বাংলাদেশে কাল ঈদ, ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় শেষদিনেও

ছবির উৎস, Mir Nasiruddin Ujjal
বাংলাদেশে ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষের ব্যাপক ভিড় অব্যাহত আছে, তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আরও সক্রিয় হয়েছে বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আগামীকাল শুক্রবার দেশটিতে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর পালিত হবে।
লকডাউন ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন, যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং রেল বন্ধ থাকায় ঈদের আগে বাড়ি ফেরার নিয়ে গত এক সপ্তাহ যাবত দেশটিতে নানা ঘটনা ঘটে চলেছে।
পরিবহণ সংকট থাকলেও নানা উপায়ে হাজারো মানুষের জনস্রোত অব্যাহত আছে দেশের বিভিন্ন দিকে যাওয়ার ফেরিঘাটগুলোতে।
সবশেষ বুধবার দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাওয়ার পথে ফেরিতে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজারে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে মারা গেছে পাঁচজন।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Mir Nasiruddin Ujjal
তবে মুন্সিগঞ্জের সাংবাদিক মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল বলছেন, আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম হলেও বৃহস্পতিবারও ফেরিগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের।
যাত্রীদের সাথে এই ফেরিঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও বিপুল পরিমাণে বেড়েছে ।
তবে ঘাটে বিজিবি কাজ করছে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে, বলছিলেন তিনি।
অন্যদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও ভিড় থাকলেও ফেরি স্বল্পতা দেখা যায়নি বলে যাত্রীরা সহজেই ফেরি পাচ্ছিলেন। যদিও ঝড়ের কারণে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বন্ধ আছে ফেরি চলাচল।
তবে বুধবারই মোটর সাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ী, ছোট ছোট যানবাহন ও পায়ে হাঁটা হাজার হাজার মানুষের প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিলো পাটুরিয়া অভিমুখী সড়কে।
যদিও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় একুশটি জেলায় যাওয়ার এই রুটে খুব বেশি চাপ দেখা যাচ্ছেনা।

ছবির উৎস, Mir Nasiruddin Ujjal
অন্যদিকে যমুনা সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছে হাজার হাজার যানবাহন। বুধবার এ সেতু দিয়ে যান পারাপারের রেকর্ড হয়েছে অর্থ আয়ের দিক থেকে।
ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মূলত ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটর সাইকেলসহ স্থানীয় ছোট যানবাহনই চলছে সড়কে।
যদিও গত দুদিন এ সড়কে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ ছিলো ও কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের খবর এসেছিলো।
ওদিকে দ্বিগুণ তিনগুণ দামে টিকেট নিয়ে বাড়ী যেতে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ভ্রমণ করছেন অনেকে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে বরিশাল এসেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলছেন, "দুটি রুটেই ঈদের স্বাভাবিক সময়ে যেরকম ভাড়া বাড়তো এবার তার দ্বিগুণেরও বেশি টাকায় টিকেট নিতে হয়েছে"।
অন্যদিকে বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছেন নাজমুল আলম। তিনি বলছেন, ঢাকায় আসার যাত্রীর বেশি চাপ না থাকলেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ টাকায় টিকেট কিনতে হয়েছে।








