ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: মিউকরমাইকোসিস সন্দেহে ঢাকায় একজনের মৃত্যু, চিকিৎসা চলছে আরেকজনের

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ খুবই মারাত্মক যা নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কেও আক্রমণ করে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ খুবই মারাত্মক যা নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কেও আক্রমণ করে।

ঢাকার বারডেম হাসপাতালে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে চিকিৎসকরা সন্দেহ করছেন।

তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বিভিন্ন লক্ষণ ও রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ব্যাপারে সন্দেহ করলেও, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

এই হাসপাতালে এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত আরো একজন রোগীর চিকিৎসা চলছে।

বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''আমরা একজনের (ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার) ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি, তার চিকিৎসা শুরু করে দিয়েছি।''

''আরেকজন মারা গেছেন তিনদিন আগে, তার ব্যাপারে আমাদের মনে হচ্ছে যে, তার হয়তো ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছিলেন। এখনো আমরা কনফার্ম না, তবে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে সন্দেহ আরও বাড়ছে। কালচার রিপোর্ট পাওয়ার পর এই ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।''

৬৫ বছর বয়সী এই রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ছিল। সেই সঙ্গে কিডনির জটিলতাও ছিল।

বারডেমের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, বারডেম হাসপাতালে যিনি ভর্তি রয়েছেন, তার অবস্থা উদ্বেগজনক নয়।

''কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও তাদের জ্বর আসছিল, নিউমোনিয়া ভালো হচ্ছিল না, এসব কারণে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন,'' তিনি বলছেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি সাতক্ষীরায়। সেখানে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার পরেও তার জ্বর আসতে শুরু করে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন।

তার ডায়াবেটিস রয়েছে।

অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে সবার আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।

''ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আমাদের পরিবেশে সবসময়েই থাকে। মানুষের শরীরেও সবসময়ে থাকে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে তখন এটা রোগ হিসাবে দেখা দেয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাক, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।''

তবে এই রোগটি ছোঁয়াচে নয়।

কিন্তু বিরল এই ছত্রাকের সংক্রমণ খুবই মারাত্মক যা নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কেও আক্রমণ করে।

ভারতে যখন কোভিড-১৯ সংক্রমণের ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ কেড়ে নিচ্ছে বহু মানুষের জীবন, তছনছ করে দিচ্ছে জনজীবন, তখন ভারতের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত এখন ধরা পড়ছে কোভিড থেকে আরোগ্যের পথে বা সুস্থ হয়ে ওঠাদের শরীরে বিরল এক সংক্রমণ- যার নাম "ব্ল্যাক ফাঙ্গাস'' বা বৈজ্ঞানিক নাম মিউকোরমাইকোসিস।