জোতির্বিদ্যা: মহাকাশ ফটোগ্রাফিতে ২০২১ সালে সেরা যেসব ছবি ও ফটোগ্রাফার
রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচ এর ১৩তম অ্যাস্ট্রোনমি ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়াদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যারা মহাকাশের অপার্থিব সুন্দর ছবি তুলে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন।

ছবির উৎস, PETER FELTOTI
চূড়ান্ত তালিকায় যেসব ফটোগ্রাফারের নাম এসেছে তারা সৌরজগৎ, ছায়াপথ এবং সীমাহীন মহাবিশ্বের ছবি তুলেছেন।

ছবির উৎস, VITALIY NOVIKOV
প্রতিযোগিতায় ৭৫টি দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন।
কলা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন নাইট ম্যাগাজিনে বিবিসি স্কাই এর সম্পাদক স্টিভ মার্শ এবং কৌতুক অভিনেতা এবং উৎসাহী ও সৌখিন জ্যোতির্বিদ জন কালশ।
প্রতিযোগিতায় জয়ী ছবিগুলো আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য প্রদর্শনীতে দেখানো হবে।
এখানে নির্বাচিত কিছু ছবি তুলে ধরা হলো:

ডলফিন হেড নেবুলা
ইয়োভিন ইয়াথুগোদা, শ্রীলঙ্কা।

ছবির উৎস, YOVIN YAHATHUGODA
এটা ফটোগ্রাফারদের পছন্দের একটা ছবি। এর মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায় যে, বহির্বিশ্বের মহাকাশে নক্ষত্রমণ্ডলগুলোর মাঝে থাকা বাতাস আর শক্তি মিলে কিভাবে এই নিখুঁত মহাজাগতিক বাবল তৈরি করেছে।
নীহারিকা মণ্ডলীর কেন্দ্রে অবস্থিত উজ্জ্বল তারা মিলে এই বাবল তৈরি করেছে। এগুলোকে উলফ-রায়েট স্টার বলা হয়।

হারমনি
স্টিফান লিবারম্যান, জার্মানি

ছবির উৎস, STEFAN LIEBERMANN
ফ্রান্সের ভ্যালেনসোলে ল্যাভেন্ডারের মাঠের উপর ছায়াপথের মনোমুগ্ধকর প্যানোরামা বা বিস্তৃত দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।
ল্যাভেন্ডার মাঠের রঙ আর লাইন সত্যি বিস্ময়কর।

আইসল্যান্ড ভরটেক্স বা জলের ঘূর্ণি
ল্যারিন রে, নিউজিল্যান্ড

ছবির উৎস, LARRYN RAE
আইসল্যান্ডের বোরিয়ালিসের অরোরা বা আলোকচ্ছটার একটি প্যানোরামা ছবি এটি। যা প্রায় ২০টি ইমেজের সমন্বয়ে তৈরি।
একটি নদীমুখে এই ছবিটি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার যেখানে হাড় জমে যাওয়া শীতের রাতের আকাশের নিখুঁত প্রতিবিম্ব ধরা পড়েছে।
তিনি প্রথমে প্যানোরামাটি তুলেছিলেন। পরে বরফের মাঝখানে নিজের একটি ছবিও তুলেছেন।

লুনা পার্ক
এড হার্স্ট, অস্ট্রেলিয়া

ছবির উৎস, ED HURST
বিশাল এই মুখটি সিডনির হারবারসাইডের থিম পার্ক লুনা পার্কের প্রবেশদ্বার। পার্কটি ১৯৭৯ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়।
১৯৩৫ সাল থেকে এটি হারবার ব্রিজের ছায়ার নিচ থেকে আড়চোখে চেয়ে আছে এবং কয়েক প্রজন্মের শিশুরা মজা করতে এর মুখ গলিয়ে পার্কে প্রবেশ করেছে। একে কেন্দ্র করেই আশপাশের শহর এবং বিশ্ব পরিবর্তিত হয়েছে।
ফটোগ্রাফার আশেপাশের তারাগুলোর হাজার হাজার ফ্রেম ধারণ করেছেন এবং শেষমেশ সময় বয়ে যাওয়ার ধারা বোঝাতে সেগুলো একসাথে মিলিয়ে দিয়েছেন।

মুনরাইজ ওভার জডরেল ব্যাংক
ম্যাট নেইলর, যুক্তরাজ্য

ছবির উৎস, MATT NAYLOR
চাঁদ এবং বিখ্যাত লাভেল টেলিস্কোপকে একই ফ্রেমে ধারণ করার ফটোগ্রাফারের দীর্ঘ বাসনার বাস্তবায়ন এই ছবিটি।
সাবজেক্ট থেকে পর্যাপ্ত দূরে থেকে পরিষ্কার একটি দৃশ্য পাওয়া এবং দিনের সঠিক সময়ে আকাশে চাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা- সব মিলিয়ে এটি একটি কঠিন ধাঁধাঁই বটে।
মেঘের উপর অস্ত যাওয়া সূর্যের আলো নিঃসন্দেহে কিছু সুন্দর রঙ দিয়েছে।

এনজিসি ২০২৪- ফ্লেম নেবুলা
স্টিভান মোহর, অস্ট্রেলিয়া

ছবির উৎস, STEVEN MOHR
ফ্লেম নেবুলা যা এনজিসি ২০২৪ এবং এসএইচ২-২৭৭ নামে পরিচিত। এটা আসলে কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল থেকে উৎসরিত একটি নীহারিকা। পৃথিবী থেকে এটি ৯০০ থেকে ১৫০০ আলোকবর্ষ দূরে।
আলনিটাক নামের উজ্জ্বল তারাটি কালপুরুষ বেল্টের সবচেয়ে পূর্বের তারা। এটি থেকে শক্তিশালী আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি বের হয় যা ফ্লেমে আঘাত করে এবং সেখানে থাকা হাইড্রোজেন গ্যাসের মেঘ থেকে ইলেকট্রনকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয় যখন ইলেকট্রন এবং আয়নিক হাইড্রোজেন আবার একত্রিত হয়।

এনজিসি ৩৯৮১
বার্নার্ড মিলার, যুক্তরাষ্ট্র

ছবির উৎস, BERNARD MILLER
এনজিসি ৩৯৮১ একটি চক্রাকার ছায়াপথ এবং এটি নক্ষত্রমণ্ডলের জ্বালামুখ থেকে ৬৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে।
অন্য ছায়াপথের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার কারণে এটির বাইরের দিকের বাহুগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ায় এটিকে দেখতে বাতাসে এলোমেলো হয়ে আছে বলে মনে হয়।

পাথ অব দ্য ফুল মুন অ্যাবাভ দ্য স্লিপিং সিটি
রেমি লেব্ল্যাঙ্ক-মেসেজার, ফ্রান্স

ছবির উৎস, REMI LEBLANC-MESSAGER
ফটোগ্রাফারের লক্ষ্য ছিল ছবিটির ঠিক মাঝখানে যাতে চাঁদের গতিপথটাকে তুলে ধরা যায় যা মহাকাশ থেকে মানব পৃথিবীকে আলাদা করে।
ছবিটির মাঝখানে ছাদের উপরে নারীর অবস্থান দিয়ে প্যারিস নগরী এবং আকাশের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

প্লাইয়েডস সিস্টার্স
জশনপ্রিত সিং ডিংরা, ভারত

ছবির উৎস, JASHANPREET SINGH DINGRA
ফটোগ্রাফারের এলাকার আকাশে উজ্জ্বল তারার দারুণ একটি ছবি এটি।
প্লাইয়েডস, এটি সেভেন সিস্টার্স এবং মেসিয়ার ৪৫ নামেও পরিচিত। নক্ষত্রমন্ডলীর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মধ্যবয়সী, উষ্ণ বি-টাইপ উন্মুক্ত তারাগুচ্ছ এটি।

স্যাটার্ন এট ইটস বেস্ট
ডামিয়ান পিচ, যুক্তরাজ্য

ছবির উৎস, DAMIAN PEACH
এই ছবিতে শনি গ্রহ এবং এর রিংয়ের নিখুঁত বর্ণনা উঠে এসেছে।
বিখ্যাত এই পোলার হেক্সাগনটি মেরু অঞ্চলের আশপাশ থেকে দেখা যায় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকেও এর বেল্ট ও অঞ্চল নজরে আসে।

স্টার ট্রেইলস ওভার দ্য লজিয়াজুই সিটি স্কাইলাইন
ডানিয়ান কাই, চীন

ছবির উৎস, DANING KAI
চীনের পুডং জেলার লুজিয়াজুই শহরের আকাশে তারাদের চলার পথ নির্দেশ করা হয়েছে এই ছবিতে। এমনকি ছবিটিতে কালপুরুষ নক্ষত্রমন্ডলীর বেল্টও চোখে আসে।
খুব স্পষ্ট শরতের রাতে ছবিটি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার।

স্টার ওয়াচার
ওয়াং সুটি, চীন

ছবির উৎস, YANG SUTIE
এই ছবিটি তোলার সময় ফটোগ্রাফার পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন যে রাস্তার ডানপাশে একটি টিলা রয়েছে।
তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে রাস্তার পাশে পাহাড়ের গা বেয়ে উঠলেন, ক্যামেরা সেট করলেন এবং সেই বাঁকা রাস্তা ধরে সামনে পেছনে গাড়ি চালাতে লাগলেন।
পরে তিনি আবার পাহাড়ে উঠলেন এবং নিজেকে ছবিতে জুড়ে দিলেন।

সানরাইজ অব দ্য ম্যাজিক সিটি
জিয়াজুন হুয়া, চীন

ছবির উৎস, JIAJUN HUA
ছবিটি তোলা হয়েছিল সাংহাইয়ের লুজিয়াজুই বাণিজ্যিক এলাকা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে।
এলাকাটি থেকে সূর্যোদয়ের এমন ছবি তোলার জন্য বছরে মাত্র কয়েক সপ্তাহই সময় পান ফটোগ্রাফাররা।

দ্য এক্সসেপশনালি অ্যাকটিভ আয়ন টেইল অব কমেট ২০২০এফ৮ এসডাব্লিউএএন
জেরাল্ড রেমান, অস্ট্রিয়া

ছবির উৎস, GERALD RHEMANN
ছবিতে গ্যাস সমৃদ্ধ ধূমকেতুটি নিজের আয়ন লেজের অসংখ্য গঠন তুলে ধরেছে।
ধূমকেতুর ছবি তোলার অসুবিধা হচ্ছে, এটি তারাদের সামনে দিয়ে অনেক বেশি নড়াচড়া করতে থাকে যা মাথায় রাখতে হয় এবং এটি প্রকাশ পাওয়ার সময়েও এর গঠনে অনবরত পরিবর্তন হতে থাকে।

দ্য সোল অব স্পেস (সোল নেবুলা বা নীহারিকার ক্লোজ-আপ)
কুশ চান্দারিয়া, যুক্তরাজ্য

ছবির উৎস, KUSH CHANDARIA
সোল নেবুলা বা নীহারিকা হচ্ছে সেই অসাধারণ টার্গেট যেটার যেখানেই আপনি আপনার টেলিস্কোপ স্থাপন করুন না কেন, সব সময়ই কিছু অসাধারণ গঠন কাঠামো এবং নিখুঁত বর্ণনা আবিষ্কারের সুযোগ পাবেন।








