করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতালটিতে যা থাকবে

এক হাজারের বেশি শয্যার এই হাসপাতালটিতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের চিকিৎসা সুবিধা থাকবে বলে বলা হচ্ছে।

ছবির উৎস, মেহেদী হাসান

ছবির ক্যাপশান, এক হাজারের বেশি শয্যার এই হাসপাতালটিতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের চিকিৎসা সুবিধা থাকবে বলে বলা হচ্ছে।
    • Author, নাগিব বাহার
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে শুধুমাত্র করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত বৃহত্তম হাসপাতাল চালু হয়েছে রবিবার। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত এই হাসপাতালকে বলা হচ্ছে 'ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল।'

এক হাজারের বেশি শয্যার এই হাসপাতালটিতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের চিকিৎসা সুবিধা থাকবে বলে বলা হচ্ছে।

হাসপাতালটির কার্যক্রম বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে, তবে হাসপাতালটির সার্বিক তত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মহাখালীর যেই ভবনটিতে এই হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছে সেটি তৈরি করা হয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাঁচা বাজার তৈরি করার জন্য। গত বছর বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করলে ছয় তলা ভবনটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করে।

এরপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে কোভিড সংক্রমণ কমে যাওয়ায় গত বছরের ১৩ই জুলাই আইসোলেশন সেন্টারটি স্থগিত করে বিদেশ গামীদের জন্য আরটিপিসিআর টেস্ট করার সেন্টার তৈরি করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশে দিন দিন করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সেন্টারটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।"

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, "ঢাকা শহরে এই মুহূর্তে সব মিলিয়ে যতগুলো আইসিউ সুবিধা রয়েছে, শুধু এই হাসপাতালেই তার চেয়ে বেশি আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে।"

আরো পড়তে পারেন:

হাসপাতালে ৫০০র বেশি শয্যায় আইসিইউ সমমান সুবিধা দেয়া সম্ভব বলে বলা হচ্ছে

ছবির উৎস, মেহেদী হাসান

ছবির ক্যাপশান, হাসপাতালে ৫০০র বেশি শয্যায় আইসিইউ সমমান সুবিধা দেয়া সম্ভব বলে বলা হচ্ছে

যেসব সুবিধা থাকবে হাসপাতালটিতে

ছয় তলা ভবনটি প্রায় ২২ বিঘা জায়গার ওপর তৈরি করা হয়েছিল। পুরো হাসপাতালটিতে শুধু করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক হাজারের বেশি শয্যা রয়েছে। এই হাসপাতালে থাকবে:

  • আইসিইউ সুবিধাসহ ২১২টি শয্যা - ১১২টি আইসিইউ এবং ১০০টি এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট)
  • বিশেষ সুবিধাসহ ২৫০টি শয্যা - এই শয্যাগুলোতে কেন্দ্রীয় ভাবে অক্সিজেন দেয়ার এবং হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সুবিধা থাকবে
  • ডেডিকেটেড ৪৮৮টি শয্যা - এই শয্যাগুলোতে সিলিন্ডার এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে
  • জরুরি বিভাগে ৫০টি শয্যা
  • ডায়ালাইসিস সুবিধা সহ ৪টি শয্যা

এছাড়াও হাসপাতালটিতে চিকিৎসার কাজ পরিচালনা করার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফসহ প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসার কাজ পরিচালনা করার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফসহ প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ছবির উৎস, মেহেদী হাসান

ছবির ক্যাপশান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসার কাজ পরিচালনা করার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফসহ প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গত বছর ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে একটি বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতাল তৈরি করেছিল সরকার। সেসময় ঐ হাসপাতালটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতাল বলে বলা হচ্ছিল।

তবে দুই হাজার শয্যার ঐ হাসপাতালটি মূলত আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেখানে কোভিড চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ, আইসিইউ সুবিধা বা ভেন্টিলেটর থাকলেও কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় তা ব্যবহৃত হয়নি।

পরে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে কোভিড সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হওয়ায় এবং হাসপাতালে রোগী কমে যাওয়ায় ঐ হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণার নির্দেশনায় বসুন্ধরা গ্রুপকে হাসপাতালে ব্যবহৃত বেড এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।