নিশীথ প্রামাণিকের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে বিতর্ক : ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জন্ম গাইবান্ধায় না কোচবিহারে, তার তদন্তের দাবি

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার একজন নতুন সদস্য ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিশীথ প্রামাণিক আসলে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে বিরোধী কংগ্রেসের একজন সিনিয়র নেতা ও আসামের এমপি রিপুন বোরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দাবি জানিয়েছেন, মি. প্রামাণিক মিথ্যা হলফনামা দিয়ে নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করেছেন কি না - তার জন্ম কোচবিহারে না কি গাইবান্ধায় তার তদন্ত করতে হবে।
এই দাবিকে সমর্থন করছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলও, তারা বলছে একজন বাংলাদেশিকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়ে থাকলে মোদী সরকার দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করেছে।
বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে - মন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিরোধীরা আদালতে যেতে পারেন।
বস্তুত মাত্র দিনদশেক আগেই ভারতে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার নবীন সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেছেন নিশীথ প্রামাণিক।
আরও পড়তে পারেন :
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post, 1
মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই বিজেপি নেতা মন্ত্রিসভার একজন তরুণ মুখই শুধু নন, প্রথমবার মন্ত্রী হয়েই তিনি পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বা অমিত শাহ-র ডেপুটির দায়িত্ব।
মাত্র দুবছর আগে বিজেপিতে যোগদান করলেও দল যে তাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা তার এই রাজনৈতিক উত্থানের মধ্যে দিয়েই প্রমাণিত।
কিন্তু কেন্দ্রে মন্ত্রী হওয়ার পর এক সপ্তাহ যেতে না-যেতেই কোচবিহারের এই বিজেপি এমপি-র নাগরিকত্ব নিয়ে চরম অস্বস্তকির প্রশ্ন তুলেছেন আসামের কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভার এমপি রিপুন বোরা।
পার্লামেন্টে নিজের লেটারহেডে গত ১৬ জুলাই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা এক চিঠিতে মি বোরা বলেছেন, বেশ কিছু গণমাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়েছে নিশীথ প্রামাণিক আসলে বাংলাদেশের নাগরিক এবং জাল হলফনামা দিয়ে তিনি ভারতের নির্বাচনে লড়েছেন।
নিশীথ প্রামাণিকের আসল জন্মস্থান বাংলাদেশের গাইবান্ধায় না কি ভারতের কোচবিহারে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেটিও তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন কংগ্রেসের ওই প্রবীণ নেতা।

ছবির উৎস, Getty Images
রিপুন বোরা রবিবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ওই অভিযোগ কিন্তু আসলে ঠিক আমার তোলা নয়। আমি পাবলিক ডোমেইনে, অর্থাৎ বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে, ডিজিটাল মিডিয়া বা খবরের কাগজে যে তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতেই একজন সাধারণ নাগরিক ও পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে এই প্রশ্নটা তোলা উচিত মনে করেছি।"
"ওই সব খবরে বলা হয়েছে আসলে তার জন্মস্থান হল বাংলাদেশের গাইবান্ধায়, অথচ তিনি নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দিয়ে বলছেন তার জন্ম না কি কোচবিহারে।
"দেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যদি এখানে সত্যি গোপন করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই অতি গুরুতর ব্যাপার - আর সে জন্যই আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি," বলেন মি. বোরা।
মি বোরা চিঠিতে আরও লিখেছেন, গাইবান্ধা থেকে ভারতে একটি কম্পিউটার কোর্স করতে এসে নিশীথ প্রামাণিক ডিগ্রি পাওয়ার পরও আর না কি বাংলাদেশে ফিরে যাননি।
সম্প্রতি তিনি ভারতে মন্ত্রী হওয়ার তার গাইবান্ধার গ্রামে আত্মীয়-পরিজনদের উল্লাসের ছবি পর্যন্ত কোনও কোনও চ্যানেলে দেখানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post, 2
তার তোলা এই অভিযোগের সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, বছরদুয়েক আগেও নিশীথ প্রামাণিক নিজে যে দলের নেতা ছিলেন।
ব্রাত্য বসু, ইন্দ্রনীল সেন-সহ রাজ্যে দলের একাধিক মন্ত্রী রিপুন বোরা-র চিঠিকে হাতিয়ার করে বলছেন, নিশীথ প্রমাণিক যদি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হন তাহলে এমন লোককে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে সরকার দেশের নিরাপত্তার চরম অবহেলা করেছে।
কিন্তু দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব এই সব অভিযোগ আমল দিতেই রাজি নন।
দিল্লিতে দলের মুখপাত্র সর্দার আর পি সিং বিবিসিকে বলছিলেন, "চাইলে তৃণমূল বরং আদালতে যাক - সেখানে গিয়ে আপিল করুক। আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্তও দাবি করতে পারে তারা, কোনও সমস্যা নেই।"
"কিন্তু কী করে এটা ভাবা হচ্ছে যে কোনও সিকিওরিটি চেক ছাড়াই কাউকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়েছে?"
বিবিসি বাংলার আরও খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
"তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনও তো মি. প্রামাণিকের হলফনামা যাচাই-বাছাই করে দেখেছে। যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে সেটা হয়েছে দু'বছরেরও বেশি আগে - ফলে তার হলফনামা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সেটা নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য তো অনেক সময় তারা পেয়েছেন।"
"আসলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর যে সহিংসতা শুরু হয়েছে এবং আদালত থেকে শুরু করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সে জন্য তৃণমূল সরকারকে যেভাবে সমালোচনা করছে সেখান থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এসব আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে," মন্তব্য আর পি সিংয়ের।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক নিজে অবশ্য এই বিতর্ক নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি।
দিল্লিতে তিনি রবিবার উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সঙ্গে দেখা করে সে ছবি টুইট করেছেন, গতকালও দিয়েছেন ভারতের অলিম্পিক প্রতিযোগীদের সঙ্গে দেখা করার ছবি - কিন্তু তার নাগরিকত্বের প্রশ্ন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে এখনও একটিও শব্দ তিনি খরচ করেননি।








