এডিটার'স মেইলবক্স: বিসিএস আর ডিএসএ নিয়ে প্রশ্ন, তাসনুভা নিয়ে আশা

ছবির উৎস, AFP
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিতর্ক এখন বেশ জোরে শোরেই চলছে। যারা মন্তব্য করছেন তাদের প্রায় সবাই এই আইন বাতিলের দাবি করছেন। তবে এখানে ভিন্নমতও আছে।
যেমন লিখেছেন সাতক্ষীরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন:
''বর্তমানে অনেকেই বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বাতিল করতে বলছেন। তবে আমি এটার পক্ষে নই। কারণ, এটা বাদ দিলে আমরা আরো বেশি সমস্যায় পড়বো। এবং ভবিষ্যতে এমন কোন আইন পুনরায় চালু করতে চাইলে, কেমন জটিলতা দেখা দিবে সেটা গভীরভাবে চিন্তা করেছেন? প্রয়োজনে এটার কিছু ক্ষতিকর বিষয় সংশোধন করা হোক। তাছাড়া সবার বাক বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা মানে এই নয় যে, যা খুশি তাই করবো, বলবো ও লিখবো।
''বাংলাদেশে অনেকে মিথ্যা তথ্য দেয়, গুজব ছড়ায়, ফেসবুক - ইউটিউবের মত মাধ্যমে কাউকে প্রমাণ ছাড়া বিপদে ফেলার জন্য কোন ঘটনা ঘটায়। এগুলোর দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা থাকুক, এটা চাই। কিন্তু আমরা যদি কোন দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রীর নাম লিখে প্রতিবাদ জানাই, তাহলে কেন জনগণকে উস্কানিমূলক মামলায় জড়ানো হবে, হয়রানি ও অমানুষিক অত্যাচার চালাবে?''
আপনার আশঙ্কা মোটেই অমূলক নয় মি. হুসাইন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ অপরাধের শিকার হলে তাদের অবশ্যই আইনগত প্রতিকারের রাস্তা থাকতে হবে। তবে এই আইনের ব্যাপকতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি তার ব্যবহারের ধরন নিয়ে অভিযোগ আছে। আইন সংস্কার করা যাবে। কিন্তু আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার যদি থামানো না যায়, বা এই আইন ব্যবহার করে যদি নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়, তাহলে সমাধান তো কিছুই হবে না।

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেয়া আর না নেয়া নিয়ে বিতর্কের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে সরকারি চাকরি বা বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক। এ নিয়ে কয়েকজন লিখেছেন যাদের মধ্যে আছেন রনি আহমেদ, তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন তা বলেননি:
''করোনা সংক্রমণের হার গত কয়েকদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু ১৯শে মার্চ এ ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রায় ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। চিন্তার বিষয় এই যে, এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন করোনা পজিটিভ হচ্ছেন, এবং তারা নিয়মিত তাদের রিপোর্টসহ সংশয়ের কথা ফেসবুকে শেয়ার করছেন। তারা এই করোনা নিয়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
''এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই পরীক্ষাটি নেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? আমরা সকলে মনে প্রাণে চাই, সকলের করোনা ভ্যাক্সিন নিশ্চিত করার পরে পরীক্ষাটা নেওয়া হোক। এই মুহূর্তে ভ্যাক্সিন ছাড়া পরীক্ষা দিয়ে ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থীর বৃদ্ধ মা বাবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনা।''
বিষয়টি সত্যি জটিল মি. আহমেদ। সরকারকে যেমন স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে হবে, তেমনি তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন পিছিয়ে না যায়। সরকার নিশ্চয় প্রত্যেকটি পরীক্ষা হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সিট সাজাবে, এবং অন্যান্য সব স্বাস্থ্য বিধি কঠোর ভাবে আরোপ করবে। যদি সেটা তারা না পারে, তাহলে সেরকম ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নিউজ প্রেসেন্টার হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''তাসনুভা শিশির, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে সত্যি একটি বিরাট মাইল ফলক। কেউ কি কখনো ভাবতে পেরেছে যে, বাংলাদেশের মিডিয়াতে, তাও আবার নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করবে একজন ট্রান্সজেন্ডার মহিলা? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
''আসলে তাসনুভা শিশির অনেক শিক্ষিত একজন মানুষ যার কারণে তিনি নিজ যোগ্যতায় এখানে স্থান করে নিয়েছেন। তার মত করে আমাদের দেশে যদি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাহলে তাদের দুর্দশা অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আমার মনে হয়।''
আসল কথা হল মি. বিল্লাহ, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। তা না হলে, শিক্ষিত হয়ে, যোগ্যতা অর্জন করেও তাদের সংগ্রাম করতে হবে। তবে তাসনুভা শিশিরকে দেখে মনে হচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো বদলাতে শুরু করেছে।
ভিন্ন ধরণের বৈষম্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''আমাদের সমাজ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে আমাদের দেশও। এত কিছু বদলাচ্ছে কিন্তু আদৌ কি আমরা আমাদের মানসিকতা বদলাতে পেরেছি? একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বুঝি আমরা মান্ধাতার আমলের ধ্যান-ধারণা থেকে বের হতে পারিনি। তা না হলে আজও কেন কালো -ফর্সার ভিত্তিতে নারীদের সৌন্দর্য নির্ধারিত হয়? বর্ণ বৈষম্যের এই ঘেরাটোপ থেকে যদি বের না হতে পারি তবে বাহ্য দৃষ্টিতে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও আমাদের মানসিকতার ক্ষমতায়ন আদৌ হবে না কখনও।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হক। এটা শুধু বাংলাদেশ না, গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে এই মন-মানসিকতা বিরাজ করছে। আমি ধরে নিচ্ছি আপনার প্রশ্নটা এসেছে ঢাকার প্রথম আলো পত্রিকায় 'কালো তবু সুন্দর' শিরোনাম থেকে। সুন্দরের সাথে গায়ের রং কেন উল্লেখ করা হবে, তাও একটি তবু জুড়ে দিয়ে, সেটাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে। উত্তরটা সবারই জানা। বাংলাদেশের সমাজ কালো রংকে সুন্দর হিসেবে গণ্য করে না। কেউ ফর্সা হলেই সে সুন্দর কিন্তু কালো হলে তাকে সুন্দর ভাবা হবে না, বা কেউ ভাবতে চাইলেও সেখানে একটি তবু জুড়ে দেয়া হবে। এই মানসিকতা আইন করে বদলানো যাবে না। সমস্যাটা আসে পরিবার থেকে, এবং সেখানেই এর সমাধান।

ছবির উৎস, Courtesy Rajib Gangulee
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম দুই নারী স্নাতকের একজন, কাদম্বিনী গাঙ্গুলিকে নিয়ে মানসী বড়ুয়ার ফিচার ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''উনিশ শতকে বাঙলার সমাজে পশ্চাৎপদ এবং বহু প্রতিকূলতায় জর্জরিত নারী জীবনের সব রকম সামাজিক বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে ইতিহাস তৈরি করা বাঙালি নারী কাদম্বিনী গাঙ্গুলিকে নিয়ে মানসী বড়ুয়ার প্রতিবেদনটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত হলাম।
''তবে প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে কৌতূহলী মনের একটি প্রশ্ন হল, আপনাদের কিছু প্রতিবেদনে প্রতিবেদনকারীর নাম থাকলেও অনেক প্রতিবেদনে থাকে না। এক্ষেত্রে নাম উল্লেখ না থাকা প্রতিবেদনগুলো তাহলে কারা তৈরি করে থাকেন। আর বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক সাবির মুস্তাফাকে এডিটার'স মেইলবক্স আর প্রীতিভাজনেসু ছাড়া অন্য কোথাও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায় না কেন?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. চৌধুরী। যেসব প্রতিবেদন নিজস্ব উদ্যোগে, তথ্য সংগ্রহ করে, সাক্ষাৎকার নিয়ে তৈরি করা হয়, সেগুলোতে প্রতিবেদকের নাম থাকে। আর যেগুলো অন্য সূত্র থেকে খবর নিয়ে, বা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে করা হয়, সেগুলোতে লেখকের নাম দেয়া হয় না। আর আমি প্রীতিভাজনেসু এবং এডিটার'স মেইলবক্স তৈরি করি কারণ, এই চিঠি-পত্রের আসর আমাদের জবাবদিহিতার জায়গা। আরো হরেক রকমের কাজের কারণে অনুষ্ঠানের অন্য কোথাও যুক্ত থাকার সময় আমার হয় না।
কাদম্বিনী গাঙ্গুলিকে নিয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''প্রতিবেদনটি পড়ে খুবই অনুপ্রাণিত হলাম এবং তার সংগ্রামের কাহিনী পড়ে মনে হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্পে কাদম্বিনীর মতো সেও 'মরিয়া প্রমাণ' করিল সে 'মরে নাই'। কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ছিলেন সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক। তিনি প্রতি পদে লড়াই করে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। মানুষের ইচ্ছা শক্তির কাছে আসলে সবকিছুই তুচ্ছ এবং কাদম্বিনী গাঙ্গুলি সেটাই প্রমাণ করেছেন। ইতিহাস সৃষ্টিকারী সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য বিবিসি বাংলাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিস ফেরদৌসি, আমাদের প্রতিবেদন আপনাকে প্রেরণা দিয়েছে জেনে আমাদের ভাল লাগল।

বিবিসি বাংলার নতুন সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ #trending তার যাত্রা শুরু করলো সোমবার আট তারিখে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''ফয়সাল তিতুমীর এর উপস্থাপনায় বাংলাদেশ #trending এর প্রথম পর্বটি দেখলাম। অসাধারণ উপস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ডিং বিষয় গুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখার প্রচেষ্টা, সব মিলে অনুষ্ঠানটি বেশ উপভোগ করলাম। চমৎকার উপস্থাপনার জন্য মি. তিতুমীরকে অভিনন্দন এবং তার সফলতা কামনা করি। একই সাথে বিবিসি বাংলাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করার জন্য।
''তবে এখানে একটি বিষয় আমি জানতে চাইব, বাংলাদেশ #trending সম্প্রচারের জন্য সোমবার-এর প্রবাহকে বন্ধ করে দিতে হলো ঠিক কি কারণে? বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহের দর্শক কি কমে যাচ্ছে বলে আপনারা মনে করছেন?''
না মি. সরদার, প্রবাহর দর্শক কমছে না। প্রথমত, দু'দিন প্রবাহ রেখে আমাদের দর্শক সংখ্যা খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না। তবে নতুন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন দর্শক আকর্ষণ করা সম্ভব। তাছাড়া, চ্যানেল আইতে আমাদের জন্য সপ্তাহে তিনটি দিন বরাদ্দ আছে। আমরা ক্লিক বহাল রেখে বাংলাদেশ #trending চালু করছি, কাজেই প্রবাহর একটি পর্ব বাদ দিতেই হবে।
মি. সরদার আরো জানতে চেয়েছিলেন, কি কারণে এমন একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের প্রেস রিলিজে দেয়া বক্তব্য আবার বলি, আর সেটা হচ্ছে. ''বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যেহেতু খবরের জন্য ক্রমশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে, তাই এই প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি । এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের আমরা চলমান ট্রেন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো এবং তাদের সাথে নিয়ে ভাইরাল খবরের সত্য মিথ্যা যাচাই করবো। এমন কোন বিষয় থাকবে না যেটা 'বাংলাদেশ #trending' এর আওতার বাইরে থাকবে।"

তবে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বটি ভাল লাগেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বিবিসি নিউজ বাংলার নতুন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ #trending খুব একটা ভাল লাগছে না। আমি যে কয়েকটি ছোট ছোট পর্ব ইউটিউবে দেখেছি তার কোনটিতেই তেমন নতুনত্ব খুঁজে পাইনি। বিবিসি প্রবাহ কিংবা ইউটিউবের জন্য যে ছোট ছোট ভিডিওগুলো তৈরি হতো এবং বিষয়বস্তুগুলো যা নির্ধারণ করা হতো সেই রকমই প্রায়।
''শুধু ভিন্নতা বলতে স্যোশাল এ্যাকটিভিস্টদের গেস্ট বানিয়ে তাদের মতামত নেয়া এবং বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ গল্প আড্ডার মতো সময় পার করা।। এ অনুষ্ঠান চালিয়ে গেলে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তরুণ স্যোশাল এ্যাকটিভিস্টদের নিয়ে ফেসবুক লাইভ বাদ দিতে হবে। নতুবা গতানুগতিক হয়ে যাবে সব অনুষ্ঠানগুলো।''
অনুষ্ঠান আপনার ভাল নাও লাগতে পারে মি. শামীম উদ্দিন। কিন্তু এখানে কোন নতুনত্ব খুঁজে পান নি দেখে আমি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছি। বিবিসি প্রবাহর সাথে এই অনুষ্ঠানের কোন মিল আছে বলে আমার মনে হয় না। আর প্রতিটি গল্প ভিন্ন ভাবে, নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবেশনা করা হয়েছে।
সোশাল মিডিয়া এ্যাক্টিভিস্টদের প্যানেলে নিয়ে আসাই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য। তবে আমাদের ফেসবুক লাইভ রাখা হবে কি না, সেটা ভিন্ন ব্যাপার, এই অনুষ্ঠানের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। সব শেষে বলবো, সবে প্রথমটি প্রচার হল, আরো কয়েকটি দেখুন, হয়তো আপনার মত পাল্টাতেও পারে।

বিবিসিকে নিয়ে ছোট প্রশ্ন করেছেন মানিকগঞ্জ থেকে অরবিন্দ রায়:
''বিবিসি প্রায় সারা পৃথিবী জুড়ে অনেকগুলো ভাষায় প্রচারিত হয়। বিবিসির কি কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্য আছে? বিবিসির অনেক খবরই বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত মনে হয়। বিবিসি বাংলার মাধ্যমে কি জানতে পারি বিবিসি ভিশন এবং মিশন?''
বিবিসির ভিশন এবং মিশন নিয়ে বলতে গেলে অনেক অনেক সময় লেগে যাবে মি. রায়। এটুকু বলতে পারি, বিবিসি বিশেষ কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠান প্রচার করে না। বিবিসির মিশন হচ্ছে বিশ্বের সব চেয়ে আস্থাভাজন গণমাধ্যম হওয়া, এবং বিশ্বে যারা অবাধ, নিরপেক্ষ সংবাদ প্রবাহ থেকে বঞ্চিত, তাদের কাছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ ভাবে সংবাদ নিয়ে আসা।
তবে বিবিসি যেহেতু একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান, তাই এটা বলা যায় যে, বিশ্বে বিবিসির গ্রহণযোগ্যতা যত বাড়বে, ব্রিটেনের ভাবমূর্তিও তত উজ্জ্বল হবে। কাজেই, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিবিসি ব্রিটেনের জন্যও সুফল বয়ে আনে।
সব শেষে, প্রীতিভাজনেসু নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:
''আমার জানামতে বিবিসি নিউজ বাংলায় টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো অনুষ্ঠান প্রীতিভাজনেসু। শ্রোতাদের জন্য এক খোলা জানালা। তবে অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করছি, বিশেষ ইস্যুতে, নির্বাচন কালে,অনুষ্ঠান তৈরির ঘাটতিতে বাদ দেওয়ার তালিকায় আগে আসে প্রীতিভাজনেসু। এটি শ্রোতাদের প্রীতিবোধকে খাটো করে দেখার শামিল। করোনার কারণে ২০২০সালে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর বন্ধ ছিল। ফিরে এসেছিল পত্র জবাবের সাথে শ্রোতাদের ফোনালাপ করবে বলে। সে কথা রাখেনি। অন্তত মাসে একটি অনুষ্ঠানে এরকম আয়োজন করা কী খুবই দুরূহ?''
করোনার সময় কিন্তু শুধু প্রীতিভাজনেসু না, বেশির ভাগ ফিচারই বাদ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা চেয়েছিলাম প্রতিটি অনুষ্ঠানে একজন শ্রোতার নিজ কণ্ঠে তার বক্তব্য নিতে। কিন্তু দু:খের বিষয়, প্রীতিভাজনেসুর একটা বড় সমস্যা হল, এখানে ৯৫ শতাংশ পত্র লেখক পুরুষ। আমরা অনুষ্ঠান সেভাবেই করছি, কিন্তু যদি শ্রোতার নিজ কণ্ঠ নেই তখন আমরা চাইবো অর্ধেক নারী, অর্ধেক পুরুষ নিতে। কিন্তু সেটা একবারেই সম্ভব না, কাজেই ওটা আমরা বাদ দিয়েছি।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
মোহাম্মদ আলমগির বাদশা, বদরগঞ্জ, রংপুর।
সুলতান মাহমুদ সরকার, মান্দা,নওগাঁ।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল সদর।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা ।
আহসান হাবিব রাজু, গুড়িয়াদহ , লালমনিরহাট।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।











