হাইতি: বাসভবনে আততায়ীর হামলায় নিহত দেশটির প্রেসিডেন্ট

ছবির উৎস, EPA
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভনেল ময়েস রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে তার বাসভবনে আততায়ীর হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্ন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লড জোসেফ।
ক্লড জোসেফ বলেছেন একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি স্থানীয় সময় দিবাগত রাত একটার সময় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আকস্মিকভাবে ঢুকে পড়ে।
ফার্স্ট লেডিও হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
মি. জোসেফ জানিয়েছেন যে ''রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত রাখতে সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে''।
মিস্টার জোসেফ জানিয়েছেন, তিনি দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং পরিস্থিতি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীতে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
জোভনেল ময়েস ফেব্রুয়ারি ২০১৭ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। তার পূর্বসূরী মিশেল মার্টেলি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ৫৩ বছর বয়সী মি. ময়েস ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার পর থেকে মি. ময়েস নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে শাসন চালাচ্ছিলেন।
মি. ময়েসের শাসনকাল খুবই সমস্যা জর্জরিত ছিল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল এবং প্রায়ই সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
এ বছরের গোড়াতে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স এবং দেশের অন্যান্য শহরে তার পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
হাইতির বিরোধী দল বলছে মি. ময়েসের ক্ষমতার পাঁচ বছরের মেয়াদকাল ২০২১ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া উচিত ছিল। তার পূর্বসূরী মি. মার্টেলি পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন।
কিন্তু মি. ময়েস জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি যেহেতু ২০১৭ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করেন তাই আরও এক বছর তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান।
তার বাড়তি এক বছর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যে ছিল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ। ২০১৫ সালের নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে দিয়ে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান দেয়া হয়েছিল, যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন মি. ময়েস ।
বিরোধীরা যখন ৭ই ফেব্রুয়ারি তার পদত্যাগের দাবি জানায়, তখন মি. ময়েস বলেছিলেন ''তার সরকারকে উৎখাত করার এবং তাকে হত্যা করার জন্য সংঘটিত অভ্যুত্থান" ব্যর্থ হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, স্বৈরতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাইতি আমেরিকার অন্যতম দরিদ্র একটি দেশ হয়ে উঠেছে।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:








