাপ
সোল ক্যাপের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সহজ ছিল না- তবে এখন ৪তাতেও পরিবর্তন হাওয়া লেগেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোয় আফ্রিকান স্টাইলের চুল ঢাকার জন্য সাঁতারুদের মত টুপি পরা প্রথমে অনুমোদন না করার সিদ্ধান্তই হয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হবার পর তা হয়তো পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সোল ক্যাপ বলেছে, বিশ্ব সাঁতার প্রশাসক সংস্থা (ফিনা) বলেছিল যে তাদের এই টুপি যথাযথ নয় - কারণ তা মানুষের মাথার স্বাভাবিক গঠন অনুযায়ী তৈরি নয়।
কিন্তু এ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন সাঁতারুরা । অনেকে বলেন, এর ফলে কৃষ্ণাঙ্গরা এ খেলায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হবেন।
ফিনা এখন বলছে, তারা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে।
নারী এ্যাথলেটরা তাদের পোশাকের জন্য সমালোচনার শিকার হচ্ছেন - এমন ঘটনা যে ভবিষ্যতে সংবাদ শিরোনাম হবেনা এমন সম্ভাবনা কম।
কিন্তু লেই বলছেন, "আমরা সবাই অন্তত একটা কাজ করতে পারি - আর তা হলো এমন কিছু ঘটলে তা নিয়ে কথা বলা।"
"কেন? কারণ অল্পবয়স থেকেই মেয়েদের এটা দেখানো দরকার যে খেলাধূলা নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ।"