কক্সবাজারের ঘোড়ার মৃত্যু নিয়ে আইনি নোটিশ পরিবেশ সংগঠনগুলোর

ছবির উৎস, IBRAHIM KHALIL MAMUN
কক্সবাজারের রাস্তায় অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে ঘোড়া, মৃত্যুও হয়েছে বেশ বড় সংখ্যায়- এমন তথ্য পেয়ে পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন তিনটি সংগঠন মিলে একটি আইনি নোটিশ দিয়েছে।
সংগঠন তিনটি হলো- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি যা বেলা নামে পরিচিত, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি ও পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।
ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি বা ইয়েসের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, "আমরা আইনি নোটিশ দিয়েছি এবং এখন পাঁচদিনের মধ্যে একটা উত্তর চাই। আমাদের আইনি নোটিশে মূলত বিপন্ন অবস্থায় থাকা ঘোড়াগুলোর একটা ব্যবস্থা করে দেয়ার আর্জি আছে এবং এখন পর্যন্ত যেসব ঘোড়া মারা গেছে তার ব্যাপারে সুষ্ঠু একটা জবাব চাইছি।"
মি. মামুনের অভিযোগ মালিকরা ঘোড়াগুলোর দেখভাল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ঘোড়া মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘোড়া দেখভাল করা এতো সহজ কাজ না।
আরও পড়তে পারেন:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার প্রথম বিধিনিষেধ আরোপ করে ২০২০ সালের মার্চ মাসে।
কক্সবাজারের স্থানীয় ঘোড়া মালিক সমিতির হিসেব অনুযায়ী তখন ২০টি ঘোড়া মারা যায়।
এবারে মারা গেছে দশটি ঘোড়া।
এর মধ্যে আটটি ঘোড়াই ফরিদা ইয়াসমিনের যিনি ঘোড়া মালিক সমিতির সভাপতি।
সাধারণত কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা ঘোড়ার পিঠে চড়ে সমুদ্র সৈকতে কিছুটা ঘোরাঘুরি করেন বা ছবি তোলেন।
কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই পর্যটন খাতে যে আঘাত এসেছে তার প্রভাব পড়েছে ঘোড়ার এই ব্যবসার ওপরেও।
শেষমেশ ব্যবসার চাহিদা না মেটাতে পেরে ঘোড়াও মারা পড়েছে।
ফরিদা ইয়াসমিনের ভাষ্যমতে তারা নানা দ্বারে গিয়েছেন সাহায্যের জন্য কিন্তু যথাযথ সাহায্য পাননি।
একটি বেসরকারি মোটর কোম্পানি অবশ্য ৫৫টি ঘোড়ার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু ঘোড়ার মরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি।
ঘোড়ার মালিকরা বলছেন, না খেতে পেয়েই মারা পড়ছে ঘোড়াগুলো।
অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি খাড়া করে বলেছেন, "আমরাই খেতে পাই না।"
কক্সবাজার প্রশাসন একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আইনি নোটিশ দেয়া সংগঠনগুলোকে।
এই তদন্ত কমিটি ঘোড়ার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখবে।








