ম্যাক্রঁর মুখে চড়, অর্থমন্ত্রীর অজ্ঞতা আর কানাডায় মুসলিম-বিদ্বেষ নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, EPA
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
ছোট-বড় বেশ কিছু বিষয় নিয়ে অনেকে চিঠি লিখেছেন, যেসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে অর্থ পাচার নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য।
সে বিষয়ে আসবো একটু পরেই, শুরু করছি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর গালে চড় মারা নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:
''খবরে দেখলাম ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ জনতার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় কালে একজন ফরাসি নাগরিক তাকে চড় মেরেছে আর রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা রক্ষীরা ঐ লোককে গ্রেফতার করেছে । কিন্তু কী কারণে ঐ নাগরিক প্রেসিডেন্টকে আঘাত করলেন তা বিস্তারিত জানতে পারি নাই। ঐ নাগরিক এর ক্ষোভের কারণ কী?
''আমার কাছে মনে হয় বিষয়টি দু:খ জনক। কারণ গণতন্ত্র জনগণের শাসন। তাহলে কেন একজন প্রেসিডেন্টকে ভিন্ন মতের কেউ বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ে আঘাত করবে? গণতন্ত্রের ভাষায় সমালোচনা করা যেমন কাম্য হতে পারে, ভিন্ন মত পোষণ করতে পারে নাগরিকগণ। কিন্তু একজন মানুষকে কি মৌখিক এবং শারীরিক ভাবে আঘাত করা যায়?''
কাওকেই যে আঘাত করা ঠিক না, সেটা সবাই নিশ্চয়ই বোঝেন মি. বিল্লাল। তবে গণতান্ত্রিক দেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময় অনেকের মেজাজ গরম হয়ে যায়, মারধর, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, পুলিশ গ্রেফতার করে, বিচার হয়, সবই হয়। বিশেষ করে ফ্রান্সে গত কয়েক বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
এমানুয়েল ম্যাক্রঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় তিনি প্রেসিডেন্ট হবার বছর দুয়েক পর থেকেই, আর করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে অনেকে মি. ম্যাক্রঁর ওপর প্রচণ্ড ক্ষেপে আছে। বিশেষ করে সারা দেশে লকডাউন দেয়ার কারণে যারা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কাজ করেন তারা মহা ক্ষিপ্ত। তবে যারা এই চড় মারার ঘটনর সাথে জড়িত ছিল তারা সম্ভবত ডানপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শের অনুসারী এবং মধ্যপন্থী ম্যাক্রঁর নীতির প্রতিবাদ করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, AFP/Getty
এবারে আসি বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যর বিষয়ে। প্রথমে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
''প্রতিদিন দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। কিন্তু এটা কারা করে, কিভাবে করে, কোথায় করে, কখন করে যাবতীয় তথ্য সরকারের বিশেষ ভাবে জানা দরকার বা উচিত। কারণ এসব তথ্য জানার জন্য সরকার গোয়েন্দা সংস্থার পিছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালছে। টাকা পাচারের তথ্য যদি সরকার না জানে তাহলে এ ব্যর্থতা পুরোপুরি সরকারের। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদে যখন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী এই তথ্য না জানার কথা অকপটে স্বীকার করেন, তাহলে তিনি কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। তাঁর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, এত বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা ও অধিকার তিনি রাখেন কিনা?''

ছবির উৎস, Steve Russell
একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''কারা দেশের বাইরে অর্থ পাচার করছে এই তথ্য সরকারের কাছে নেই, এমন মন্তব্যকে তর্কের খাতিরে সত্য বলে ধরে নেওয়া হলে একটি প্রশ্ন সামনে চলে আসে, সেটি হচ্ছে সরকারের ইন্টেলিজেন্স গ্রুপগুলো তাহলে কি করছে? সরকারের কাছে যদি কোনো তথ্যই না থাকে, তবে সরকার দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধ করবে ঠিক কিভাবে? দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে সরকারের আরও তৎপর হওয়া উচিৎ নয় কি? অর্থ মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য কি অর্থ পাচার বন্ধে সরকারের অসহায়তাকে সামনে নিয়ে এলো?''
এটাকে কি শুধু অসহায়তা বলবেন মি. সরদার, না কি এখানে কিছু অনিচ্ছাও কাজ করছে? আর কারা অর্থ পাচার করছে, সেটা অর্থমন্ত্রী জানেন না, এ কথা কেউ বিশ্বাস করছে বলে তো আমার মনে হয় না মি.পোদ্দার। শুধু ব্যবসায়ী বা রাজনীতিক না, সরকারি কর্মকর্তারও যে কানাডার মত পশ্চিমা দেশে বাড়ি কিনেছেন, সেটা স্বয়ং পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন। আমার জানা মতে, বিদেশে বাড়ি কেনার জন্য আইনগত পথে ডলার স্থানান্তর করা যায় না। তাহলে ধরে নেয়া যায়, অসৎ পথেই বিদেশী মুদ্রা তাদের বিদেশী ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে, যেটা দিয়ে সম্পত্তি কেনা হয়েছে?
অর্থ পাচারকারীদের নিয়ে তথ্য নিশ্চয়ই রাজস্ব বোর্ড বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গোয়েন্দা শাখা বা অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে আছে। তাহলে অর্থমন্ত্রী কেন অজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সেটা একটা রহস্য।

ছবির উৎস, STR
যাই হোক, এবার তাকানো যাক মিয়ানমারের দিকে। সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক সরকার-বিরোধী সংগঠনগুলোর জোট, যারা নিজেদের জাতীয় ঐক্যের সরকার বলে ঘোষণা করেছে, একটি বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। সে বিষয়ে আমাদের প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অনেক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের রাজনীতিকরা এতদিন রোহিঙ্গাদের অধিকারকে বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি রোহিঙ্গা শব্দটি পর্যন্ত তারা উচ্চারণ করেনি। হঠাৎ করে তাদের প্রতি নাটকীয় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মতো আমাদেরকেও বেশ বিস্মিত করেছে। বিষয়টি যদিও ইতিবাচক ঘটনা কিন্তু এটি একেবারেই কাগুজে বাঘের মতো বিষয়, কারণ যারা স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের প্রকারান্তরে না আছে কোন রাজনৈতিক ক্ষমতা, আর না আছে কোন সামরিক সামর্থ্য।
''রোহিঙ্গা সমস্যার সূত্রপাত যেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মাধ্যমে, সেই সেনাবাহিনীই বর্তমানে ক্ষমতাসীন এবং তারাই রোহিঙ্গা সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। আমার প্রশ্ন, সেই সেনাবাহিনী যদি রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি না দেয় এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান না করে, তবে ক্ষমতাবিহীন রাজনীতিবিদদের স্বীকৃতির কোন মূল্য আছে কি?''

ছবির উৎস, K M Asad
তেমন কোন মূল্য হয়তো এই মুহূর্তে নেই মি. রহমান। তবে রোহিঙ্গা নেতারা কিন্তু এই বিবৃতিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বলা যেতে পারে, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের পথে এই বিবৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। এই বিবৃতির মাধ্যমে মিয়ানমারের বিভিন্ন দল এবং জাতিগত গোষ্ঠী স্বীকার করছে, রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিষয়টি আমলে নিতে হবে।
আর এই মুহূর্তে বিরোধী সরকারের কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই ঠিকই, কিন্তু এই জোটের গুরুত্ব আগামী দিনগুলো বাড়তে পারে। তবে এ'কথা স্বীকার না করে উপায় নেই, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যতদিন না রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের মনোভাব না বদলাবে, তত দিন তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা খুবই কঠিন হবে।
বিস্তারিত জানতে চাইলে পড়ুন: হঠাৎ কেন রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিল মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলো

ছবির উৎস, Reuters
জাতিগত বিদ্বেষ থেকে এবার ধর্মগত বিদ্বেষ। কয়েক দিন আগে কানাডায় ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে একটি পাকিস্তান-বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়, যে ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একটি সন্ত্রাসী ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি বাংলায় সে ঘটনার রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, বিবিসির মতো পশ্চিমা গণমাধ্যম শুধু মুসলমানদের মধ্যেই উগ্রবাদ খুঁজে বেড়ায়, তারা মুসলমানদেরকে উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ইত্যাদি উপাধিতে প্রচার ও প্রোপাগান্ডা করে। অন্য ধর্মের কেউ এ ধরনের কোন সন্ত্রাসী আক্রমণ করলে তাদের উগ্রবাদী ধর্মীয় পরিচয় সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যেমন উপরোক্ত ঘটনায় বলা হল - পুলিশ ধারণা করছে, ধর্মীয় বিষয়টির জন্য তাদের উপর এই হামলা হয়েছে। এখানেও বিবিসি হামলাকারীর ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করেনি? এর কারণ কী?''
আমার মনে হয় আপনি বিবিসির প্রতি সুবিচার করছেন না মি. রহমান। বিবিসি কখনো মুসলমানদের, অর্থাৎ গোটা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ''উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী'' ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করে না। তবে অনেক সময় ঘটনাই এমন বা যারা হত্যাকাণ্ড ঘটায় তাদের আদর্শের কারণেই ইসলামের বিষয়টি চলে আসে।

ছবির উৎস, AFP
যেমন, বিশ্বে অনেক জঙ্গি গোষ্ঠী আছে যারা তাদের নৃশংস কর্মকাণ্ডের সময় আল্লাহু আকবর ধ্বনি দেয়, যারা কলেমা-খচিত পতাকা উড়িয়ে ভিডিও প্রচার করে, যারা নিজেরাই তাদের হিংসাত্মক কাজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে ইসলামের দোহাই দেয়। এ'ধরনের সংগঠনের নাম আপনি জানেন, সবাই জানে, যেমন ইসলামিক স্টেট, আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আল-শাবাব, হারকাতুল জিহাদ, লষ্কর-এ-তায়েবা, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ইত্যাদি। এই সংগঠনগুলো নিজেরাই গর্বের সাথে তাদের ইসলামী পরিচয় তুলে ধরে। সেটার জন্য যদি আপনি নিশ্চয়ই বিবিসিকে দোষারোপ করতে পারেন না?
আরো পড়তে পারেন: জেগে ওঠার আওয়াজ দিচ্ছে ইসলামিক স্টেট
তবে কানাডায় সাম্প্রতিক ঘটনা যে মুসলিম বিদ্বেষী হত্যাকাণ্ড, সেটা বিবিসির রিপোর্টে ভালমতোই প্রকাশ পেয়েছে। হামলাকারী নেথানিয়েল ভেল্টম্যানের ধর্মীয় পরিচয় এখানে মুখ্য ছিল না, কারণ তার আক্রমণের উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার না, যেহেতু তিনি কোন পতাকা উড়িয়ে বা শ্লোগান দিয়ে হামলা চালান নি। অতীতে তিনি কোন অপরাধ করেছেন বলে কোন রেকর্ডও নেই। পুলিশের তদন্তে যদি বের হয় যে তিনি কোন ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের কর্মী, তাহলে অবশ্যই সেটা রিপোর্ট করা হবে। তখন তার ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বর সাথে দেখা হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি নিয়ে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:
''গত সোমবার হেফাজতে ইসলামের আমির পদে জুনায়েদ বাবুনগরীকে বহাল রেখে ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী রাজনীতির সাথে যুক্ত কাউকেই এই কমিটিতে রাখা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে আমার প্রশ্ন, এই কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে হেফাজতের রাজনৈতিক চরিত্রে কতটা পরিবর্তন আসবে? সরকারের চাপের মুখে পড়ে হেফাজত কি রাজনীতিমুক্ত হতে চায়? সরকারের রোষানলে পড়ে গত এপ্রিলে কি হেফাজত কমিটি বিলুপ্ত করার কৌশল নিয়েছিল? ভবিষ্যতে হেফাজত রাজনীতিতে সক্রিয় হবে না,এর নিশ্চয়তা কোথায়?''
অনেক প্রশ্ন করেছেন মি. রহমান, কিন্তু এর উত্তরে কিছু বললে সেটা অনুমানমূলক হবে, কিছুটা চায়ের দোকানে জল্পনা-কল্পনা করা মতই। এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, সরকারের সাথে হেফাজতের সম্পর্কে বড় মাপের ফাটল ধরেছে, এবং সরকারের রোষানলই ছিল তাদের কমিটি বিলুপ্ত করার পেছনে প্রধান কারণ। তবে এর ফলে হেফাজতের রাজনৈতিক চরিত্রে কোন পরিবর্তন আসবে কি না, বা ভবিষ্যতে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হবে কি না, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে আমার মনে হয় না।

ছবির উৎস, Getty Images
এই গেল দেশে-বিদেশে রাজনীতির কথা। এবার আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানের দুটি দিক নিয়ে লিখেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থেকে ফরিদুল হক:
''ফোন ইন এর টেকনিকাল কিছু বিষয় নিয়ে আমার অভিযোগ আছে। শ্রোতার কলটি স্টুডিওতে ফরওয়ার্ড করার পর প্রায়ই নিজের কথার পুনরাবৃত্তি ঘটে বা প্রতিধ্বনি শোনা যায়। এর ফলে শ্রোতার কথার মাঝে সমস্যার সৃষ্টি হয় আর মন্তব্য দেওয়ার গতি রোধ হয়।
দ্বিতীয়ত, বিবিসি বাংলার প্রতিটি সহকর্মীর ব্যবহার ও বর্তমান ফোন-ইনের বিষয়বস্তুগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। তবে প্রতি সপ্তাহের সব চেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়বস্তুগুলো নিয়ে ফোন-ইন করা যেতে পারে। বিবিসি বাংলার ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটের র্যাংকিং দেখে বিষয়বস্তু ঠিক করা যেতে পারে বলে আমি মনে করছি।''
আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ মি. হক। ফোন-ইনের বিষয়বস্তু আমদের সম্পাদকীয় বিচার বিবেচনা অনুযায়ী ঠিক করি, তবে কোন ঘটনা নিয়ে সব চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেটাও বিবেচনায় গুরুত্ব পায়।
আর যে টেকনিকাল সমস্যার কথা বললেন, সেটা আমাদেরকেও অনেক পীড়া দেয়, আমরা সেটা ঠিক করার চেষ্টা করি, তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তবে, অনেক কলার কথা বলার সময় নিজেদের রেডিও সেট বাজাতে থাকেন। সে কারণে প্রতিধ্বনি হয়ে থাকে। কাজেই, অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় নিজের রেডিও সেট বন্ধ রাখুন।
আরো পড়তে পারেন: দেশি ফল কোনটি খেলে কী উপকার এবং কাদের জন্য ক্ষতিকর
বিবিসি নিয়ে ছোট দুটি প্রশ্ন করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:
''বিবিসি বাংলার অর্থের যোগান দাতা কে/ কাহারা?
আমার ৯৫ বছর বয়সী দাদা আমাকে বললেন পুরাতন বাঁশির সুরটি শুনলে গা শিউরে উঠত। ফুটপাতে চায়ের দোকানে ভিড় জমতো। কেন বাতিল করল? আবারও চালু করার প্ল্যান আছে কি?''
না, মি. তালুকদার, সেই বাঁশির সুর পুনরায় চালু করার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। আর বিবিসির অর্থ যোগান দেয় ব্রিটিশ জনগণ। প্রতি বছর ব্রিটেনের লক্ষ লক্ষ টেলিভিশন সেটের মালিকরা যে লাইসেন্স ফি দেয়, তার পুরোটা পায় বিবিসি। সেই লাইসেন্স ফি থেকে বিবিসি বাংলাসহ সকল বিভাগের খরচ মেটানো হয়। তবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালিয়েও বিবিসি কিছু অর্থ উপার্জন করে যার পরিমাণ দিনকে দিন বাড়ছে।

ছবির উৎস, Westend61
আবার আসছি আমাদের পরিবেশনার প্রসঙ্গে। লিঙ্গ বৈষম্য সৃষ্টিতে বাবা-মার ভূমিকা নিয়ে যে প্রতিবেদন আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''সৃষ্টিকর্তা নারী-পুরুষকে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই নারী পুরুষকে কখনও এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়। সক্ষমতা, অধিকার, যোগ্যতা দিয়ে নারী পুরুষকে মূল্যায়ন করা যাবে না। যেমন, সন্তান লালন-পালন, রান্না-বান্না নারীরা যত সহজে করতে পারে, পুরুষরা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েও সহজে তা করতে পারে না। তাই সামগ্রিকভাবে বিচার করলে প্রমাণ হবে, সেই সৃষ্টিকর্তাই হয়তো নারী-পুরুষের মাঝে কোনো বৈষম্য রাখেন নাই বরং সমান অধিকার ও সমান সক্ষমতা দিয়েছেন। হয়তোবা খালি চোখে যা আমরা সবসময় তা উপলব্ধি করতে পারি না।''
সন্তান লালন-পালন বা রান্না-বান্না কেন পুরুষরা পারবে না, তা কিন্তু আপনি ব্যাখ্যা করেন নি মি .ইসলাম। সমস্যা কিন্তু সেখানেই। ছোট বেলা থেকেই বাবা-মা মেয়েদের রান্না-বান্না, ঘর সংসার নিয়ে আগ্রহী করতে সেরকম খেলনা কিনে দেন। অন্যদিকে, ছেলেদের বাইরে গিয়ে খেলা-ধুলা করতে আগ্রহী করেন। তারা বেড়েই ওঠে সেভাবে। কিন্তু ছেলে-মেয়ে দু'জনকে ছোট বেলা থেকে সমান ভাবে লালন-পালন করলে, দু'জনই আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হবে, সব কাজই করতে পারবে। এখানে বৈষম্যের কোন জায়গা থাকবে না।
সব শেষে, সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ছোট প্রশ্ন করেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে হরিদাস রায়:
''বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয় না কেন?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. রায়। হয়তো রাষ্ট্রপতি কোন সাক্ষাৎকার দেন না, যেমন আদালতের বিচারপতিরা মিডিয়ার সাথে কথা বলেন না। অন্যদিকে, যেহেতু রাষ্ট্রপতি সরাসরি সরকার পরিচালনা করেন না বা তার নির্বাহী কোন ক্ষমতা নেই, সেজন্য তাকে প্রশ্ন করাও ঠিক হবে বলে মনে হয় না। তবে রাষ্ট্রপতি অবসর নিলে নিশ্চয়ই তার সাথে অনেক কিছু নিয়ে কথা বলার থাকবে, যদি তিনি বলতে চান।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ রিগান খান, ভালুকা,ময়মনসিংহ।
মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা।
মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু, রামগতি, লক্ষ্মীপুর।
মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।








