টিক টক করে নারী পাচার, আমলাদের আচরণ আর কোভিড নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশ, দু'দেশে ভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় নারী পাচার চক্র ধরা পড়লো। জানা গেছ,এই চক্র নাকি টিকটক এ্যাপের মাধ্যমে তাদের ভিকটিমদের চিহ্নিত করতো। এমনকি চক্রের হোতার নামও নাকি 'টিক টক রিদয়' (যদিও তার নাম হয়তো হৃদয় হওয়া উচিত, না কি?)।

নামের বানান যাই হোক, তাদের ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও দেখেই ভারতীয় পুলিশ তাদের শনাক্ত করে ব্যাঙ্গুলুরুতে তাদের আটক করতে পেরেছিল। সে বিষয় দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরেই ভারত এবং বাংলাদেশের পুলিশ বলতে গেলে একটি আন্তঃ মহাদেশীয় নারী চোরাচালান কারবারের সদস্যদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই পাকড়াও প্রশংসার দাবি রাখলেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। এতবড় একটা গ্রুপ, যাদের ডালপালা বিস্তৃত বাংলাদেশ, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য সহ কয়েকটি দেশে, তাদেরকে ধরতে এতদিন সময় লাগল কেন?

''এই ভিডিও ভাইরাল না হলে তারা কি আদৌ খবরে আসত কখনো? সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিচারের আওতায় আসছে অনেক বড় বড় রুই কাতলা। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়া আইনশৃঙ্খলা আর বিচারের ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে?''

আনতে যাচ্ছে বললে ভুল বলা হবে মি. সাঈদ। আমার তো মনে হয় ইতোমধ্যে এনে ফেলেছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচারে সোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি আমেরিকায় আমরা সম্প্রতি দেখলাম জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় পথচারীর করা ভিডিও কত শক্তিশালী ভূমিকা রাখলো।

তবে আপনার প্রথম প্রশ্নটি অনেকের মনেই ঘুরপাক খাবে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে কীভাবে তারা এতদিন দু'তিন সীমান্ত পার হয়ে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল? সোশাল মিডিয়াতে তাদের ভিডিও না ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ হয়তো জানতোই না।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ভারতে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনা নিয়ে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:

''বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে "তিন কাশ্মীরি যুবকের ঘটনায় ভারতের ব্যাখ্যা চান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা" শীর্ষক শুভজ্যোতি ঘোষের প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং রাতের পরিক্রমা অনুষ্ঠানে শুনলাম। স্বভাবতই এর কোন প্রত্যুত্তর ভারত সরকার দেয়নি। ফলে তিনজন কাশ্মীরি যুবকের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রায় দু'মাস অপেক্ষা করার পর তাদের সেই চিঠি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, জাতিসংঘের উক্ত বিশেষজ্ঞ দলের পরবর্তী করণীয় কী? এরা কী ভারত সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে কোন কিছু আদায় করার ক্ষমতা রাখে?''

জাতিসংঘ ব্যাখ্যা চেয়েছে, ভারত সরকার দেয়নি। এখানে জাতিসংঘের খুব একটা করার কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। যে চিঠির জবাব তারা দু'মাসে পায় নি, সেই চিঠি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে ভারতকে 'লজ্জা' দেবার চেষ্টা করেছে। তাতে কিছু কাজ হলেও হতে পারে।

তবে ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, এবং তার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ সমর্থন লাগবে। ক্ষমতাধর হচ্ছে বিশ্বের গুটি কয়েক পরাশক্তি - বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা যদি কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে চায় তাহলে তার হাতে অনেক হাতিয়ার আছে। জাতিসংঘের হাতে তেমন কিছুই নেই, আছে শুধু নৈতিক তিরস্কার।

সম্প্রতি ভারত আর বাংলাদেশের উপকূল দিয়ে বয়ে গেল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঝড়ের আঘাত গিয়েছে মূলত পশ্চিমবঙ্গের উপকূল দিয়ে। উপকূলীয় মানুষের দুর্দশা নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন শুনে লিখেছেন সাতক্ষিরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন:

''ভারতে ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' এর প্রভাব নিয়ে বিবিসি বাংলার কলকাতা প্রতিনিধি অমিতাভ ভট্টশালীর করা প্রতিবেদনটি শুনলাম এবং মনে খুবই কষ্টও পেলাম একটা বিষয় নিয়ে। আর তা হল, বঙ্গোপসাগরের একেবারে কাছে যারা বাস করেন, তাদের পাকা বাড়ি নির্মাণ করতে দেয়া হয় না, যদিও তাদের পাকা বাড়িই দরকার। প্রতিবেদনে একজন বললেন, আইনের অপব্যাখ্যা করে এটা করা হয়।

এখন আমার প্রশ্ন হল, টাকা থাকলে আমি আমার বাড়ি বা ঘর পাকা দালান হিসাবে তৈরি করবো, কেন বারংবার এমন প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা ঘরে বাস করবো? তাতে অন্যদের সমস্যা কোথায়? না কি এখানে কোন গোপন রাজনীতির খেলা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে?''

সেটাই বড় প্রশ্ন মি. হুসাইন। উপকূলে সব বাড়ি-ঘরই পাকা হওয়া উচিত। তাহলে নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের বাসিন্দারা চরম অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। হয়তো সেখানে কোন স্থানীয় রাজনীতি কাজ করছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে তলিয়ে দেখা যেতে পারে।

তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ না, বাংলাদেশের উপকূলের বাসিন্দারাও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তারা মনে করছেন। এই ঘূর্ণিঝড়ের পর তাদের ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন লিখেছেন সাতক্ষিরা জেলার শ্যামনগর থেকে আছিয়া আক্তার:

''আমার এলাকায় আম্ফানের আগে থেকে আজ পর্যন্ত কোন প্রকার বেড়িবাঁধ হয়নি। ইয়াস চলে যাওয়া পর এলাকার যুবক ছেলেরা কাফনের কাপড় পড়ে মানব বন্ধন করে, এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়। উপকূলবাসী কি টেকসই বেড়িবাঁধ পাবেনা? এ টাকা গুলো কোথায় যায়? এর প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে লাঞ্ছিত হতে হয় কেন? এনিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য বিবিসির কাছে অনুরোধ করছি।''

দক্ষিণাঞ্চলের বেড়িবাঁধ গুলো অনেক আগে তৈরি এবং প্রতিটি ঝড়ের পরই কিন্তু সেগুলো মেরামত করার জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়। কাজেই, এই টাকা কোথায় যায়, কেন নতুন বাঁধ তৈরি করা হয় না, এ'সব প্রশ্ন অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত যার উত্তর আবশ্যক। আমি আপনার সাথে একমত মিস আক্তার, এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন অবশ্যই প্রয়োজন।

তবে শুধু কর্তৃপক্ষ না, বিবিসির দিকেও অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''হাজার হাজার জনতা নিজের বসত ভিটা পানি মুক্ত করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়ি বাঁধ সংস্কার করছে। গণ মাধ্যমে জানলাম পানি বন্দী জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে পাইকগাছা কয়রার জাতীয় সংসদের সদস্যর প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার জনগণের দাবি তারা সরকারি ভাবে টেকসই বেড়ি বাঁধ চায়।

''কিন্তু আমি সহ আমার এলাকার কয়েক জন বিবিসির পাঠক-শ্রোতা হতাশ হয়েছি। আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যম বিবিসি বাংলা বিশ্বের সকল মানুষের দাবিগুলি প্রচার করে। কিন্তু কেন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং জন ভোগান্তির কথা প্রচার করছে না? নাকি বিবিসি বাংলা মনে করে উপকূলীয় এলাকার জনতার দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ অযৌক্তিক?''

কোন দাবিকে আমরা যৌক্তিক বা অযৌক্তিক বলে খবরে আখ্যায়িত করি না মি. বিল্লাল, বা সেকারণে দাবি নিয়ে কোন খবর করা থেকে বিরতও থাকি না। বেড়ি বাঁধ নির্মাণের দাবি নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। উপকূল নিয়ে আমরা অতীতে অনেক প্রতিবেদন করেছি, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে। আগামী দিনগুলোতে আরো করা হবে এবং সেখানে বেড়ি বাঁধের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব পাবে।

চলতি সপ্তাহে যে ক'টি ঘটনা আমাদের শ্রোতা-পাঠকের নজর কেড়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল সৌদি আরবে মাইকের মাধ্যমে আযান দেয়া নিয়ে নতুন নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী, লাউডস্পিকার সর্বোচ্চ যত জোরে বাজানো যায়, তার এক তৃতীয়াংশ ভলিউমে বাজাতে হবে। তার বেশি নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণ জনগণের মধ্যে থেকে আসা অভিযোগ আমলে নিয়েই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''সৌদি আরবের মসজিদগুলোতে আযান বা অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে লাউডস্পিকারের ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিশ্চয় ভাল একটা উদ্যোগ। বাংলাদেশও এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ধর্ম না, যে কোন আয়োজনের এমন কি রাজনৈতিক প্রচারেও অন্যের ক্ষতি হয় এমন লাউডস্পিকার বা গান বাজনা বাজানোতেও লাগাম টানতে হবে।

তবে বিবিসি বাংলা কিংবা অন্য সংবাদ মাধ্যমগুলো সৌদি যুবরাজের উদারপন্থীর হবার কথা বলার পাশাপাশি বাক-স্বাধীনতা কমিয়ে আনার কথা বলতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে আটক করার কথা বলছেন, কিন্তু সাংবাদিকদের হত্যার কথাটি এড়িয়ে যাচ্ছে। বিবিসি কি জামাল খাসোগজির কথা ভুলে গেছে?''

না মি. শামীম উদ্দিন, আমরা কিছু ভুলি নাই। জামাল খাসোগজি হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত আছে, এ কথাটি এখনো পর্যন্ত একটি ধারণা বা অভিযোগ। হয়তো সেভাবে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যেত। কিন্তু যেহেতু অভিযোগটি প্রমাণিত নয়, সেজন্য সেটা উল্লেখ করা হয় নাই। আর আপনি ঠিকই বলেছেন, শব্দ দূষণ বন্ধ করতে হলে সব ধরনের শব্দ নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন, শুধু আযান না।

এবারে আসি কোভিড প্রসঙ্গে, যা নিয়ে ভারতের পর বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে করোনা সংক্রমণ বেশ দ্রুত বাড়ছে। ভারত সফর করেনি এমন অনেক করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ থেকে বোঝা যায়, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট-এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে? করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের আরও কঠোর এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ কি না?''

কার্যকর পদক্ষেপ যে নেয়া উচিত সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মি. সরদার। আমরা দেখছি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মানুষের চলা-ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। পদক্ষেপ গুলো নিতে একটু দেরিই হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। ভারত থেকে করোনাভাইরাসের যে ঢেউ বাংলাদেশে এসে পড়েছে, সেটা সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটকে না দিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরের চিঠি লিখেছেন নীলফামারীর ডোমার থেকে মোহাম্মদ সুজন ইসলাম:

''বাংলাদেশে লকডাউনের নামে কি চলছে ? প্রায় সবকিছুই চালু রেখে লকডাউন দেওয়ার অর্থ কী? সরকার লকডাউন সম্পর্কে উদাসীন বলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না । আর লকডাউনকে কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসনের উপর দায়িত্ব দেওয়া আত্মঘাতী ভুল হচ্ছে কি?''

লকডাউন বা অন্যান্য বিধি-নিষেধের সিদ্ধান্ত যখন স্থানীয় প্রশাসনকে নিতে হচ্ছে, তখন বিষয়টি অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক, মি. ইসলাম। মহামারি একটি জাতীয় সঙ্কট, তাই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী থেকে নেতৃত্ব আসা প্রয়োজন। যেসব দেশ মহামারি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, সেসব দেশের সরকার প্রধানই নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবং জনগণের কাছে সেই নেতৃত্ব দৃশ্যমান হয়েছে। তবে হ্যাঁ, সরকারের নীতি এবং কৌশল বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন এবং পুলিশের সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন।

প্রশাসনের প্রসঙ্গে যখন আছি, তখন তাকানো যাক আমলাদের নিয়েই একটি প্রশ্নর দিকে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে জনগণের সাথে আমলাদের আচরণ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। যেমন বলছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:

''গেল সপ্তাহে বগুড়ার আদমদীঘিতে ছাগল ফুল গাছের পাতা খেয়ে ফেলায়, মালিকের অনুপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছে। তেমনি, অতিমারি করোনার শুরুতে মাস্ক না পরায় যশোরের মনিরামপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার চার বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে তাদের ছবি তুলেছেন।

''কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে একজন খাদ্য সহায়তা চান। কিন্তু উল্টো ইউএনও-র ধার্য করা জরিমানা দিতে মেয়ের সোনার গহনা বন্ধক ও ঋণ করতে হয়েছে তাকে। তাছাড়া সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের হাতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রের অফিসাররা। দায়িত্বরত অবস্থায় মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণবিধি বা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা আসলে কতটুকু জরুরি?''

আমি যতদূর জানি সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোড অফ কন্ডাক্ট আছে মি. রহিম। তবে সব ক্ষেত্রেই যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল কর্মকর্তা তার আইনগত দায়িত্ব এবং ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কিছু করছেন কি না, অথবা তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কি না। তবে বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য সরকারি কর্মকর্তা শাস্তি পেয়েছেন, সেরকম ঘটনা কয়টা আছে তা আমার জানা নেই।

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু চিঠি। ওমানের মাস্কাট থেকে লিখেছেন মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ:

''সত্য এবং নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচারের জন্য বিবিসি বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং শুভকামনা, তবে ধর্ম বিষয়ক কোন দাঙ্গা বা এ জাতীয় কোন স্পর্শকাতর বিষয় যেমন বাংলাদেশ এর রামু বা সুনামগঞ্জের শাল্লার ঘটনা অথবা ভারতের আরএসএস কিংবা বাংলাদেশের জামায়াত শিবির অথবা হামাস নিয়ে সংবাদ করার সময় আরো স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আহ্বান করবো।''

আপনি নিশ্চিত থাকুন মি. ওয়াদুদ, আমরা সব সময় চেষ্টা করি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে সব খবর প্রচার করতে। তবে সেখানে স্পর্শকাতর বলে কোন তথ্য ধামা-চাপা দেবার চেষ্টাও আমরা করি না।

ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:

''কয়টি দেশে বিবিসির খবর প্রচার হয়? কোন দেশে নিষিদ্ধ আছে কি?''

জটিল প্রশ্ন করেছেন মি. তালুকদার। বিবিসি ৪০টি ভাষায় সংবাদ প্রচার করে, যেগুলো হয়তো ৬০-৭০টি দেশে প্রচার করা হয়। অন্যদিকে, বিবিসির ইংরেজি অনুষ্ঠান মোটামুটি বিশ্বের সব অঞ্চলেই প্রচার করা হয়। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমার কাছে পূর্ণ তথ্য নেই তবে আমি জানি বিবিসি চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়াতে নিষিদ্ধ।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:

''বিবিসি বাংলার দুটি টিভি অনুষ্ঠান 'বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং'ও 'বিবিসি প্রবাহ'-এর শেষে স্ক্রিনে কয়েকজন ব্যক্তির নাম লেখা উঠে। এর মধ্যে পরিচালক আকা রেজা গালিবের নাম অন্যতম।আমার প্রশ্ন, বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠানে আকা রেজা গালিব মহোদয়কে কেন দেখা যায় না? সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কি অন্য কোন পেশায় যুক্ত? রেডিও অনুষ্ঠানে আমরা তার সম্পৃক্ততা চাই। সংবাদকর্মী দুটি টিভি অনুষ্ঠান দক্ষ হাতে পরিচালনার জন্য আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।''

আপনার অভিনন্দন রেজাকে পৌঁছে দেব মি. রহমান। তবে আ কা রেজা গালিব বিবিসির সাংবাদিক নন। তিনি চ্যানেল আই-এর স্টাফ। বিবিসি প্রবাহ এবং বাংলাদেশ #trending দুটি অনুষ্ঠানই চ্যানেল আই-এর সাথে যৌথ ভাবে তৈরি করা হয়, এবং সেখানে পরিচালক হিসেবে রেজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পার রংপুর ।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।