লকডাউন: 'বিধিনিষেধ' এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, শিগগিরই আসছে প্রজ্ঞাপন

রিকশা উল্টো করে রাখা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিধিনিষেধ চলাকালে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। গত কয়েকদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রিকশা উল্টো করে রাখতে দেখা গেছে।
Published

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় চলমান সর্বাত্মক লকডাউন বা 'বিধিনিষেধ' আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার বিবিসিকে জানিয়েছেন, সচিবদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অচিরেই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সকালে মন্ত্রীপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়, এতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রধানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বিবিসিকে বলেন, তারা আরো দুই সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সকালে সচিবদের বৈঠকে এক সপ্তাহ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, "ঈদের আগে শিথিল করার চিন্তা আছে"।

এর আগে, রবিবার রাতে এক বৈঠক করে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

এতে বলা হয়, সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউন দিয়ে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না বলেও পরামর্শক কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়।

গত চৌদ্দই এপ্রিল শুরু হওয়া এক সপ্তাহের লকডাউন শেষ হবার কথা ছিল একুশে এপ্রিল মধ্যরাতে।

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner
বাংলাদেশে 'লকডাউন' কার্যকর করতে রাস্তায় নামে পুলিশ।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে 'লকডাউন' কার্যকর করতে রাস্তায় নামে পুলিশ।

প্রতি পনের মিনিটে এক জনের মৃত্যু:

গত কয়েকদিন ধরে নতুন রোগী শনাক্তের পরিমান কিছুটা কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রবিবার পর্যন্ত টানা তিনদিন প্রতিদিন শতাধিক করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ১৩৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে গত তিনদিনের মৃত্যুহার বিবেচনা করলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে প্রতি ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।

আর এপ্রিল মাসের মৃত্যু হার বিবেচনা করলে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই মাসে প্রতি ১৮ মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।

দেশটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে কারও মৃত্যুর কথা সর্বপ্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের ১৮ই মার্চ। তবে গতকালের আগে পর্যন্ত এই ১৩ মাসে মৃতের সংখ্যা এর আগে কখনোই তিন অংক ছোঁয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

বর্তমানে কোভিড আক্রান্তের হার ১৯.০৬ শতাংশ।

কারিগরি কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরী সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। খোলা রাখা জরুরি সেবার তালিকাও প্রকাশ করার অনুরোধ করা হয়। সেটি না হলে বিরুপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সম্প্রতি লকডাউনের সময় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্খিত ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে 'লকডাউন' কার্যকর করতে পারেনি সরকার।

একই সাথে খোলা জায়গায় বাজার বসানো যেতে পারে বলেও প্রস্তাব করা হয়।

করোনা সনাক্ত পরীক্ষা মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসতে সরকারি নমুনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পিসিআর টেস্ট কিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার মূল্য পুনর্নিধারণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষা হলে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়বে উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়, রোগীদের পরীক্ষা রিপোর্ট দ্রুত দিয়ে আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা যাবে যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গর্ভবতী করোনা আক্রান্ত বা আক্রান্ত নয় এমন নারীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়। প্রয়োজনে নতুন ডিএনসিসি হাসপাতালে মায়েদের জন্য বিশেষায়িত আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিতেরও পরামর্শ দেয়া হয়।