কোন ধরণের আগুন কীভাবে নেভাবেন

নারায়নগঞ্জে বিস্ফোরণে দেয়াল উড়ে যায়

ছবির উৎস, MARZIYA RAHMAN

ছবির ক্যাপশান, নারায়নগঞ্জে বিস্ফোরণে দেয়াল উড়ে যায়
    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে আজ দুইটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অন্তত ৩০জন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে অন্তত ১০ জনকে।

এই দুইটি আগুনের সূত্রপাত দু'টি কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ফায়ার সার্ভিস বলছে ।

নারায়ণগঞ্জের আগুনের কারণ গ্যাসের চুলার লিকেজে জমে থাকা গ্যাস ।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে পুরোনো ঢাকার আরমানিটোলায়।

হাজী মুসা ম্যানসন নামে ঐ ভবনের নিচতলা থেকে রাত সাড়ে তিনটা দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটির নিচতলায় একটি রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে রাসায়নিকের এই গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত।

আগুনের পাঁচটি ধরন

আগুন বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। ফায়ার সার্ভিস থেকে বলছে আগুনের পাঁচটি ধরন রয়েছে।

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা গাজীপুর সেনানিবাসের উপ-সহকারী পরিচালক এবং সহকারী ফায়ার অফিসার দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন আগুনের ধরন বুঝে আগুন নেভানো উচিত।

আগুনের বিভিন্ন ধরনকে ৫ভাগে ভাগ করেছে দমকল বাহিনী। যেমন;

এ-পুড়ে ছাই বা কয়লা হয়ে যায় এমন আগুন

বি-তেলের আগুন

সি-গ্যাসের আগুন

ডি-ধাতব পদার্থের আগুন

ই-ইলেকট্রিক আগুন

কীভাবে আগুন নেভাবেন

দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন, আগুন ধরলে প্রাথমিক ভাবে বুঝতে হবে আগুনের ধরন কেমন, নেভানোর জন্য সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, যেকোন আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানি, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে।

২০১৯ সালে চকবাজারে এই ভবটিতে আগুন ধরে যায়
ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সালে চকবাজারে এই ভবটিতে আগুন ধরে যায়

আরো পড়ুন:

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এই তিনটি উপকরণের যেকোন একটি সরিয়ে ফেললে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে এক এক ধরনের আগুন নেভানোর জন্য এক এক ধরনের কৌশল নিতে হয় বলে তিনি জানান।

পুড়ে ছাই বা কয়লা হয় এমন আগুন:

এই আগুনের সূত্রপাত সাধারণত হয় চুলা থেকে।

বাংলাদেশে কাঠ,কয়লা দিয়ে যেসব চুলা জ্বালানো হয় সেখান থেকে এই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এধরণের আগুন নেভানোর জন্য পানি, শুকনো বালি এবং ভেজা বস্তা দিয়ে নেভাতে হবে।

তেলের আগুন:

কোন অগ্নিকাণ্ড যদি তেল থেকে হয় তাহলে সেটা নেভাতে ফোম ব্যবহার করা হয়।

সব আগুন পানি দিয়ে নেভানো যায় না

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সব আগুন পানি দিয়ে নেভানো যায় না

ফায়ার সার্ভিস বলছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফোম এক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। তবে এটা সময়সাপেক্ষ।

তাই ভেজা বস্তা বা কাঁথা দিয়ে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

গ্যাস থেকে আগুন:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস থেকে আগুন ধরলে প্রথমেই চেষ্টা করতে হবে গ্যাসের লাইন বন্ধ করার জন্য।

এর পর বস্তা বা পানি দিয়ে বারি দিতে হবে। এতে করে বাতাস বন্ধ হয়ে যাবে।

ধাতব পদার্থের আগুন:

দেওয়ান সোহেল রানা বলছেন, ধাতব পদার্থের আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না।

এক্ষেত্রে শুকনা বালি দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পুরনো ঢাকার শ্যামপুরে একটি ডাইং ফ্যাক্টরিতে পেইন্ট এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মজুত করা।

ছবির উৎস, ALLISON JOYCE/Getty

ছবির ক্যাপশান, পুরনো ঢাকার শ্যামপুরে একটি ডাইং ফ্যাক্টরিতে পেইন্ট এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মজুত করা।

যেহেতু আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানী, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে - তাই ধাতব পদার্থের আগুন থেকে তাপ সরিয়ে ফেললে আগুন নেভানো সহজ হবে।

বৈদ্যুতিক গোলযোগের আগুন:

বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. ইয়াছির আরাফাত বলেন, ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট বা গোলযোগ থেকে আগুন ধরলে কখনোই সেই আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না।

তিনি বলছিলেন, এতে করে যে ব্যক্তি পানি দেবেন তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবেন।

দেওয়ান সোহেল রানা বলছিলেন, এখানে অনেকে ভুলভাবে পানি দেন।

তিনি বলেন "পানি দেয়া যাবে ছুঁড়ে বা কাটা কাটা ভাবে। যাতে করে আপনার সাথে পানির কোন ছোঁয়া না থাকে অর্থাৎ পানি থেকে আপনাকে বিযুক্ত থাকতে হবে"।

ড. ইয়াছির আরাফাত বলেন "এই আগুন নেভানোর জন্য কার্বন ডাই অক্সাইড দরকার হয়। এক্ষেত্রে এবিসিই ড্রাই পাউডার ব্যবহার করা হয়"।

আর ইলেকট্রিসিটির লাইনটা বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে আগে।

রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট আগুন:

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট আগুন খুব সতর্কতার সঙ্গে নেভাতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাসায়নিকের মধ্যে নানা রকমের উপাদান রয়েছে।

তাই ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে যেয়ে পর্যবেক্ষণ করে পদ্ধতি বের করতে হয়।

দেওয়ান সোহেল রানা বলেনও, প্রাথমিক ভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এবং কুয়াশা আকারে পানি দিয়ে নেভানো যায়।

তবে এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সাহায্য নিতে হবে।

আর যেকোন আগুনের ঘটনায় সবার আগে ফায়ার সার্ভিসকে ডাকতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: